Score

পাপনের মতে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মুশফিক

বাংলাদেশ দলের সফলতম অধিনায়ক কে? এমন প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশ মানুষের মুখ থেকেই যে নামটি বেরিয়ে আসবে, সেটি হলো মাশরাফি বিন মর্তুজা। কারণ ২০১৪ সাল থেকে মাশরাফির অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে হয়েছে নতুন যুগের সূচনা, একের পর এক সাফল্য লাভ করেছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মুশফিক
২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিক।

কিন্তু সফলতম অধিনায়কের প্রশ্নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষপাতিত্ব অবশ্য অন্য আরেকজনের প্রতি। তিনি হলেন মুশফিকুর রহিম। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপন মুশফিককেই অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের ‘সফলতম অধিনায়ক’ হিসেবে।

পাপন কথা বলছিলেন মূলত আসন্ন জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজে মুশফিককে কেন অধিনায়কত্ব দেয়া হবে না, সে প্রসঙ্গে। এবং সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই এক পর্যায়ে তিনি বলেন যে ২০১৪ সালে মুশফিকের কাছ থেকে সীমিত ওভার ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়া ছিল বিসিবি সভাপতি হিসেবে নেয়া তার সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। কারণ অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকই যে ছিলেন সফলতম!

পাপন বলেন, “এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। দ্বিতীয়টি ছিল সাকিবকে সাজা দেয়া। কিন্তু এটির চেয়ে কঠিন আর কিছুই ছিল না, কারণ মুশফিকই ছিল বাংলাদেশের জন্য সফলতম অধিনায়ক।”

Also Read - মুশফিক নয়, জিম্বাবুয়ে টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহই

২০১১ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান অধিনায়কত্ব হারানোর পর বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হন মুশফিক। সেই থেকে ২০১৪ সালের জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন ফরম্যাটেই। কিন্তু সে-বছর জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব তার কাছ থেকে নিয়ে দেয়া হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব অবশ্য থাকে তার কাছেই।

বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মুশফিক ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছিলেন ১১টি। ফলে বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়কদের তালিকায় তার অবস্থান চার নম্বরে। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তার থেকে এগিয়ে আছেন মাশরাফি, হাবিবুল বাশার সুমন ও সাকিব আল হাসান। এবং তার নেতৃত্বেই টানা ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল টাইগাররা। পুরোটা ২০১৪ সাল জয়শূন্য থাকার পরই সীমিত ওভার ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব হারান তিনি।

তবে অধিনায়ক হিসেবে খুব ভালো কোনো রেকর্ড না থাকলেও, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মুশফিক ছিলেন বেশ সফল। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ওয়ানডেতে ৩৪.৩৫ গড়ে ১০৬৫ রান করেন। এর ভিতর আটটি পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে তার খেলা ১১৭ রানের ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর।

তবে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুশফিককে অবশ্যই বাংলাদেশের সফলতম বলতে হবে। ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের শেষ পর্যন্ত মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলেছে ৩৪টি টেস্ট ম্যাচ, যার মধ্যে তারা জিতেছে ৭টি টেস্ট, হেরেছে ১৮টি আর ড্র করেছে ৯টি। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার মত প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ হারাতে সক্ষম হয়েছে মুশফিকের নেতৃত্বেই। কিন্তু তারপরও ২০১৭ সালে এই মুশফিকের নেতৃত্বেই দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি বিভীষিকাময় টেস্ট সিরিজ খেলে বাংলাদেশ দল। দুইটি ম্যাচেই টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেন মুশফিক, এবং শেষ পর্যন্ত দুইটি ম্যাচেই বিশাল ব্যবধানে হারে তার দল। এবং এই ব্যর্থতার জের ধরেই ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সাকিবের কাছে টেস্ট অধিনায়কত্ব হারান তিনি।

এমন কোনো সম্ভাবনা কি আছে যে মুশফিক আবারও হতে পারেন বাংলাদেশ দলের নিয়মিত অধিনায়ক? সে সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দেননি বিসিবি সভাপতি পাপন, বরং তিনি নিজেই উত্থাপন করেছেন এ প্রসঙ্গ। তিনি বলেছেন, মুশফিককে সাময়িকভাবে, অন্য কারও অনুপস্থিতিতে, বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব প্রদানে তার আপত্তি থাকলেও, যদি এমন কোনো প্রস্তাব তিনি পান যে মুশফিককেই আবারও নিয়মিত অধিনায়কের পদে বসানো হবে, সেক্ষেত্রে তিনি সম্মতিই প্রদান করবেন।

“আমাকে যদি বলেন মুশফিককে নিয়মিত অধিনায়ক বানাতে, তবে আমি সেটি নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে কথা বলব। সেটি একদমই ভিন্ন একটি ইস্যু, এবং আমি নিশ্চিত যে তেমনটি হলে আমি সম্মতিই দিতাম। কিন্তু আপনারা একজনকে দায়িত্বে বসাবেন আবার কিছুদিন পর তার থেকে দায়িত্ব কেড়ে নেবেন, মুশফিকের সাথে সেটি হতে পারে না,” তিনি বলেন।

Related Articles

এসিসি প্রধানের দায়িত্ব নিলেন পাপন

শনিবার এশিয়ার ক্রিকেটের প্রধানের আসনে বসছেন পাপন

টেস্টের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি খুশি নন পাপন

নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন সাকিব, তবে খেলার জন্যই ‘না’: বোর্ড সভাপতি

ওনাকে আমরা চাই : মাহমুদউল্লাহ