পাপনের ধারণার সাথে মিলে গেছে ক্রিকেটারদের ভাবনা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতা বড় ঝড় বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর প্রকাশ্যেই দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেই ঝড় আর অসন্তোষের রেশ গড়ায় বিসিবি সভাপতির বাসভবন পর্যন্ত।

জরুরি ডাকে পাপনের বাসায় তিন সিনিয়র ক্রিকেটার

গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের বাসভবনে তিন সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেন পাপন। এর আগে তিনি বৈঠকে বসেছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সাথে। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ছাড়াও এই বৈঠকে ছিলেন বোর্ড পরিচালক আকরাম খান, নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

Also Read - মুস্তাফিজের দাম দেখে বিস্মিত গম্ভীর


আকস্মিক বৈঠকে কী কথা হল বিসিবি সভাপতির সাথে, তা খোলাসা করেননি কেউই। তবে পাপন জানিয়েছেন, টেস্টে দলের ব্যর্থতা নিয়েই সবার সাথে আলোচনা করেছেন তিনি। দলের ফর্মের দৈন্যদশার পেছনে যে যেসব কারণ জানিয়েছেন, তা মিলে গেছে বিসিবি সভাপতির ভাবনার সাথে।

পাপন বলেন, ‘আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে আমরা যে খেলা দেখেছি, এই খেলা বাংলাদেশ দলের খেলা বলে আমার মনে হয় না। ওদের সাথে বসার কারণ ছিল- প্রত্যেকের কাছ থেকে শুনতে চেয়েছি সমস্যাটা কোথায় বলে তারা মনে করে। সমস্যা কোথায় এটা জানি না বা বুঝি না তা না। ওদের এটা করো, এটা করো না এসব বলে দেওয়ার চেয়ে এভাবেই ওদের একটা প্রসেসের মধ্যে রাখা ভালো। আমি খুশি, আমার যে ধারণা ছিল সমস্যা কোথায়, তার সাথে ওরা যা বলছে তা মিলে যাচ্ছে, নব্বই ভাগই মিলে যাচ্ছে।’

পাপনের দাবি, দলের পরিকল্পনা ও কৌশলে আগের সাথে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তিনি জানতে চেয়েছিলেন কে, কেন এরকম করছে; কিংবা সমস্যাগুলো কেন হচ্ছে।

খেলোয়াড়দের ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় গণমাধ্যমকে পাপন আরও বলেন, ‘ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন গ্যাপ হচ্ছে। একটা উদাহরণ দেই। আগে খালেদ মাহমুদ সুজন আমাদের ম্যানেজার ছিল। বোর্ড ও দলের লিঙ্ক ছিল ও। অন্তত আমি জানতে পারতাম কী হচ্ছে না হচ্ছে। এখন কিন্তু আমি জানি না। মাঠে নামার পর জানতে পারি। এটা তো বিরাট কমিউনিকেশন গ্যাপ।’ 

তবে দ্রুত দলের পারফরম্যান্সের দৈন্যতা কাটিয়ে তোলার প্রত্যাশা পাপনের। তিনি বলেন, ‘এটা সময়ের ব্যাপার। কয়েক মাসের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’