Scores

ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে সাক্ষাৎ করলেই মিলত আইফোন

ভারতের কর্ণাটক প্রিমিয়ার লিগের ( কেপিএল) ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে বের হয়ে আসছে সব ভয়ঙ্কর তথ্য। শুধু খেলোয়াড়রা নয়, কোচ এমনকি দলের মালিকরাও জড়িত ছিলেন ম্যাচ পাতানোয়। কেপিএলে খেলা অন্যান্য ক্রিকেটারদের জবানবন্দিতে উঠে এমনই সব তথ্য।

ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে সাক্ষাৎ করলেই মিলতো আইফোন-

২০০৯ সালে শুরু হয় কেপিএল এবং এটিই ভারতের প্রথম রাজ্যভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। কিন্তু এই টুর্নামেন্টই দুর্নাম বয়ে আনছে ভারতে ক্রিকেটে। কেপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ৪ জন ক্রিকেটার, একজন কোচ ও একজন দলের মালিক গ্রেফতার হওয়ার পর বেশ নাড়া দিয়েছে এই খবর। টুর্নামেন্টটিতে খেলা ক্রিকেটাররা এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

Also Read - নাগপুরে সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের


২০১৮ সালের আসরে ম্যাচ ফিক্সিং ও জুয়াড়িদের সাথে যোগাযোগ রাখার দায়ে প্রায় একমাস আগে এম বিশ্বনাথনকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই অভিযোগে ৬ নভেম্বর গ্রেফতার হন বেঙ্গালুরু ব্লাস্টার্সের ব্যাটসম্যান নিশান্ত সিং শেখাওয়াত। গত ৭ নভেম্বর গ্রেফতার হন কর্ণাটকের দুই সাবেক ক্রিকেটার আবরার কাজী ও সিএম গৌতম। এই দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে। কর্ণাটক প্রিমিয়ার লিগের দল বেলারি টাস্কার্সের খেলোয়াড় তারা দুজন।

কেপিএলের এক ক্রিকেটার বলেন, ‘আরেকজন ক্রিকেটার আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল এক ব্যক্তির সাথে দেখা করার জন্য এবং বলা হয়েছিল দেখা করার বিনিময়েই আমাকে আইফোন দেয়া হবে। এখানে একজন কোচ ছিলেন যিনি ব্যাগভর্তি আইফোন নিয়ে ঘুরতেন এবং সেগুলো ক্রিকেটারদের দিতেন এসবের বিনিময়ে।’

কিন্তু সব ক্রিকেটার তো আর তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দিতেন না। যারা এসব এড়িয়ে চলতেন তাদের সামনে এসব জুয়াড়িরা খুব সতর্ক থাকতেন। ‘তারা যখন বুঝত কিছু ক্রিকেটার কোনো মতেই ম্যাচ পাতাবে না, তখন সতর্ক হয়ে যেত,’ ২০০৯ সালের কেপিএলের খেলা এক ক্রিকেটারের ভাষ্যমতে।

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিত কর্মকর্তা বলেন, ‘অধিনায়ক একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য একাদশে নিয়েছিল না। অধিনায়ক ভেবেছিলেন, সেই ক্রিকেটার বাজে ফর্মে আছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, সে ইচ্ছা করেই ধীরগতির ব্যাটিং করছিল। কারণ এটা ম্যাচ পাতানোর অংশ ছিল।’

‘যদি ওপরে কোনো সমস্যা থাকে, তখন ক্রিকেটাররা মুখ খুলতে চান না। এছাড়া যদি কোচ কিংবা অধিনায়ক এই কাজে জড়িত থাকে তখন কারো পক্ষে মুখ খোলাও অত সহজ হয় না। কিন্তু আমার অধিনায়ক সৎ ছিলেন। তাই তিনি বুঝতে পারছিলেন কিছু একটা সমস্যা আছে আর এই কারণেই তিনি একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে জেনেছেন চূড়ান্ত একাদশে কে খেলছেন বা কে খেলছেন না,’ বলেন এক ক্রিকেটার।

আরেক ক্রিকেটারের ভাষ্যমতে সেই দলের অধিনায়কও ছিলেন ফিক্সার, ‘আমার দলীয় অধিনায়ক তো টস জেতার পরে কী সিদ্ধান্ত নেবে, আগে ব্যাটিং নাকি বোলিং সেই নির্দেশনা পাওয়ার জন্যও অপেক্ষা করত।’

প্রথমবারের মত বিডিক্রিকটাইম নিয়ে এলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন। বাংলাদেশ এবং সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বল বাই বল লাইভ স্কোর, এবং সাম্প্রতিক নিউজ সহ সবকিছু এক মুহূর্তেই পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অনলাইন পোর্টাল BDCricTime এর অ্যাপে। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে সার্চ করুন BDCricTime অথবা ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার চার ভারতীয় ক্রিকেটার

যেন অসাধ্যকেই সাধন করলেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম!