পর্ব ২ : আ’ত্মহত্যায় চিরবিদায় নেওয়া ক্রিকেটাররা

0
566

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আত্মহত্যার মাধ্যমে শেষ করে দিয়েছেন নিজের জীবনকে। এই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ান ও ইংলিশ ক্রিকেটারদের আধিক্য। তাদের মধ্যে অনেকেরই জাতীয় দলে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার ছিল। আজ দ্বিতীয় পর্বে জানবো এমনই ছয় জন ক্রিকেটারের কথা।

 

Advertisment

আলবার্ট রেফ : ইংলিশ ক্রিকেটার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন ব্যাটসম্যান ও পার্টটাইম বোলার হিসাবে। পরবর্তীতে বোলিংয়ে ভালো করে বনে যান অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে করেছেন ৪১৬ রান ও বল হাতে শিকার করেছিলেন ১৬টি উইকেট।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫৬৫টি ম্যাচ খেলা রেফ ক্রিকেটার হিসাবে সফল ছিলেন। অবসরের পরে কোচিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। স্ত্রীর অসুস্থতা তাকে বিষণ্ণতায় ফেলে দেয়। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে ৫২ বছর বয়সে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন রেফ। মৃত্যুর সময় তিনি ২০,৮৮০ ইউরোর স্থাবর সম্পদ রেখে যান।

উইলিয়াম স্কটন : তিনিও একজন ইংলিশ ক্রিকেটার। মাত্র ৩৭ বছরের জীবন স্টকনের। ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫টি টেস্টে এই ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ ছিল ৫১০ রান। ৩৫ বছর বয়সে শেষ বারের মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন তিনি। তারপর আম্পায়ারিং করেন কিছুদিন। ১৮৯৩ সালের ৯ জুলাই রেজর দিয়ে গলা চিরে আত্মহত্যা করেন স্কটন। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায়নি।

আর্থার শ্রেসবারি : ইংল্যান্ডের পক্ষে ২৩টি টেস্ট ম্যাচে ৩টি শতক ও ৪টি অর্ধশতকে ১২৭৭ রান করেছিলেন আর্থার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও খেলেছিলেন দীর্ঘদিন। ১৮৯৪ সালে অসুস্থতার জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেই বছরটা খেলতে ব্যর্থ হন তিনি। পরের মৌসুমেই আবার মাঠে ফেরেন।

নিজের অসুস্থতা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন আর্থার। তিনি ভাবতেন এই অসুখ থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন না। এক পর্যায়ে বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকেন ক্রিকেটার। বোনের বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন আর্থার।

অ্যান্ড্রু স্টডার্ট : ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা স্টডার্ট একজন বহুমুখী প্রতিভাধর খেলোয়াড় ছিলেন। আর্থার শ্রেসবারি ছিল তার বন্ধু। ইংল্যান্ড ক্রিকেট, রাগবি এবং অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলে অধিনায়কত্ব করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৬টি টেস্টে ২টি শতক ও ৩টি অর্ধশতকে ৯৯৬ রান করেছিলেন স্টডার্ট। উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের খেতাবও জিতেছিলেন স্টডার্ট।

স্টডার্টের কাঁধে ঋণের বোঝা চেপে গিয়েছিল। তাছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। লন্ডনে নিজ বাড়িতেই গায়ে আগুন আত্মহত্যা করেন স্টডার্ট। তাকে গোপনে সমাহিত করা হয়েছিল।

ভিনসেন্ট ট্যানস্রেড : এই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রানের খাতা খুলতে পারেননি। তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলে আবারো দলে ফেরার আশা করেছিলেন। ইংল্যান্ড সফরের দলে থাকা নিয়ে তিনি খুব আশাবাদী ছিলেন কিন্তু সেবার ডাক পাননি তিনি। দলে ডাক না পেয়ে ভীষণ ভেঙে পড়েন ভিনসেন্ট।

দল ঘোষণার কয়েকদিন পরে এক সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গে বন্ধুদের সাথে বিলিয়ার্ড খেলা শেষে উঠে যেয়ে একটি বন্দুক কিনে রুডেপোর্টের হোটেলে ফেরেন তিনি, ক্রিকেট খেলার জন্য সেখানে অবস্থান করতেন। হোটেলে নিজ ঘরে মাথায় তিন বার গুলি করে ২৯ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন ভিনসেন্ট।

আলবার্ট ট্রট : অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড উভয় দলের পক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল আলবার্টের। মাত্র ৫টি টেস্ট ম্যাচে ৩৮ গড়ে করেন ২২৮ রান ও বল হাতে শিকার করেন ২৬টি উইকেট। ১৮৯৯ সালে উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ক্রিকেট ছাড়ার পরে আর্থিক সমস্যা ও দীর্ঘ দিন অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। একটি টুকরো কাগজে তিনি লিখে গিয়েছিলেন, একটি ওয়্যারড্রোব ও ৪ ইউরো রেখে মারা যাচ্ছেন। গুলি করে ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন ইংল্যান্ডের মাটিতে।

তিনি সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রটের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। জোনাথান ট্রটও অবসাদে ভুগে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।