SCORE

সর্বশেষ

প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সাকিব সহযোদ্ধা

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ( আইপিএল ) এ প্রথমবারের মত দল পরিবর্তন হলো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। সাকিবের নতুন ঠিকানা মুস্তাফিজুর রহমানের সাবেক দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

টানা অনেক বছর একই দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এর পক্ষে একসঙ্গে খেলেছেন ভারতের মারকুটে ব্যাটসম্যান ইউসুফ পাঠান। নতুন টিমেও একে অপরকে সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন। দু’জনের কাজও অনেকটা একই। একাদশে থাকা নিয়ে তাই একটা ছোট্ট মধুর প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশের পোস্টার বয় সাকিব অাল হাসানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালো সঙ্গী হিসেবেই দেখেন ইউসুফ পাঠান।

Also Read - ওয়ালশের ১৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন অ্যান্ডারসন

এবার হায়দ্রাবাদের দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জার্সিতে মাঠে নামার কথা সাকিব ও ইউসুফ পাঠানের। দু’জনই কলকাতার হয়ে দু’বার শিরোপা জিতেছেন। কেকেআরে নাম লেখানোর আগে ২০০৮ সালে উদ্বোধনী আসরের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালসের ভরসার বড় অংশ ছিলেন পাঠান পরিবারের বড় জন।

সাত বছর কেকেআরে কাটিয়ে সানরাইজার্সের হয়ে নতুন মিশনে নামছেন ৩৫ বছর বয়সী পাঠান। সাকিবও বিগত ৭ বছরে কলকাতার ঘরের ছেলে হয়েই গিয়েছিলেন।

আইপিএলের ১১তম আসর সামনে রেখে ‘এনডিটিভি’তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাত বছরের কেকেআর অধ্যায়, ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ও নতুন টিম সানরাইজার্সকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পাঠান।

দলে অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন কি না এমন প্রশ্নে পাঠানের প্রতিক্রিয়া, ‘সাকিব ভালো বন্ধু এবং গ্রেট অলরাউন্ডার। আমরা কেকেআর টিমেও একসঙ্গে খেলেছি। তাই তাকে আমি প্রতিযোগিতার চেয়ে একজন সহচর হিসেবে বিবেচনা করি। একত্রেই দলের সাফল্যের জন্য অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি।’

২০১৬ চ্যাম্পিয়ন দল সানরাইজার্সের হয়ে শক্তি কতটা বাড়াতে পারবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পাঠান বলেন, ‘আমার একটি শক্ত ব্যাটিং লাইনআপ আছে আর আমি মাঝের দিকে নেমে এতে অংশ নিতে চাইব। অন্যদিকে বোলিংয়ে আমার অফ স্পিন বৈচিত্র্য আনবে বলে আমার মনে হয়। দলের প্রয়োজনে বল করতেও প্রস্তুত।’

সাকিব-পাঠান ছাড়াও হায়দ্রাবাদ টিমে অলরাউন্ডার তালিকায় আছেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, মোহাম্মদ নবী, ক্রিস জর্ডান, দিপক হুদা, বিপুল শর্মা, মেহেদী হাসান (ভারত)।

আগামী সোমবার (৯ এপ্রিল) নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে মোকাবিলা করবে সাকিব-পাঠানের সানরাইজার্স। ডেভিড ওয়ার্নারের পরিবর্তে ২০১৬ আসরের চ্যাম্পিয়নদের নেতৃত্ব দেবেন কেন উইলিয়ামসন। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বল টেম্পারিংয়ের অপরাধে নিজ দেশের বোর্ড থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

আসন্ন আইপিএলের ১১তম আসরে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মোট ৮ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার- সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান ও আবুল হাসান রাজু। সেখান থেকে নিলামে ডাক পান ৬ ক্রিকেটার। নিলামের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস। শেষ পর্যন্ত কেবল সাকিব ও মুস্তাফিজই দল পান। সাকিবকে কিনে নেয় মুস্তাফিজের সাবেক দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং মুস্তাফিজকে কিনে নেয় আইপিএলের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

উল্লেখ্য, আইপিএলে ২০১১ সাল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। কলকাতার দুইটা শিরোপা জয়ের স্কোয়াডে ছিলেন সাকিব। তবে ২০১৮ সালের নিলামের জন্য সাকিবকে ছেড়ে দিয়েছিল শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

আইপিএল এ ১৪৯ ম্যাচ খেলেছেন ইউসুফ পাঠান। প্রায় ৩০ গড়ে রান করেছেন ৩০০০ এর কাছাকাছি। ১৩ হাফ সেঞ্চুরির সাথে আছে ৩৭ বলে রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরি। নজরকাড়া ১৪৫ এর স্ট্রাইকরেট আর দেড়শ এর কাছাকাছি ছয়ের মার। বল হাতে নিয়েছেন ৪২ উইকেট। ওভার প্রতি রান খরচ করেছেন সাড়ে সাত এর কিছু কম।

অন্যদিকে ৪৩ ম্যাচ খেলে সাকিব আল হাসান সংগ্রহ করেছেন ৫০০ থেকে দুই রান কম। ১৩০ এর উপর থাকা স্ট্রাইক রেট জানান দিচ্ছে মারমুখিও হতে পারেন সাকিব। ব্যাটিং এর তেমন সুযোগ না পেলেও বল হাতে ভালো করে বরাবরই নজর কেড়েছেন তিনি। ৪৩ ম্যাচে নজকাড়া মাত্র ৭ ইকোনমিতে ৪৩ উইকেট রয়েছে তাঁর।

আরো পড়ুনঃ

‘মাশরাফি ভাইয়ের পারফরমেন্স অসাধারণ উদাহরণ’

Related Articles

আইপিএলে জুয়ার সঙ্গে জড়িত আরবাজ খান!

প্রেসিডেন্টের পরেই স্থান রশিদের!

‘টি-টোয়েন্টি হটাও, টেস্টে মনোযোগ দাও’

পারফরম্যান্স বিবেচনায় সাকিবের মূল্য প্রায় ৯ কোটি!

“আরেক ওভার করলে তো ম্যাচ ওখানেই শেষ!”