ফিক্সিংয়ের ভয় এবার প্রমীলা ক্রিকেটেও

0
638

বিশ্বায়নের সাথে সাথে ক্রিকেট যতো জনপ্রিয় হচ্ছে, সেই সাথে ক্রিকেটের পাশে জড়াচ্ছে বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতি। ফিক্সিং তেমনই একটা অপরাধ, যা সংঘটিত হয়ে থাকে খেলার প্রাণ খেলোয়াড়দের দ্বারা।

australia-women-vs-england-women-super-six-icc-women_s-world-cup-live-score-8-2-2013-at-mumbai

Advertisment

সাম্প্রতিককালে ফিক্সিংয়ের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইসিসি। তবে তাতেও থামছে না ‘জঘন্য’ আখ্যার যোগ্য এই অপরাধটি। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররাই ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িয়ে অকালে নষ্ট করছেন নিজেদের ক্যারিয়ার, কলঙ্কিত করছেন ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটকে।

অবশ্য পুরুষ ক্রিকেটে ফিক্সিং জট পাকিয়ে বসলেও কলুষতা মুক্ত ছিল নারীদের ক্রিকেট। তবে এবার ফিক্সিংয়ের আশঙ্কা হচ্ছে প্রমীলা ক্রিকেটেও। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে মেয়েদের অ্যাশেজ। আর একে সামনে রেখে বেশ সতর্ক অবস্থায় আইসিসি। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাশেজকে কেন্দ্র করে জুয়াড়িরা নিজেদের ফায়দা লুটার সুযোগ খুঁজতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিফ এক্সিকিউটিভ টোনি আইরিশ বলেন, এবার জুয়াড়িদের টার্গেট হতে পারে নারী ক্রিকেট। নারী ক্রিকেটারদের দুর্নীতি বিরোধী কোনো শিক্ষা দেয়া হয় না। তাই এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। নারী ক্রিকেট যে রকম জনপ্রিয় হচ্ছে এবং টিভিতে স্থান পাচ্ছে, তা জুয়াড়িদের নজরে পড়তে পারে। পুরুষ ক্রিকেটারদের যে রকম দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষা দেওয়া হয়, তা নারী ক্রিকেটের থেকে অনেকটাই আলাদা।

পুরুষ ক্রিকেটারদের জুয়া এবং ফিক্সিং থেকে মুক্ত রাখতে বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে আইসিসি। কিন্তু নারী ক্রিকেটে কার্যত এরকম কোনো কার্যক্রম নিতে দেখা যায়নি। এতে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

টোনি আইরিশ বলেন,  আইসিসির পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষা এখনও সে রকম চালু হয়নি এবং তা নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে বেশ খারাপ দিন দেখতে হতে পারে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

পুরুষ ক্রিকেটারদের চেয়ে নারী ক্রিকেটারদের উপার্জনও তুলনামূলক কম। তার মতে, এটিও হতে পারে তাদের ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ- নারী ক্রিকেট এখন অনেক বেশি টিভিতে দেখানো হয়। নারী ক্রিকেটাররা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম অর্থ উপার্জন করে। সেটাও একটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে।

ক্রীড়া বিষয়ক একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে যে পরিমাণ বাজি ধরেছিল বাজীকররা, ২০১৭ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে সেটি বেড়েছে সাড়ে আট শতাংশ! এই ব্যাপারটিই আইসিসিকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। নারী ক্রিকেটকে ফিক্সিং মুক্ত রাখতে সংস্থাটি এখন কী কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম