পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়রা দেশের সম্মানের জন্য লড়েন, রাজনীতির মাঠে রাজনীতিবিদদের কাজ দেশকে সঠিক পথে রাখা। ক্রিকেটাররা তাদের কঠোর পরিশ্রম, কাজের প্রতি স্পৃহা, দৃঢ় সংকল্পের জন্য তরুণ প্রজন্মের আদর্শে পরিণত হন। ক্রিকেট মাঠে নিজেদের প্রমাণ করার পর অনেকেই যোগ দিয়েছেন রাজনীতির মাঠে। আজ দ্বিতীয় পর্বে জানবো তেমনই ছয় জন সম্পর্কে।

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

ইমরান খান : ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ তিনি। কারণ রাজনীতিতে পা রেখে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি নতুন দল। কিন্তু শুরুতে অনেক চড়াই উৎরায় পার করে আসতে হয়েছে তাকে। ‘তেহরিক-ই-ইনসাফ’ এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পিছ পা হয়নি ইমরান। নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকে এগিয়ে গিয়েছেন এবং তার সুফলও পেয়েছেন। ২২ বছর অপেক্ষার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন তিনি।

Also Read - দল থেকে বাদ পড়ার কারণ আজও জানেন না রাজ্জাক


পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেটা অধিনায়ক ও ক্রিকেটার ধরা হয় তাকে। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপটি জিতেছে পাকিস্তান। সেই আসরে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইমরান। তারপরেই অবসরে যান তিনি। ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন এই সাবেক অলরাউন্ডার।

আজহারউদ্দিন : ভারতের সাবেক অধিনায়ক আজহারউদ্দিন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত একজন ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনি রাজনীতিতে আসেন ২০০৯ সালে। কনগ্রেসে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ইনিংস শুরু হয়। সেই বছরেই সাধারণ নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন আজহার।

২০১৪ সালে মোরাদাবাদে লোকসভা নির্বাচনে লড়েন তিনি। ২০১৯ সালে তেলেঙ্গানার সেকুনদরাবাদ থেকে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক। তিনি ভারতকে ৪৭টি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

কীর্তি আজাদ : এই সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। অবসরের পরে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন। তার পারিবারিক ঐতিহ্যে মিশে ছিল রাজনীতি। কীর্তির বাবা ভগবত ঝা আজাদ ছিলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

কীর্তি প্রথমে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। দলটির হয়ে তিনি তিনবার বিহারের দারভাঙ্গায় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দল বদলে ফেলেন কীর্তি। বিজেপি ছেড়ে যোগ দেন কনগ্রেসে।

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

মনসুর আলি খান পাতৌদি : তিনিও ভারতের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ধরা হয় তাকে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে গোড়াপত্তনও করেন পাতৌদি। তবে ক্রিকেট মাঠে যথেষ্ট সফল হলেও রাজনীতির মাঠে ভরা ডুবি হয় তার।

দুইবার লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন পাতৌদি। একবারও জয়ের দেখা পাননি। নির্বাচনের সময় তার পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন রাজীব গান্ধী ও ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। তবে তাদেরকে হতাশ হতে হয়েছিল। এরপর আর রাজনীতি করেননি পাতৌদি। বিদায় নেন রাজনীতির মাঠ থেকে।

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

গৌতম গম্ভীর : ভারতের সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর ক্রিকেট থেকে অবসরের পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালের ২২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বিনোদ কাম্বলি : তিনি ক্রিকেট মাঠে একজন ব্যাটসম্যান থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে একজন অলরাউন্ডার। ভারতের মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতেন কাম্বলি। ক্রিকেটার হিসাবেই পরিচিতি ছড়ান। প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ওয়ানডে সংস্করণে নিজের জন্মদিনের দিন শতক হাঁকান তিনি। এছাড়া বলিউড ও টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে কাম্বলিকে।

কাম্বলির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়ে লোক ভারতী পার্টিতে যোগ দেয়ার মাধ্যমে। তারপরেই তিনি দলটি সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে মুম্বাইয়ে নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকারের এই বাল্যবান্ধু। তবে জয়ের দেখা পাননি তিনি।

পর্ব ২ : ২২ গজ থেকে রাজনীতিতে গিয়েছেন যারা

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন