ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বায়োবাবল মোটেও সম্ভব নয় : শোয়েব

পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক পেসার শোয়েব আখতার মনে করেন, জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আয়োজন করা সম্ভব নয়। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জৈব সুরক্ষা বলয়ে করোনা হানা দেওয়ার পরও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আয়োজন করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

Advertisment

গত ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল চলাকালে করোনা ধরা পড়ে জৈব সুরক্ষা বলয় বা বায়ো সেফটি বাবলের ভেতরে। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হলে বন্ধ হয়ে যায় আসর। টুর্নামেন্ট অসমাপ্ত রেখেই বাড়ি ফিরে যান ক্রিকেটাররা।

এরপর গত এপ্রিলে শুরু হয় আইপিএল। অর্ধেকের মত খেলা হওয়ার পর ৩১টি ম্যাচ অসমাপ্ত রেখেই আসর স্থগিত করা হয়, কারণ এখানেও বায়োবাবলে হানা দিয়েছে করোনা।

এরই ধারাবাহিকতায় আইপিএল ও পিএসএলকে একই সুতোয় গেঁথে শোয়েব বলছেন, বায়োবাবল তৈরি করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আয়োজন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইংল্যান্ডে এই জিনিস (জৈব সুরক্ষা বলয় বা বায়োবাবল) করা যায়। এখানে (উপমহাদেশে) যারা হোটেলে কাজ করে তারাই নিরাপদ নয়। ওরা বলয়ে থাকে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বলয়ে হতে পারে, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সম্ভব নয়। কারণ গোটা বিশ্ব এখানে খেলতে আসে। আর আইপিএল মোটেই কোনো ছোটখাটো লিগ নয়।’

তাই শোয়েবের অভিমত, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আইপিএল আয়োজন করাটাই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘আইপিএল করা মোটেই যুক্তিযুক্ত ছিল না। আমরা পিএসএলে জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিলাম, যেটা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। ভারতও একই কাজ করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে।’

কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করা যায় বলে আইপিএল খেলতে মুখিয়ে থাকেন ক্রিকেটাররা। তাদের কাছে তাই যেন তুচ্ছ ছিল করোনার ভয়। শোয়েব এই ব্যাপারটিরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে সবাই রোজগার করে আসছে। এক বছর রোজগার না হলে কি খুব সমস্যা হবে? মানুষ মারা যাচ্ছে। তখন এটা চলতে পারে না। এটা জাতীয় বিপর্যয়।’