Scores

ফারুক ভাই নির্বাচক থাকায় আমার এক পয়সাও লাভ হয়নি : নাফীস

ব্যাট হাতে পারফরম্যান্স করে গেছেন নিয়মিতই, এখনো হয়ে আছেন ঘরোয়া দলগুলোর আস্থার প্রতীক, তবু জাতীয় দলে ব্রাত্য থেকে গেছেন দিনের পর দিন। এমন ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গ এলেই যেকোনো বাংলাদেশি সবার আগে উচ্চারণ করবেন শাহরিয়ার নাফীসের নাম। জাতীয় দলের সাবেক এই বাঁহাতি ওপেনার ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন সত্ত্বেও কেন ২০১৩ সালের পর আর দলে সুযোগ পাননি, তা খোদ নাফীসের কাছেই রহস্য। অনেকেই মনে করেন, নাফীসের জাতীয় দলে খেলা হয়ে ওঠেনি সাবেক নির্বাচক ফারুক আহমেদের কারণে।

ফারুক ভাই নির্বাচক থাকায় আমার এক পয়সা লাভ হয়নি নাফীস

জাতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ নাফীসেরই খালাতো ভাই। নির্বাচক পদের স্বচ্ছতাকে আরও ‘স্বচ্ছ’ রাখতে ফারুকই নাফীসকে দলে নিতে চাইতেন না বলে মনে করেন অনেকে। এমনকি নাফীসও মনে করছেন, ফারুক দীর্ঘ সময় নির্বাচকের পদে থাকলেও তার ‘এক পয়সার লাভ’-ও হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে।

Also Read - অর্ধেক ফুসফুস নিয়েই ২২ গজ মাতাচ্ছেন ব্রড






সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইম এর লাইভ আড্ডায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। সেখানে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গে আলাপকালে নাফীস অকপটে বললেন, ‘এক কথায় বলি- ফারুক ভাইয়ের নির্বাচক থাকা আমার জন্য কোনো সুবিধা নিয়ে আসেনি। বরং হয়ত অসুবিধা হয়ে এসেছিল।’

ফারুক কি তবে স্বজনপ্রীতির বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন! নাফীসেরই বা কেন এমন ধারণা? নাফীসের ব্যাখ্যা, নিয়মিত ভালো করেও দলে সুযোগ পাননি, যখন কিনা আপন খালাত ভাই ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচকের ভূমিকায়। যদিও স্বচ্ছতার মধ্যে থেকেও বোর্ডে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে ২০১৬ সালেই পদত্যাগ করেন ফারুক।






নাফীস বলেন, ‘২০১৬ সালে আমি যখন ডাক পাই এবং প্রস্তুতি ম্যাচে রান করি, কিংবা তারও আগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পর আমি প্রায় দলে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। হয়ত ফারুক ভাই না থাকলে সুযোগ পেতাম। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। উনি হয়ত চিন্তা করেছেন- নিব কি নিব না। হয়ত ভেবেছেন- আমি ওকে (নাফীস) দলে নিলে মানুষ ভাববে আমার ভাই বলে ওকে দলে নিয়েছি।’

ফারুক না থাকলেই বরং জাতীয় দলে সুযোগ হতে পারত বলে মনে করেন নাফীস। তাই তার ভাষ্য, ‘আমি এটা সবসময়ই বলি এবং দ্বিধাহীনভাবে বলি- ফারুক আহমেদ বাংলাদেশ দলের নির্বাচক থাকাতে আমার এক পয়সাও লাভ হয়নি। হয়তবা ক্ষতিই হয়েছে!’

ফারুক আহমেদ বাংলাদেশ দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে দল নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। যদিও নির্বাচকদের কাছে কখনোই নিজের আক্ষেপ বা আফসোস প্রকাশ করেননি নাফীস। নাফীস নিজেই জানেন, বিগত বছরগুলোতে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স ছিল ‘অসাধারণ’, নিজে মুখ ফুটে বললেনও তা। তবুও জাতীয় দলে কেন ফেরা হচ্ছে না, এ নিয়ে কখনোই সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রশ্ন করেননি, জানতে চাননি!

তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে আমি কখনোই বাসায় এসে নির্বাচকদের ফোন করে জিজ্ঞেস করিনি- এটা কেন হল বা এটা কেন হল না। মাঠে হয়ত অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছি। গত ৪-৫ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরও যখন জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি, আমি কিন্তু নান্নু ভাই বা সুমন ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেস করিনি- ভাই আমি ভালো খেলছি, আমাকে দলে নিচ্ছেন না কেন। আমি একজন খেলোয়াড়, আমার কাজ হল রান করা। তারা নির্বাচক, উনাদের কাজ হল দল নির্বাচন করা। এসব প্রশ্ন করে তাদের বিব্রত করে লাভ কী?’


বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

Related Articles

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা একতাবদ্ধ করেছে দলকে!

‘এখন তো নির্বাচক অনেক’

“একজন লেগ স্পিনার হলে খুব ভালো হতো”

‘অনিশ্চয়তা’ ভালো ঠেকেনি ফারুকের, ভরসা রাহী

তিন হেড কোচ তত্ত্বের বিরোধী ফারুক