বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের ‘সেরা একাদশ’

0
1440

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২০ এর এক জমজমাট আসরের ইতি নেমেছে জেমকন খুলনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। টুর্নামেন্টটিতে অনেকেই ভালো পারফর্ম করেছেন। ভালো পারফরম্যান্সের অনুযায়ী বিডিক্রিকটাইম বেছে নিয়েছে আসরের সেরা একাদশ। ফাইনালের দুই দল থেকেই মোট ৬ জন আছেন এই একাদশে।

বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের 'সেরা একাদশ'

Advertisment

চ্যাম্পিয়ন দল জেমকন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই রাখা হয়েছে সেরা একাদশের অধিনায়ক হিসেবে। এছাড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে দলে আছেন মুশফিকুর রহিম। তরুণরাই বেশি জায়গা করে নিয়েছেন সেরা একাদশে।

একনজরে একাদশ :

১. লিটন দাস (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম- উইকেটরক্ষক) : আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক লিটন দাস। চট্টগ্রামের ফাইনালে ওঠার অন্যতম কারিগর তিনি। ১০ এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৩টি ফিফটিসহ করেছেন মোট ৩৯৩ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৭৮ রান। স্ট্রাইকরেট ১১৯.৩৪।

উইকেটরক্ষক হিসেবে ৮টি ক্যাচ নেওয়ার সাথে সাথে ২টি স্ট্যাম্পিং করেছেন লিটন।

২. নাজমুল হোসেন শান্ত (মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী) : লিটনের সঙ্গী হিসেবে ওপেনিংয়ে রাখা হয়েছে শান্তকে। রাজশাহী প্লে-অফে উঠতে না পারলেও শান্তর ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছিল। ৮ ম্যাচে ৩০১ রান করেছেন এই ওপেনার। আসরের প্রথম সেঞ্চুরিও আসে তার ব্যাট থেকেই। তাছাড়া ২টি ফিফটি হাঁকিয়েছেন শান্ত। স্ট্রাইকরেট ১৫৬.৭৭! সর্বোচ্চ ইনিংস ১০৯।

৩. পারভেজ হোসেন ইমন (ফরচুন বরিশাল) : বাংলাদেশি হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন ইমনের দখলে৷ ৯ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে মোট ২৩৩ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইকরেট ১৩০.৮৯!

৪. মুশফিকুর রহিম (বেক্সিমকো ঢাকা) : মুশফিকের ব্যাট থেকেও এসেছে ধারাবাহিক রান। ৯ ম্যাচে তিনি ১ ফিফটিতে করেছেন ২৮৭ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৭৩ রান। স্ট্রাইকরেট ১১২.১০।

৫. ইয়াসির আলি রাব্বি (বেক্সিমকো ঢাকা) : টানা হারের পরে ঢাকার ম্যাচ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন ইয়াসির। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান বিপদের মুখ থেকে দলকে রক্ষা করেও জয় এনে দিয়েছেন। ৯ ম্যাচে ২ ফিফটিতে তিনি করেছেন মোট ২৯৪ রান। স্ট্রাইকরেট ১২৪.৫৭!

৬. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (জেমকন খুলনা- অধিনায়ক) : আসরের শুরুতে হাসছিল না রিয়াদের ব্যাট। তবে ফাইনালসহ দুইটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন ফাইনালে। ১০ ম্যাচে ১২৯.৮৫ স্ট্রাইকরেটে করেছেন মোট ২৭৪ রান।

৭. শুভাগত হোম (জেমকন খুলনা) : দলের প্রথম ৩ ম্যাচে একাদশেই সুযোগ পেয়েছিলেন না শুভাগত। প্রথম সুযোগ পাওয়ার দিনেই হন ম্যাচসেরা। তারপর যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন ধারাবাহিক পারফর্ম করেছেন তিনি। ১৮৪.৬১ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট হাতে করেছেন ৭২ রান ও বল হাতে ৬.৬৭ ইকোনমিক রেটে শিকার করেছেন মূল্যবান ১০টি উইকেট। সেরা বোলিং ১৩ রানে ৩ উইকেট।

৮. রবিউল ইসলাম রবি (বেক্সিমকো ঢাকা) : ঢাকার ম্যাচ জয়ের আরেক কারিগর ছিলেন রবিউল ইসলাম রবি। এই ডানহাতি স্পিনার ইনিংসের শুরুতেই ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। ৮ ম্যাচে মোট ১৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ইকোনমিক রেট ৬.৯৪। সেরা বোলিং ২৭ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট।

৯. মুস্তাফিজুর রহমান (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ ২২ উইকেট শিকার করে আসরের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন মুস্তাফিজ। ইকোনমিক রেট ৬.২৫ ও বোলিং গড় ১১.০৪৷ সেরা বোলিং ৫ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট।

১০. শরিফুল ইসলাম (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম) : যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার শরিফুল টুর্নামেন্ট জুড়েই দুর্দান্ত খেলেছেন। ১০ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৬টি উইকেট।

১১. শহিদুল ইসলাম (জেমকন খুলনা) : ফাইনাল ম্যাচে শেষ ওভারে বল হাতের নায়ক ছিলেন শহিদুল। জেমকন খুলনার এই পেসার ৮ ম্যাচে শিকার করেছেন ১৩টি উইকেট। ইকোনমিক রেট ৭.৬৩। সেরা বোলিং ১৭ রানে ৪টি উইকেট।

দ্বাদশ খেলোয়াড় : দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে আকবর আলিকে। যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বেক্সিমকো ঢাকার পক্ষে ১০ ম্যাচে ১৫০ স্ট্রাইকরেটে করেছেন মোট ১৭১ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৪৫ রানের।