Scores

পাকিস্তানের ভয়ংকর স্মৃতির রোমন্থনে সাঙ্গাকারা

গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দফায় পাকিস্তান সফর করেছে বাংলাদেশ দল। ছোট ছোট সফর কয়েক দফায় করার কারণ দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। এই শঙ্কা ছড়িয়েছিল পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বাসে জঙ্গি হামলা থেকে। এক দশক আগের সেই হামলার ঘটনা স্মরণ করে বাসের সবার জীবন বাঁচানোয় বাসচালককের বুদ্ধির প্রশংসা ও তাকে কৃতিত্ব দিলেন কুমার সাঙ্গাকারা।

পাকিস্তানের ভয়ংকর স্মৃতির রোমন্থনে সাঙ্গাকারা

২০০৯ সালে পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সেই ভয়ঙ্কর হামলার পর থেকে পাকিস্তানে যেতে ভয় পায় অন্যান্য দলগুলো। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও সরকারের তৎপরতায় অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক দলগুলো পাকিস্তান সফর করছে বা করার ইচ্ছাপ্রকাশও করছে।

Also Read - টানা দু’বছর আত্মহত্যার চিন্তা করেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার


গত বছর শ্রীলঙ্কার দুই দফা সফরের পরে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশও পাকিস্তানে গিয়েছিল। ভালোভাবেই এই সফরগুলো সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ বা অনুশীলন না থাকলে সারাক্ষণ হোটেলে বসে সময় কাটাতে একটু এক ঘেয়েমি লেগেছিল ক্রিকেটারদের। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা এই নিয়ে অভিযোগও করেছিলেন।

এখন পাকিস্তানে যাওয়ার আগে দলগুলো কেন নিরাপত্তা নিয়ে এতো শঙ্কিত থাকে তা সবারই জানা। তবে সেই ঘটনার বর্ণনা হয়তো সবার কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার শিকার হওয়ার সেই শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক সাঙ্গকারা স্কাই স্পোটর্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি স্মরণ করেন,

‘এখন পাকিস্তানে যাওয়ার কথার আগেই নিরাপত্তার কথা ওঠে। বাকি দিনগুলোর মতো সেদিনও আমরা বাসে গল্প করতে করতে যাচ্ছিলাম। সন্ধ্যায় কে কী করবে তা আলোচনা করছিল। তখন আমাদের একজন ফাস্ট বোলার মজা করে বলছিল যে এখানের উইকেট একদম ফ্ল্যাট, আমি তো কোনো সুবিধা পারব না; তারচেয়ে একটা বোমা পড়ুক আর আমরা দেশে ফিরে যাই। ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই তা সত্যি হয়ে যায়।’

‘আমরা বন্দুকের শব্দ শুনছিলাম কিন্তু ভেবেছিলাম ওগুলো বাজির শব্দ। আমাদের দলের সংবাহক সামনে ছিলেন এবং তিনি বললেন, নামো, ওরা বাসে গুলি চালাচ্ছে। আমার মনে আছে দিলশান (তিলাকরত্নে), থারাঙ্গা পরানাভিতানা সামনে ছিল। মাহেলা (জয়াবর্ধনে) ঠিক পেছনে ছিল এবং মুরালি (মুত্তিয়া মুরালিধরন) আমার পাশে ছিল।’

সেদিন কীভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন তা যেন আজও অবিশ্বাস্য লাগে সাঙ্গাকারার কাছে,

‘আমরা বাসের করিডোরের ভেতরে লুকিয়েছিলাম। তখনই ওরা গুলি চালানো শুরু করল। যতটা বেশি পারে বাসে গুলি করেছে। গ্রেনেড ও ফায়ার রকেটও ছুঁড়েছিল। জানি না, আমরা কীভাবে বেঁচে ফিরেছিলাম! দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা মৃত্যুবরণ করেছিল।’

বাসচালক বুদ্ধি করে বাস চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন- এর জন্য বাসচালককে কৃতিত্ব দেন সাঙ্গাকার। শ্রীলঙ্কা দলের কয়েকজন ক্রিকেটার আহত হলে তাদের হাসপাতালে নেয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনা হলে সেই অ্যাম্বলেন্সেও গুলি করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত থিলান সামারাভিরাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে অন্যরা ওখানেই থেকে যান।

সাঙ্গাকারার ভাষায়, ‘ওরা আমাদের বাসচালককে মারতে চেয়েছিল কিন্তু মিস করে যায়। উনিই সেদিন হিরো ছিলেন। হয়তো উনিই সেদিন উছিলা হয়ে আমাদের বাঁচিয়েছিলেন। ওই সময়েও বুদ্ধি করে বাস বের করে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। থিলানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তারপর ওরা অ্যাম্বুলেন্সেও গুলি করতে শুরু করে।’

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে আবারো পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। তৃতীয় দফার ওই সফরে একটি ওয়ানডে ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচটি খেলার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে সেই সফর স্থগিত হয়ে গেছে।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

মুছে গেল সেই ফাইনালের ফিক্সিংয়ের অপবাদ

কড়া জেরার মুখে সাঙ্গাকারা, ভক্তদের প্রতিবাদ

সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনেকে সমন পাঠাল পুলিশ

সাঙ্গাকারা-যুবরাজের পরামর্শে নিজেকে বদলাননি সৌম্য

ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের জবাব