Scores

“বল টেম্পারিংয়ের মূল পরিকল্পনা আগের দিন রাতেই হয়েছে”

নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বল টেম্পারিংয়ের বিষয়ে মুখ খুলেছেন স্টিভ স্মিথ। অনেক আগেই বল টেম্পারিংয়ের কথা স্বীকার করে নিলেও শুক্রবার দুপুরে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সব দোষ নিজের কাধে নিয়েছেন তিনি।

 

 

Also Read - বাংলাদেশের সামনে রেকর্ড গড়ার হাতছানি


জং-ধরেনি-স্মিথের-ব্যাটে
স্টিভ স্মিথ। ছবি: এএফপি

বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না স্মিথ। কিন্তু যা হয়েছে তার জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন তিনি। সেই সাথে সব কিছুও যেনেও তা না আটকানোকে নিজের নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবেই আখ্যায়িত করেন তিনি।  স্মিথ বলেন, “আমার ধারণা, যা হয়েছে সেটা নিয়ে অনেক লেখাই হয়েছে। আমার কাছে যা মনে হয়েছে তা হলো, আমি একটা কিছু ঘটতে দেখেছি,তার পাশ দিয়ে গিয়েছি এবং সেটা বন্ধ করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমি তা থামাইনি। এটা আমার নেতৃত্বের ব্যর্থতা। কোনো কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল এবং সেটা মাঠে ঘটেছে। আমার সুযোগ ছিল সেটা ওই সময়েই থামিয়ে দেওয়ার, আমার উচিত হয়নি এটা ভাবা যে, “কী হচ্ছে সেটা আমার না জানাই ভালো!” নেতা হিসেবে আমি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি এবং আমি এর পুরো দায় নিচ্ছি। ”

পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে রুপ দেয়া হয়েছে বলেও জানান স্মিথ।  অন্যদিকে এ থেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলেন জানান তিনি। বলেন, “মূল পরিকল্পনা আগের দিন রাতেই হয়েছে, আমি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবলাম, “কী হচ্ছে আমি জানতে চাই না।” ওটাই আমার সুযোগ ছিল, যেখানে ঘটনাটা ঘটা থামাতে পারতাম এবং গত নয় মাসে আমি এই শিক্ষাই পেয়েছি। জীবনে যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই নেতিবাচক হতে পারে যদি দান উল্টে যায়। আর যদি ফলাফল ভালো হয় তখন আরেক রকম দেখায়। শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টা এখানেই। নিজের চিন্তার গতি কমিয়ে এনে নিশ্চিত করতে হবে সঠিক সিদ্ধান্তটাই নেওয়া হচ্ছে।”

এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসে বল বিকৃতির প্রথম ঘটনা দাবি করে তিনি বলেন, “আমি যত দূর জানি এটাই প্রথম ঘটনা। বিশ্বের অন্য দলগুলো ওই পরিস্থিতিতে কী করত, সেটা নিয়ে আমি ভাবতে চাই না। যেকোনো খেলাতেই আপনি বলকে সুইং করাতে চাইবেন কিন্তু সেটা অবশ্যই সঠিক উপায়ে হতে হবে।”

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করলেও তাকে বুঝতে পেরে ক্রমাগত সমর্থনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মানুষের প্রশংসা করতে ভোলেননি স্মিথ।  এছাড়া বিরূপ পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া শিখে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঠিক আছি। বেশ কঠিন কিছুদিন কাটিয়েছি। অনেক উত্থান এসেছে, পতন এসেছে। কিন্তু আমি ভাগ্যবান আমার আশপাশে অনেক কাছের মানুষ ছিল। তারা অনেক সাহায্য করেছে কঠিন সময় পার করতে। এমন দিন গেছে যেদিন বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করেনি। কিন্তু কাছের মানুষেরা আমাকে বুঝিয়েছে, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি একটা ভুল করেছি এবং এটা ভয়ংকর ভুল ছিল। কিন্তু আমি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। একজন মানুষ হিসেবে উন্নতি করার চেষ্টা করছি। অধিকাংশ সমর্থক ইতিবাচক ছিল। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ অনেক ভালো এবং ক্ষমাশীল। কিন্তু আমাকে এখনো অনেক কাজ করতে হবে অস্ট্রেলিয়ানদের আস্থা ও শ্রদ্ধা ফিরে পাওয়ার জন্য। আমি সে চেষ্টাই করব।”

উল্লেখ্য, এবছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় স্টিভ স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার তিন খেলোয়াড়কে।  সরাসরি এই অপরাধের সাথে যুক্ত না থাকলেও পরোক্ষভাবে একে সায় দেওয়া আর দায়িত্বে অবহেলার কারণে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয় তাকে।  ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মার্চের আগে অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরার সুযোগ নেই তার।

 


আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের সামনে রেকর্ড গড়ার হাতছানি

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

আক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন মিরে

বাংলাদেশের বিপক্ষেও উপেক্ষিত চান্দিমাল

‘আমরা কী খেলার সরঞ্জাম পুড়িয়ে চাকরির জন্য আবেদন করব?’

“এভাবে বিদায় নিতে চাইনি”

ধীর বোলিংয়ে আর নিষেধাজ্ঞা পাবেন না অধিনায়করা