নিশ্চিত নয় আল-আমিনের বহিষ্কারাদেশ!

266492-al-amin-hossain

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

Advertisment

এমন খবর শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউই। প্রস্তুত ছিলেন না আল-আমিন নিজেও। এর আগে অনেকবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন, তবে বিতর্কিত কারণে হয়েছেন এবারই প্রথম। রোববার দুপুরে অনেক টিভি চ্যানেলে হুটহাট ব্রেকিং নিউজ, বিশ্বকাপ দল থেকে বহিষ্কৃত আল-আমিন!

খবরটা একটা বোমা হয়েই এসেছিল। আল-আমিনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবারই প্রথম। অপরাধটাও তেমন দোষনীয় নয়- নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরী করে ফিরেছিলেন হোটেলে। তাই বলে শাস্তিস্বরূপ একজন ক্রিকেটারের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়াটাকে অনেকেই দেখছেন অত্যাধিক কড়াকড়ি হিসেবে।

তবে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ আকসুর কথায় পাওয়া গেছে রহস্যের আমেজ। সংস্থাটির দেওয়া অভিযোগেই বিসিবি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাঁদের ভাষ্য, আল-আমিন কেবল রাত করেই হোটেলে ফেরেননি, তাঁর চলাফেরায়ও পাওয়া গেছে সন্দেহের গন্ধ। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো ব্যাপার যাতে ঘটতে না পারে এজন্য দ্রুতই বিসিবিকে শোকজ করেছে আইসিসি।

তবে নতুন তথ্য এই, এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আল-আমিনের বিশ্বকাপ শেষ! বোর্ড সভাপতি, নির্বাচক কমিটিসহ নির্ভরযোগ্য অনেক সূত্রই জানিয়েছেন এই কথা। আইসিসির নিয়মানুসারে, কোনো খেলোয়াড় অসুস্থ, আহত কিংবা খেলতে অক্ষম না হলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন অবস্থায় তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়ার পর বিসিবির বিপত্তিটা বেঁধেছে এখানেই। খেলতে কোনো অক্ষমতা ছাড়া নিয়মানুসারে আল-আমিনকে দেশে পাঠানো যাবে না। আবার আল-আমিনের ব্যাপারে আইসিসির একটা অংশ সতর্ক করেছে বিসিবিকে। বোর্ড এবার তাই তাকিয়ে আছে আইসিসির দিকেই।

আইসিসি অনুমতি দিলে তবেই কেবল বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে আল-আমিনের। সেক্ষেত্রে আল-আমিনের আরেকটি সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর যদি আইসিসি টুর্নামেন্টের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে গিয়ে আল-আমিনকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেও, তখন ভেস্তে যাবে বিশ্বকাপে আইসিসির দেওয়া নীতি।

এর আগে আল-আমিনের বহিষ্কারাদেশ খবর প্রকাশ করার পাশাপাশি বলা বেশীরভাগ সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, আল-আমিনকে কালই (রোববার) দেশে ফেরত পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হবে আরেক পেসার শফিউল ইসলামকে। শফিউলের অনুভূতি জানতে চেয়ে মিডিয়ায় বেশ আলোড়নও উঠে। এমতাবস্থায় আল-আমিন হোসেনের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে পরিষ্কার কোনো খবর না পাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।

দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এমন ফলাও করে প্রচার করায় সাবেক ক্রিকেটাররা বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বহিষ্কারাদেশের ব্যাপারে আল-আমিনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া জল আরও বেশী ঘোলা করল।

এমন ঘটনায় দলের মনোবল চাঙা থাকতে পারে কি না, এটাই এখন মূল চিন্তার বিষয়।