পর্ব ২ : গিনেজ বিশ্বরেকর্ড সম্ভারে ‘ক্রিকেট’

0
747

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাবান ও বিস্ময়কর রেকর্ডগুলো গিনেজ বুকে জায়গা করে নেয়। ক্রিকেট বা ক্রিকেটারদের বেশ কিছু ঘটনা জায়গা পেয়েছে এই রেকর্ডের তালিকায়। আজ দ্বিতীয় পর্বে জানবো গিনেজ বুকে জায়গা পাওয়া ১০টি মাইলফলক সম্পর্কে।

পর্ব ২ গিনেজ বিশ্বরেকর্ড সম্ভারে ‘ক্রিকেট’

Advertisment

সবচেয়ে দামি ব্যাট : ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্যাট হিসাবে গিনেজ বুকে জায়গা নেয় সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট। নিলামে তার ব্যাটটি বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ইউরো বা ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৫ মার্কিন ডলারে।

এটি হলো ২০১১ সালের এপ্রিলে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো সেই ব্যাট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপজয়ী শটটি ধোনি এই ব্যাট দিয়েই হাঁকিয়ে ছিলেন। ব্যাটটি বিক্রি হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে।

দীর্ঘতম টেস্ট ম্যাচ : ইতিহাসের দীর্ঘতম টেস্ট ম্যাচটি খেলেছিল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটিতে কোনো নির্দিষ্ট দিনের ধরা বাঁধা নিয়ম রাখা ছিল না, নিষ্পতি না হওয়া পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ৩ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলা হয়েছিল। খেলার মোট সময় ছিল ৪৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট। দুই দলের মোট রান হয়েছিল ১৯৮১।

তবে নিষ্পতির আগেই ম্যাচটি বন্ধ হয়েছিল কারণ ইংলিশ ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার দিন চলে এসেছিল। দীর্ঘতম টেস্ট ম্যাচ হিসাবে গিনেজ রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে এই ম্যাচটি।

হক-আই প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহার : ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ পল ডকিন্স ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। হক-আই প্রযুক্তি হলো সেই পদ্ধতি যা আটটি ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে বলের গতিপথ নির্ধারণ করে। এই প্রযুক্তির সাহায্যেই লেগ বিফোর উইকেট নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।

২০০১ সালে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার : ১৮৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী রাজা মহারাজ সিং ছিলেন বোম্বের (মুম্বাই) গভর্নর। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হিসাবে ৭২ বছর ১৯২ দিন বয়সে মাঠে নামেন তিনি। ১৯৫০ সালে বোম্বে গর্ভনর একাদশ ও কমনওয়েলথ একাদশের মধ্যকার ম্যাচটিতে ব্যাটিং করতে নেমে তিনি করেছিলেন ৪ রান। ব্যাটিংয়ের আর মাঠে নামেননি মহারাজ।

পর্ব ২ গিনেজ বিশ্বরেকর্ড সম্ভারে ‘ক্রিকেট’
মেহবুব আলম।

রঙিন পোশাকে ম্যাচে একাই ১০ উইকেট শিকার : আইসিসি স্বীকৃত রঙিন পোশাকের ম্যাচে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের ১০টি উইকেট একাই শিকার করেন একজন নেপালি পেসার মেহবুব আলম। ২০০৮ সালে আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লিগ ডিভিশন ভি প্রতিযোগিতায় মোজাম্ববিকের বিরুদ্ধে এই রেকর্ড গড়ে গিনেজ বুকে নাম তুলে নেন এই নেপালি বোলার। তার আগে মাত্র দুইজন ইনিংসে ১০ উইকেট শিকার করতে পেরেছিলেন তবে সেটা টেস্ট ক্রিকেটে, জিম লেকার ও অনিল কুম্বলে।

দীর্ঘতম বোলিং রানআপ : একজন বোলারের বোলিং রানআপ ২.৭ কিলোমিটার! ভাবতে অসম্ভব মনে হলেও এটাই সম্ভব করেছেন জেসন রউসন। ২.৭ কিলোমিটারের এক ম্যারাথন শেষে বল ডেলিভারি করেছিলেন এই বোলার। এই রেকর্ডটি সংঘটিত হয়েছিল ২০১০ সালে সেলসবারি ক্রিকেট ক্লাবের একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। প্রথম ৬ বল শেষেই খারাপ আবহাওয়ার জন্য ম্যাচটি বন্ধ করে আম্পায়ার তবে ততক্ষণে গিনেজ বিশ্ব রেকর্ডে নাম তোলা নিশ্চিত করে ফেলেন রউসন।

অন্ধ ক্রিকেটার হিসাবে সবচেয়ে রানের রেকর্ড : দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বা অন্ধ ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন হয়েছিল ভারতের নয়া দিল্লিতে, ১৯৯৮ সালে। সেই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহ করে গিনেজ বুকে জায়গা করে নেন পাকিস্তানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার মাসুদ জান। তিনি করেছিলেন মোট ২৬২ রান। ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেই আসরের শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান : বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার ৬টি বিশ্বকাপের আসরে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টাকা সবক’টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। মোট ৪৪ ম্যাচে ২২৭৮ রান করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসাবে ২০১১ সাল থেকে গিনেজ বুকে লিপিবদ্ধ আছে তার এই রেকর্ড।

পর্ব ২ গিনেজ বিশ্ব রেকর্ড সম্ভারে ক্রিকেট-

বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে ওয়ানডে অভিষেক : নেদারল্যান্ডের নোলান ক্লার্ক সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়ে গিনেজ রেকর্ড বুকে নাম তুলেছিলেন। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের দিন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর ২৪০ দিন।

সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট : ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হিসাবে গিনেজ বুকে জায়গা পায় ভারতের ইনাড়ু ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন কাপ- ২০১৩। ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট মোট অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৬ হাজার ২১৫ জন ক্রিকেটার।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।