Scores

প্রতিরোধবিহীন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের পরাজয়

ম্যাচ শুরু হয়েছিল এভিন লুইসের তাণ্ডবে। তবে সেই তাণ্ডবের রেশ কাটিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল টাইগাররা, দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে। টসের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরে ব্যাট করে জয়ের সুবর্ণ সুযোগও ছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের আত্মঘাতী সব শট বাংলাদেশকে পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেছে। শুরুর মত তাই শেষেও হেসেছে ক্যারিবীয়রা! 

প্রতিরোধবিহীন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের পরাজয়
ছবিটি যেন ম্যাচের প্রতীকী চিত্র! ছবি: বিডিক্রিকটাইম

মিরপুরে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫০ রানে হারিয়েছে সফরকারী উইন্ডিজ। এতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারা দলটি টি-২০ সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন এভিন লুইস ও শাই হোপ। তবে বোলারদের উপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন লুইসই। দলীয় ৭৬ রানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ১২ বলে ২৩ রান করা হোপ। দলীয় ৯০ রানে ২ রান করা কিমো পলকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান।

তবে তাতেও থামেনি লুইসের তাণ্ডব। চড়াও হয়ে খেলে দলকে তিনি এনে দেন বড় সংগ্রহের ভিত। তবে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েও সাজঘরে ফিরতে হয় তাকেও। তার আগে ৮টি ছক্কা ও ৬টি চারের সহায়তায় ৩৬ বলে করেন ৮৯ রান।

Also Read - আজমল-গুলকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় সেরা সাকিব


লুইস বিদায় নেওয়ার পর রানের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে গেলেও নিকোলাস পুরান ম্যাচের মেজাজ অনুযায়ী খেলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান কেবল তিনিই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রভম্যান পাওয়েল ও শিমরন হেটমেয়ারকে সাজঘরে ফেরানোর পর পুরানকে (২৯) আউট করেন মুস্তাফিজ।

এরপরই খেই হারিয়ে ফেলে সফরকারী দল। মুস্তাফিজ কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে সাজঘরে ফেরানোর পর বল হাতে চমক দেখান সাকিবও। তিনি তুলে নেন শেরফানে রাদারফোর্ড ও ফাবিয়ান অ্যালেনের উইকেট। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ওশানে থমাস রান আউট হলে ১৯০ রানে থামে উইন্ডিজের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজ, সাকিব ও রিয়াদ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে ওপেনার তামিম ইকবালকেই হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দলীয় ২২ রানে ৮ রান করা তামিম সাজঘরে ফেরেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের গতি সচল রাখেন লিটন দাস। কিন্তু তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউই। লিটন অবশ্য ক্যারিবীয় বোলারদের উপর চড়াও হয়েই খেলছিলেন।

তবে তাতেও বিপর্যয় প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। দলীয় রান ৮০-তে পৌছাতেই ব্যাটিং অর্ডারের ৫ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন, যার বেশিরভাগই বিলাসী শট খেলতে গিয়ে রীতিমত আত্মহনন। লিটন সাজঘরে ফেরার পর বলার মত স্কোর করতে পারেননি কেউই। বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট থেকে ২৫ বলের মোকাবেলায় আসে ৪৩ রান, যেখানে ছিল ৩টি করে চার ও ছক্কা।

শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও আবু হায়দার রনি পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন শুধু। অন্যদের পারফরম্যান্স এতই বিবর্ণ ছিল যে উল্লেখ করার মত কোনো কীর্তি নেই কারও। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এদিন নির্ধারিত ২০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি টাইগাররা। ১৭ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় দলীয় ১৪০ রানে। লিটনের ৪৩ রানই হয়ে থাকে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এছাড়া ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন আবু হায়দার রনি। ১৭ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান তিনটি চার  একটি ছক্কা। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে কিমো পল একাই শিকার করেন পাঁচটি উইকেট। এছাড়া ফাবিয়ান অ্যালেন দুটি এবং শেলডন কটরেল ও অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট একটি করে উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

টস: বাংলাদেশ
উইন্ডিজ ১৯০/১০ (১৯.২ ওভার)
লুইস ৮৯, পুরান ২৯
রিয়াদ ১৮/৩, মুস্তাফিজ ৩৩/৩, সাকিব ৩৭/৩
বাংলাদেশ 
লিটন ৪৩, রনি ২২*
কিমো ১৫/৫, অ্যালেন ১৯/২
ফল: উইন্ডিজ ৫০ রানে জয়ী। 

আরও পড়ুন: বিসিএল: তিন ম্যাচ খেলে আশরাফুলের গড় ৬২

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

প্রোটিয়াদের সমস্যার সহজ সমাধান করে দিলেন পিটারসেন!

প্রধান নির্বাহীকে বরখাস্ত, বিভিন্ন দাবি তুললো প্রোটিয়ারা

ভারতের বিপক্ষে একাধিক দিবারাত্রির ম্যাচ চায় অজিরা

চলে গেলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক

ধর্মঘটের হুমকি দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারদের