Score

পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে সমতা আনল অস্ট্রেলিয়া

টানা সাত ওয়ানডে এবং ২৮৭ দিন পর জয়ের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে কখনো টানা সাত ম্যাচ পরাজিত হয়নি তারা। অবশেষে অ্যাডিলেডে পরাজয়ের এ বৃত্ত ভাঙতে সমর্থ হয়েছে তারা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এনেছে ১-১ এ সমতা।

পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে সমতা আনল অস্ট্রেলিয়া
অবশেষে জয়ের খরা কাটিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ©ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া টুইটার।

 

Also Read - বোলারদের জন্য পরিবর্তন আসছে আইপিএলের সময়ে?

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ট্রাভিস হেড। ৮ রান করে লুঙ্গি এনজিডির বলে এলবিডব্লিউ হন ট্রাভিস হেড। ১২ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটলে আরেকটি বিপর্যয়ের শঙ্কা উঁকি দেয়।

সেখান থেকে প্রাথমিক বিপর্যয় সামালে দেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ এবং শন মার্শ। অ্যারন ফিঞ্চ এবং শন মার্শ গিলে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন কাগিসো রাবাদা। কাগিসো রাবাদার বলে শন মার্শের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে। তারপর ক্রিস লিনকে সাথে নিয়ে আরো ৩০ রান যোগ করেন অ্যারন ফিঞ্চ। ৪ চারের সাহায্যে ৬৩ বলে ৪১ রান করে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলের বোল্ড হন অ্যারন ফিঞ্চ।

ক্রিস লিন এবং অ্যালেক্স ক্যারে গড়েন ৩৭ রানের জুটি। লড়াকু সংগ্রহের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু থিতু হওয়া কেউ ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। কাগিসো রাবাদার বলে দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ফিরে যান ৪৪ রান করা ক্রিস লিন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর দুইটি ছক্কা। এরপর অ্যালেক্সকে সঙ্গ দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার আগেই ফিরিয়ে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ১৯ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর ছন্দপতন। নিজের পরের ওভারে এসে মার্কুস স্টয়নিসকেও ফেরান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এরপর প্যাট কামিন্স এবং মিশেল স্টার্ককে সাজঘরের পথ দেখান ডেল স্টেইন। ৪ উইকেটে ১৩৩ রান থেকে ১৮৭ রান করতে গিয়ে আরো চারটি উইকেট হারায় অজিরা।

অ্যারন ফিঞ্চ আর শন মার্শের চাইতে অ্যালেক্স অর্ধশতকের আরো কাছাকাছি গিয়েছিলেন। ৭২ বলে ৪৭ রান করে হন কাগিসো রাবাদার তৃতীয় শিকার। শেষ উইকেটে অ্যাডাম জাম্পা আর জশ হ্যাজলউড যোগ করেন ২৭ রান। ২৪ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলেন জাম্পা। তাকে ফেরান রাবাদা। ১০ রান করে অপরাজিত ছিলেন হ্যাজলউড।

২৩১ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর জবাব দিতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি দক্ষিন আফ্রিকার। দলীয় ১৮ রানের মাথায় ফিরে যান ওপেনার কুইন্টন ডি কক। এরপর প্রতিরোধ গড়েন রিজা হেন্ডরিকস এবং এইডেন মারক্রাম। ১৯ রান করে এইডেন মারক্রাম রান আউট হলে এ ২৮ রানের জুটি ভাঙে। পরের ওভারেই ফেরত যান হেন্ডরিকস। ৪৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

হেনরি ক্লাসেনও থিতু হতে পারেননি। ১৪ রান করে ফিরে যান মার্কুস স্টয়নিসের বলে। এরপর ৭৪ রানের জুটি গড়েন ফাফ ডু প্লেসিস আর ডেভিড মিলার। তাদের জুটিতে জয়ের পথে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ জুটি ভাঙেন প্যাট কামিন্স। ৪৭ রান করে ডু প্লেসিস বোল্ড হন কামিন্সের বলে। শেষ পাঁচ উইকেটে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯০ রান, হাতে ১২৪ বল।

দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ডেভিড মিলার। তবে রানের লাগাম ধরতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ৩২ বলে ১৪ রানের মন্থর ইনিংস খেলে হ্যাজলউডের শিকার হন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এরপর ডেল স্টেইনকে বোল্ড করেন মার্কুস স্টয়নিস। ১১ বলে ৩ রান করেন তিনি। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

স্টেইনকে ফেরানোর পরের ওভারেই স্টয়নিস ফিরিয়ে দেন শেষ আশার প্রদীপ মিলারকে। ৫১ রানের ইনিংস খেলেন মিলার। এরপর কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনজিডি মিলে যোগ করেন ১৫ রান। ১৭ বলে ৯ রান করে স্টার্কের বলে বোল্ড হন রাবাদা। শেষ উইকেটে ২২ রান যোগ করেন এনজিডি (১৯ ) ও ইমরান তাহির (১১)। তবে এতে শুধু হারের ব্যবধানই কমে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ অস্ট্রেলিয়া ২৩১/১০, ৪৮.৩ ওভার
অ্যালেক্স ৪৭, মার্শ ৪৪, ফিঞ্চ ৪১
রাবাদা ৪/৫৪, প্রিটোরিয়াস ৩/৩২

দক্ষিণ আফ্রিকা ২২৪/৯, ৫০ ওভার
মিলার ৫১,  ডু প্লেসিস ৪৭,  এনজিডি ১৯*
স্টয়নিস ৩/৩৫, হ্যাজলউড ২/৪২


আরো পড়ুনঃ  ২৮ বছর বয়সী ক্রিকেটারের মৃত্যু, ইংলিশ ক্রিকেটে শোক


 

Related Articles

স্মিথের পাশে দাঁড়ালেন মহাতারকারা

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ওয়ার্নার

ওয়ার্নার-ডি কক কাণ্ডে নতুন বিতর্ক