বদলা নিতে ‘ছোটু’ সুজনকে খুঁজেছিলেন ওয়াসিম

0
754

ক্রিকেট মাঠে কথার লড়াই বেশ পুরানো ঐতিহ্য। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের সাথে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার খালেদ মাহমুদ সুজন। যার জন্য শুধু বিচার দিয়েই ক্ষান্ত হননি ওয়াসিম। পরবর্তীতে বদলা নিতে সুজনকে খুঁজেছিলেন তিনি।

Advertisment

বিশ্ব ক্রিকেটে তখনো মাথা তুলে দাঁড়ানো হয়নি টাইগারদের। টেস্ট খেলুড়ে কোন দলের বিপক্ষেও জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল আমিনুল ইসলামের দল। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচটা আরও এক কারণে ‘বিশেষ’ হয়ে আছে সুজনের কাছে। সেদিন ওয়াসিম আকরামের চোখে চোখ রেখে লড়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। যা পরবর্তীতেও ভোলেননি ওয়াসিম। যার বদলা নিতে সুজনকে খুঁজেছিলেন পাকিস্তানি দলপতি। সম্প্রতি তামিম ইকবালের সাথে ভিডিও আড্ডায় সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন সুজন।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের সেই ঘটনা জানাতে গিয়ে সুজন বলেন, ‘আমি তিন উইকেট পেয়ে গেছি। পাকিস্তান চাপে আছে। আমাদের তো কঠিন পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ওয়াসিম আকরাম আমার একটা ওভার মোকাবেলা করেছে, ঐ ওভারে আমি একটা চারও খেয়েছি। এরপর আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়েছি।’

কী কারণে এমন আগ্রাসী হয়েছিলেন সেটিও জানান সুজন, ‘এর পেছনে কারণ হল আমাদের তখন একজন পেস বোলিং কোচ ছিল। নামটা ঠিক মনে নাই। তো একদিন নেটে আমি বিদ্যুৎকে (শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ) বল করেছিলাম, সে একটা ভালো শট খেলায় আমি বলেছি, গুড শট। তখন সে (বোলিং কোচ) আমাকে বলেছে তুমি কি ম্যাচে গিয়েও (প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের) এরকম বলবা?’

‘আমি বললাম, না অসম্ভব। তখন সে আমাকে বলল, গালি দেওয়ার দরকার নাই শুধু চোখ গরম কইরো। আমি বললাম ঠিক আছে। তো ম্যাচে গিয়ে আমি ওয়াসিম আকরামকে চোখ রাঙিয়েছি। সে আমার উপর গরম হয়ে গেছে, বললো এই ছোটু! এটা নিয়ে আকরাম ভাইকেও বিচার দিয়েছে যে এই ছোটুকে সাবধান কর। এরপর অবশ্য নান্নু ভাইয়ের বলে আউট হয়ে গেল।’– সাথে যোগ করেন তিনি।

সেই ঘটনার রেষ পরবর্তী এশিয়া কাপেও টেনে এনেছেন ওয়াসিম। প্রতিশোধ নিতে বাউন্সার দিয়ে সুজনকে নাকাল করতে চেয়েছিলেম তিনি। সুজন জানান, ‘এরপর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সাথে খেলা আমাদের ঢাকায়। আমি, দুর্জয়, পাইলটতো পর পর যেতাম (ব্যাটিং অর্ডারে)। ছয়, সাত, আট এরকম। আমি সাত এ গেছি, দুর্জয় ছয়ে সম্ভবত। তো আমরা দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছি (৮৭ রানে অলআউট)।’

‘আমি আজহার মাহমুদের বলে আউট (৪) হয়ে চলেও এসেছি। শেষের দিকে যারা গিয়েছে একজনকে ওয়াসিম জিজ্ঞেস করলো, এই তোমাদের ছোটু কই? আজ খেলছেনা সে? আমাদের ঐ ব্যাটসম্যান জবাব দিল, সে খেলছে তো। আউট হয়ে চলেও গেছে। তখন সে বলল কখন চলে গেছে? ওকে তো আউট করার পরিকল্পনা ছিল না, বাউন্সার মারার পরিকল্পনা ছিল। মানে আমার শরীরে মারতে চায়।’– আরও বলেন তিনি।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।