Scores

ফিরে দেখা: বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর রোমাঞ্চ

২০০৭ সালে আজকের দিনে (১৭ মার্চ) ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। মাশরাফিদের বোলিং তোপে সেদিন মাত্র ১৯১ রানেই অলআউট হয়েছিল শচীন-সৌরভরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছিল টাইগাররা।

শেবাগকে বোল্ড করার পর মাশরাফির উল্লাস

ক্যারিবিয়ান দ্বীপে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের অষ্টম ম্যাচ ছিলো। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে হাবিবুল বাশারের দল। শুরুতেই ভারতের শিবিরে আঘাত হানেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বীরেন্দর শেবাগ ও রবিন উথাপ্পাকে দলীয় ২১ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। ভারতের রান শতক পেরোনোর আগে আরো দুই উইকেট তুলে নেন দুই স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ও আব্দুর রাজ্জাক।

শেবাগ ২, শচিন টেন্ডুলকার ৭, উথাপ্পা ৯ ও রাহুল দ্রাবিড় ১৪ রানে ফিরে গেলেও একপ্রান্ত অবিচল ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। পঞ্চম উইকেটে যুবরাজ সিংয়ের সাথে ৮৫ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। তবে তারা আউট হলে আবারো ছন্দপতন হয় ভারতের ব্যাটিংয়ে।

Also Read - ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে রিয়াদের টুইট


শেষ ৩৪ রানেই ৬ উইকেট হারায় ভারত। তিন জন ব্যাটসম্যান ফেরেন শূন্য রানে। ধোনিকে রফিক ও হরভজনকে রাজ্জাক রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফলে ১৯১ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত।

মাশরাফি বিন মুর্তজা নিয়েছিলেন ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট। আব্দুর রাজ্জাকও সমান রান খরচে নেন ৩ উইকেট। বাকি তিন উইকেট নেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি খরচ করেন ৩৫ রান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমেই শাহরিয়ার নাফীসকে হারায় বাংলাদেশ। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ৫৩ বলে ৫১ রান করে দলীয় ৬৯ রানে আউট হন তামিম ইকবাল। দ্রুতই ফিরে যান আফতাব আহমেদও।

চতুর্থ উইকেটে ৮৪ রানের পার্টনারশিপ করেন টাইগার ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল সাকিব-মুশফিক জুটি। ব্যক্তিগত ৫৩ রানে দলকে জয়ের খুব কাছে রেখেই ফিরে যান সাকিব। ১ রান করে আউট হয়ে যান অধিনায়ক বাশারও। মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে বাকি কাজটা করেন অপরপ্রান্তে মাটি কামড়ে থাকা মুশফিক।

জয়সূচক চার মেরে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তার ১০৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংসের মাহাত্ম্য অনেক। আশরাফুল অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে। দুইটি করে উইকেট নেন ভারতে শেবাগ ও প্যাটেল।

ঐতিহাসিক জয়ের পরে হাস্যোজ্জ্বল মুশফিক ও আশরাফুল

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে বিশ্বক্রিকেটে তখনো হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলা বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি।

ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: (৪৯.৩ ওভার) ১৯১/১০; (সৌরভ ৬৬, যুবরাজ ৪৭, প্যাটেল ১৫, জহির খান ১৫, দ্রাবিড় ১৪, উথাপ্পা ৯, শচিন ৭, শেবাগ ২, ধোনি ০, হরভজন ০, আগারকার ০; মাশরাফি ৪/৩৮, রাজ্জাক ৩/৩৮, রফিক ৩/৩৫)

বাংলাদেশ: (৪৮.৩ ওভার) ১৯২/৫; (মুশফিক ৫৬*, সাকিব ৫৩, তামিম ৫১, আফতাব ৮, আশরাফুল ৮*, নাফীস ২, বাশার ১; শেবাগ ২/১৭, প্যাটেল ২/৩৯, জহির খান ১/৪১)

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: মাশরাফি বিন মুর্তজা।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

তামিমের ব্যাটিংয়ে ভালোর ‘ছন্দ’ রয়েছে- রিয়াদ

আবারও রিয়াদের বলে স্বপ্নভঙ্গ তামিমের

রিয়াদের বলে আউট তামিম

জাতীয় লিগে তামিমের সাবধানী শুরু

তামিমের কাছে বেশি প্রত্যাশা রাখছেন না মুমিনুল