নিজের সাথে লড়াইয়ে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ

0
1137

দুর্দান্ত অভিষেকে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে চোটের কারণে মাঝপথে ছন্দ হারান এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আবারও দারুণভাবে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। অবশ্য এর আগে চলতি বছরের আইপিএলেও দেখিয়েছিলেন তিনি কেন সেরা।

এমন মুস্তাফিজকে আইপিএলেও দেখেননি হেনরিকস

Advertisment

হঠাৎ করেই মাঝে কেমন যেন ম্লান হয়ে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। চোট ও অস্ত্রোপচার যে তার পেছনের বড় কারণ তা আর বলতে বৈকি। তবে স্বরূপে ফিরতে বেশি সময় নেননি তিনি। এই বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভালোই শুরু করেন। তবে তার স্বরূপে ফেরার চিত্র ফুটে ওঠে গত এপ্রিলে শুরু হওয়া আইপিএলে। সেই ফর্মকে সময়ের সাথে আরও শাণিত করেছেন কাটারমাস্টার।

জিম্বাবুয়ে সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি, মোট ছয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুইটি খেলেন মুস্তাফিজ। চোটের কারণে বাকি চার ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল তাকে। ওয়ানডে ম্যাচটিতে তিনটি উইকেট পেলেও ছিলেন খরুচে, দিয়েছিলেন ৫৭ রান। টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে ৩১ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখা গিয়েছে সেই দুর্দান্ত মুস্তাফিজকে। অজিদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রতিটিতেই আগের ম্যাচের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচটিতে ৪ ওভারে ১৬ রান খরচ করেন মুস্তাফিজ। শিকার করেন ২টি উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে এসে পান ৩টি উইকেট। তবে খরচ করেন ২৩ রান। যদিও টি-টোয়েন্টির বিচারে ৪ ওভারে ২৩ রান খরচ খারাপ কিছু নয়, তবে তার পরের দুই ম্যাচের তুলনায় সেটি ফিকে।

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটিতে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান করেন মুস্তাফিজ। অন্য কেউ হলে হয়তো অজিদের বিপক্ষে এই স্পেলকে অবিশ্বাস্য বলা যেত, কিন্তু এটা তো মুস্তাফিজ! অবশ্য এই ম্যাচটিতে কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। ডট বল করেছিলেন ১৫টি।

চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেলেও মুস্তাফিজ এই ম্যাচেও নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। ৪ ওভারে এবারও খরচ করেন ৯ রান। সাথে এবার যুক্ত হয় দুইটি উইকেট। একটি মেডেন ওভারসহ ডট বল করেন ১৭টি। বিশেষ করে স্লগ ওভারে মুস্তাফিজের বল ব্যাটে লাগাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে অজি ব্যাটসম্যানদের।

তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররাও। অজি অলরাউন্ডার অ্যাস্টন অ্যাগার তো অকপটেই স্বীকার করেছেন যে তার দেশের তরুণরা মুস্তাফিজের বোলিং দেখে শিখতে না পারায় তিনি হতাশ হচ্ছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে মুস্তাফিজের এই ফর্মে ফেরা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে জন্য স্বস্তির খবরের একটি। বিশ্বকাপের আগে আবার সেখানেই আয়োজিত হবে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব। ভারতে আয়োজিত প্রথম পর্বেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন রাজস্থান রয়্যালসে খেলা এই মুস্তাফিজ।

সবকিছু ঠিক থাকলে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বেও তিনি খেলবেন। ফলে বিশ্বকাপের আগেই সেখানের কন্ডিশনের সাথেও পরিচিত হয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। সেই সাথে মুস্তাফিজের সামনে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আরও বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে ভালো করার হাতছানি থাকবে।