Scores

প্রাপ্তি কেবল শেষ প্রহরেই

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে চলে গেল আরও একটি বছর। ২০১৪ সাল এখন ইতিহাসের অংশ। অন্য সব কিছুর মতো ক্রিকেটও এই বছরে জন্ম দিয়েছে নানা ঘটন-অঘটনের। তবে বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট এবার ‘খরা’ হয়েই ছিল।



পুরো বছরে বাংলাদেশের অর্জন ছিল শুধু জিম্বাবুয়েকে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশই...
পুরো বছরে বাংলাদেশের অর্জন ছিল শুধু জিম্বাবুয়েকে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশই…

 

Also Read - দুই প্রাইমের সাথে জিতেছে মোহামেডান

প্রত্যাশার ফানুশ ছোট তো ছিলই না, বরং তা অন্যান্য বছরগুলোর চেয়ে বেশ বড়ই ছিল। নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ২০১৩ সালে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়েই শুরু হয়েছিল নতুন বছরের ক্রিকেটীয় ক্যালেন্ডার। কিন্তু একসাথে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পেয়ে সাফল্যে ভাসার বদলে বিষাদের কালো ছায়া বয়ে গিয়েছিল দেশের ক্রিকেট উপর।

 

স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজ, এরপর এশিয়া কাপ, অতঃপর বিশ্বকাপ- লম্বা একটা সময়ের জন্যই দেশে এসেছিল শ্রীলঙ্কা। আর একেবারে যখন ফিরে গেছে দেশে, বাংলাদেশ দিয়েছে দু’হাত ভরেই। যার বলি হতে হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। টেস্ট, টি২০ ও ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে যথাক্রমে ১-০, ২-০ ও ৩-০’তে হার। তবুও সামর্থ্য আর পার্থক্যের বিচারে মেনে নিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু দুর্বলতা প্রকাশ পায় এশিয়া কাপে।

ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো বাঘা দলগুলোর টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে মাঠে নামাটা ছিল ভিন্ন ও মধুর এক অভিজ্ঞতা। যদিও এরপরের অভিজ্ঞতাটা তিক্ততার। এই তিন দেশের সাথে সহযোগী ক্রিকেট দেশ আফগানিস্তানের কাছেও হারার পর মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়ে টাইগার ও তাঁদের সমর্থকগোষ্ঠী।

এর পরের মিশন ছিল টি২০ বিশ্বকাপ। ন্যূনতম আশাটা পূর্ণ হয়েছে, নিজের দেশের বিশ্বকাপে সুপার টেনে খেলা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু হংকংয়ের মতো পুঁচকে দলের কাছে হার আর অন্য দলগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পারফরমেন্স হতাশ করে ক্রিকেটপ্রেমীদের। যে প্রশংসা বাংলাদেশ পেয়েছিল বিশ্বকাপে তা কেবল সফল আয়োজক হিসেবেই।

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে খানিক বিরতিতে টাইগার বাহিনী মুখোমুখি হয় ভারতের। যদিও দলটি আদতে ছিল ভারতে দ্বিতীয় সারির। কিন্তু প্রত্যাশার ফানুশ বেশিদূর উড়েনি এখানেও! প্রত্যেক ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও থাকতে হয়েছে জয়হীন। শেষ ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় ২-০ তে সিরিজ জিতে নেয় ভারতের জাতীয় দলের মোড়কে মোড়া দ্বিতীয় সারির দলটি।

প্রেক্ষাপটের বিচারে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বাজে সময় ছিল এরপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র টি২০ ম্যাচটা ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে, বাকী ২ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডেতে পরাজয়ই বরণ করতে হয়েছে। কিন্তু মাঠের ফলাফলের চেয়ে বেশী দৃষ্টি কারছিল মাঠের বাইরের বিষয়গুলোই। সাকিবের উশৃঙ্খলতা, বিসিবির শক্ত হাতে দমন ও সাকিবের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, সোহাগ গাজী ও আল- আমীনের বোলিং একশনে রিপোর্ট ও এর পর সোহাগ গাজীর নিষেধাজ্ঞা- সব মিলে বড় একটা সময় নেতিবাচক খবর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দেশের ক্রিকেট।

সামান্য বিরতি দিয়ে আইসিসির আনঅফিশিয়াল এশিয়ান গেমস সামনে আসে। ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে মূল দলই পাঠায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। কিন্তু সেমিফাইনালে অদ্ভুত টস ভাগ্যে শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ খুইয়ে শেষমেশ রূপা জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় টাইগারদের। সেই টুর্নামেন্টেই অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় মাশরাফির এবং এর কদিন পরই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পান। ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব হারান মুশফিক। দায়িত্ব বর্তায় মাশরাফি-সাকিব জুটির উপর। আর টেস্টে বহাল তবিয়তে থাকা মুশফিকের সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয় তামিমকে।

একের পর একে দৃষ্টিকটু ব্যর্থতার পর সূর্য উদিত হয় একেবারে শেষ বেলায়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে সব মিলে ৮-০ ব্যবধানে জয়ী হয় বাংলাদেশ। টেস্টে ৩-০ ও ওয়ানডেতে ৫-০’তে জিম্বাবুয়াইনদেড় হোয়াইটওয়াশ করায় ঢাকা পড়ে যায় সাড়া বছরের ব্যর্থতা। তামিম-সাকিব-মুশফিকদের নৈপুণে বছরটা অন্তত শেষ হয়েছে ভালো একটা ক্রিকেটীয় মাস দিয়ে। যদিও পেসার রুবেল হোসেনের ব্যক্তিগত বিষয়ের বিতর্কে বেশ আলোচনায় ছিল ক্রিকেট।


Related Articles

ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে মাশরাফি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ

দুদকের শুভেচ্ছাদূত হলেন সাকিব