Scores

"নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রত্যেকদিনই হবে আমার ঈদের দিন"

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে অস্ট্রেলিয়া যাবেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন তাসকিন আহমেদ। সবকিছু ঠিকমতো থাকলে ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের ল্যাবে অ্যাকশন পরীক্ষা দেবেন তিনি। এদিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেতে যেন আর তর সইছে না তাসকিনের। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে যেন প্রত্যেকদিনই হবে তার জন্য ঈদের দিন, এমনটাই জানিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

নিষিদ্ধ শব্দটা যে কারো জন্য সুখকর নয়, সেটিই জানান তাসকিন। রবিবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে তাসকিন এই সময়টিতে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “সত্যি বলতে নিষিদ্ধ শব্দটি আমার জন্যে একটা ‘বোঝা’। নিষিদ্ধ শব্দটি আসার পর আমার প্রত্যেকটি দিনই একটু অন্যরকম কেটেছে!”

দ্রুতই এই নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশের হয়ে মাঠে নামার প্রতিক্ষায় তাসকিন বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ে নিষিদ্ধ। এটা মেনে নেওয়া আমার জন্যে অনেক কঠিন। যত দ্রুত সম্ভব নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেন ফিরে আসতে পারি এবং বাংলাদেশের হয়ে সামনের সিরিজে খেলতে পারি সেজন্য কষ্ট করে যাচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রত্যেকদিনই হবে আমার ঈদের দিন।”

Also Read - ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে সম্মাননা দিলো বিসিএসএ


210947.3

বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেয়ার সাথে একাডেমিক জীবনের পরীক্ষার তুলনা করে তিনি বলেন, “মেট্রিক পরীক্ষার আগে তো একটা প্রস্তুতি থাকে, যেদিন শুনবেন যে ১০ তারিখ থেকে পরীক্ষা। আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে যে তারিখ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। খেতে, ঘুমাতে শুধু চিন্তা।”

অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষা কি আলাদা করে ভাবাচ্ছে তাসকিনকে এমন প্রশ্নে তাসকিন বলেন, “পরীক্ষা তো সব জায়গায় একই হবে। বিসিবি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা যেখানেই হোক না কেন আমি সন্তুষ্ট থাকতাম। পরীক্ষা তো আমাকে দিতেই হতো। কোথায় হচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তিত না। মূল কাজ পরীক্ষা দেয়া। সেটা ঠিকমত দিতে পারলেই হলো।”

বিসিবির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল পেয়েছেন তাসকিন। এদিকে আইসিসির কাছে পরীক্ষা দেবার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, “পরীক্ষা দেওয়ার জন্যে পুরোপুরি প্রস্তুত আমি। যেকোনো পরীক্ষার আগে সবার মধ্যে একটু নার্ভাসনেস কাজ করে। তাই মানসিকভাবেও প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত পেয়েছি, তারা আমার বোলিংয়ে সন্তুষ্ট। আমি নিজেও সন্তুষ্ট। পরীক্ষায় দুই-একটা বলেও যদি দূর্ঘটনাক্রমে সমস্যা হয় তাহলে ঝামেলা হয়ে যাবে। এজন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর পরিশ্রম করেছি।”

 

পরীক্ষার জন্য ইনডোর ও আউটডোরে দুইভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তাসকিন। তাসকিন আহমেদ অনূর্ধ্ব-১৫ থেকেই দেখে আসছেন কোচ মাহবুব জাকির। তাঁরই অধীনে বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি দূর করেছেন এই পেসার। এদিকে পরীক্ষার জন্য সবার কাছ থেকে ভালো মানসিক সাপোর্ট পাচ্ছেন তাসকিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাহবুব আলী জাকি স্যার তিন চার মাস আমাকে সাপোর্ট করছে। জাতীয় দলের কোচরাও সাপোর্ট করছে। হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা হয়েছে। দলের সিনিয়ার ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে সাপোর্ট করছে। সব মিলিয়ে সবার থেকেই ভালো সাপোর্ট পাচ্ছি। সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন।”

আগেরবার টানা খেলার মধ্যে থেকে ভারতের চেন্নাইয়ে গিয়ে দেয়া পরীক্ষায় সফল হন নি তাসকিন। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন তাছাড়া সফল হয়েই দেশে ফিরতে চান এই পেসার “আমি টানা খেলার মধ্যে ছিলাম। হয়তো অবসাদ জিনিসটা ভিতরে ছিলো। এবার নিজেকে ওভাবেই তৈরী করেছি ওনারা যেভাবে পরীক্ষা নেবে আমি সেভাবেই যেন ওভারকাম করতে পারি।”

উল্লেখ্য, ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  ৯ মার্চ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ করা হয় বাংলাদেশের পেসার সেনসেশন তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানিকে। তাই, বিশ্বকাপের মাঝপথেই দেশে ফিরতে হয় এই দুই ক্রিকেটারকে। দেশে ফেরার পর থেকেই বোলিং অ্যাকশন শুদ্ধ করতে কাজ শুরু করেন এই দুই বোলার। এদিকে তাসকিন আহমেদের সাথে স্পিনার আরাফাত সানিরও যাবার কথা রয়েছে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

হঠাৎ যে কারণে জাতীয় দলে আল আমিন-সানি

এনওসি পাবেন না আরাফাত সানিরা!

মিরপুরে সানির ঝলক, রাজশাহীতে ধুঁকছে সিলেট

মানকাডিংয়ের সুযোগ ছাড়লেন আরাফাত সানি

টি-টোয়েন্টিতে আরাফাত সানির উইকেটের শতক