Scores

বাংলাদেশকে দেখলে এখন অন্যরা বলে, “খাইছে আমারে, বাবারে বাবা!”

২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফি, আসরের ষষ্ঠ ম্যাচ। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে লড়বে ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, লড়াইটা তাই মুখের কথা নয়। পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে সেই ম্যাচে ২ উইকেটের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্যতম সেরা জয় ধরা হয় ১৬ মার্চের ঐ ম্যাচকে।

খাইছে আমারে, বাবারে বাবা!

ঐ ম্যাচে পক্কপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং আর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের দৃষ্টিকটু শরীরী ভাষা ও মেজাজ প্রদর্শনীকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান- এমন সমীকরণ নিয়ে ইসুরু উদানাকে রিয়াদ হাঁকিয়েছিলেন বিশাল ছক্কা। সেই ছক্কা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন ব্রেট লি।

Also Read - অসুস্থ বাবা-মাসহ করোনায় আক্রান্ত অপু






অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার তখন বাংলাদেশের আথার আলী খান ও শ্রীলঙ্কার রোশান আবেসিংহের সাথে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন। ধারাভাষ্য কক্ষে কেউই নাকি ভাবেননি, এই ম্যাচ বাংলাদেশ জিততে পারে। আথার বলেন, ‘বাংলাদেশকে হারানো কঠিন হবে না- ধারাভাষ্য কক্ষে এমন একটা অনুভূতির দেখা মিলত। এখন কিন্তু সেটা নেই। এখন একদমই নেই। এখন বাংলাদেশ দল যখন মাঠে নামে, সবাই ভাবে- ধরতে আসছে, খাইছে আমারে, বাবারে বাবা! একটু ভয়ে থাকে। এটাই এখনকার বাস্তবতা।’

রিয়াদের ম্যাচ জেতানো ছক্কা দেখে লি কেন তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যায় আথার বলেন, ‘রিয়াদ ছক্কা হাঁকানোর পর অবাক হওয়ার মত একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন অভিব্যক্তি বলুন, শব্দ বলুন, ব্যবহার বলুন… খুব অবাক হতে হয়। এটা কীভাবে হল- চমকে গিয়ে এমন বলার মত। আমার মনে হয় ব্রেট লির ঐ অভিব্যক্তি এমন কিছু ছিল। সে ভাবতে পারেনি বাংলাদেশ জিতবে। অন্যান্য ধারাভাষ্যকাররাও ভাবেনি এমন কিছু হবে।’






শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রিয়াদের ইনিংস তো বিখ্যাত হয়ে থাকবেই, রিয়াদের বীরত্বগাঁথায় থাকবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিও। অনবদ্য সেঞ্চুরি দিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে ফেলেছিলেন রিয়াদ। ঐ ম্যাচে বিবিসি রেডিওতে কিংবদন্তি ইংরেজ ধারাভাষ্যকার জিওফ্রি বয়কটের সাথে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন আথার। বয়কটও নাকি কল্পনাও করেননি, বাংলাদেশ ঐ ম্যাচ জিততে পারে।

তিনি বলেন, ‘রিয়াদের আরেকটা ইনিংসের কথা বলতেই হবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। রিয়াদ বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আমি কমেন্ট্রি টিমে ছিলাম না। আমি খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। এক বন্ধুর সাথে প্রত্যেক ম্যাচ মাঠে বসে দেখছিলাম। একটা খাবার জায়গায় আমার সাথে বিবিসির রেডিও ধারাভাষ্যকারদের দেখা হয়। সবাই এক জায়গায় বসে খাচ্ছিল। আমাকে দেখে বলল- তুমি এখানে কী করছ? ও তুমি ধারাভাষ্য দিচ্ছ না? তখন আমাকে বলল- তুমি আমাদের রেডিওতে ধারাভাষ্য দেও না কেন!’

‘তখন আমি নিউজিল্যান্ডের একটি ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে ধারাভাষ্য দেই। আমার সাথে স্যার জিওফ্রি বয়কট ছিলেন। পুরো ম্যাচে যতবার তার সাথে ছিলাম, ও একবারও বিশ্বাস করছিল না যে বাংলাদেশ এই ম্যাচটা জিতবে। আমি শুরু থেকেই বলছিলাম- একটা পার্টনারশিপ হলে আমরা জিতে যেতে পারি। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না ইংল্যান্ড হারতে পারে। এই অনুভূতি এখন পুরোপুরি বদলে গেছে।’– বলেন আথার।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

“আথার, তুমি কি পাকিস্তানকে প্রতারক বলছো?”

বাংলাদেশের সামর্থ্যে অগাধ আস্থা ইয়ান বিশপের

জাতীয় দলে বাংলাদেশি কোচ চান আথার

‘আতহার’ ভুল, নামের বানান শুধরে দিলেন আথার

তামিম-মুশফিককে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখতে চান আথার