Scores

বাংলাদেশি পেসারদের কালজয়ী তিন পারফরম্যান্স

বাংলাদেশের বোলাররা অধিকাংশ ম্যাচে সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে থাকেন। একাই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন- এরকমটা সচরাচর দেখা যায় না। যদিও ৪, ৫ বা ৬ উইকেট পাওয়ার দৃষ্টান্ত নেহাত কম নয়। উইকেট সংখ্যা দিয়ে পারফরম্যান্স না মেপে, বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে কতটা ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়া গেছে- এটাই আপাতত বিচারের মানদণ্ড। এই মানদন্ডে টাইগারদের সেরা তিন বোলিং ফিগার হিসেবে ভাবা যেতে পারে কার কার পারফরম্যান্সকে? চলুন, দেখে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশি পেসারদের কালজয়ী তিন পারফরম্যান্স

  • নড়াইল এক্সপ্রেসে চূর্ণ ভারত

বোলিং ফিগার: ৯-২-৩৮-৪
প্রতিপক্ষ: ভারত (বিশ্বকাপ ২০০৭)
ভেন্যু: পোর্ট অব স্পেন, ক্রিনিদাদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Also Read - জুনেও বাংলাদেশ সফরে আসছে না অস্ট্রেলিয়া!


ভারতকে বাংলাদেশ প্রথম পরাজিত করে ২০০৪ সালের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। সে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মাশরাফি মুর্তজা, ৪ উইকেট নিয়ে। তিন বছর পর বিশ্বকাপে আবারো মুখোমুখি দুই দল, এবারও পরাজিত ভারত এবং যথারীতি মাশরাফির চার উইকেট। দুবারই বীরেন্দর শেবাগকে বোল্ড করার মধ্য দিয়ে ব্যাটিং ধ্বসের সূচনা।

এই ম্যাচটি দুটি কারণে আলোচিত ছিল। প্রথমত আগের দিন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মানজারুল ইসলাম রানা। তিনি ছিলেন মাশরাফি এবং আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রত্যেক খেলোয়াড় মাঠে নামেন কালোব্যাজ বেঁধে। দ্বিতীয়ত, ম্যাচপূর্ব সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছিলেন- ‘ভারতকে ধরে দিবানি’, যা মুহূর্তেই সমর্থকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

খুব ‘এক্সপ্রেস বোলিং’ বা ‘আনপ্লেয়েবল’ কোনো ডেলিভারি মাশরাফি এ ম্যাচে দেননি বা দিতে পারেননি। স্বাভাবিক লাইন-লেন্থে বোলিং করেছেন। তার পুরস্কার হিসেবে শেবাগ আর ওয়ান ডাউনে রবিন উত্থাপার উইকেট পেয়ে যান ইনিংসের শুরুতেই। ইনিংসের শেষ দিকে আগারকার এবং মুনাফ প্যাটেলের উইকেট দুটিও শিকার করেন। সব মিলিয়ে চার উইকেট।

এরকম গড়পড়তা বোলিং ফিগারকে প্রথমেই রাখার ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ম্যাচটির গুরুত্ব। এটি ছিল ঐ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং এই হারের মধ্য দিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই ভারতের বিদায় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। ক্রিকেট আর ভারত- দুইয়ের মধ্যে গভীর সংযোগ থাকায় ভারতকে বিদায় করে দেওয়া পারফরম্যান্সকে অন্য ম্যাচের তুলনায় অগ্রাধিকার দিতেই হবে।

বাংলাদেশি পেসারদের কালজয়ী তিন পারফরম্যান্স

  • রুবেলের হ্যাটট্রিক ও দিকভ্রান্ত ৬ কিউই

বোলিং ফিগার :৫.৫-০-১৬-৬
প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড (দ্বিপাক্ষিক সিরিজ,২০১৩)
ভেন্যু: মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা

আগের সফরে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে হারানো সুবাদে ২০১৩ সালের সিরিজে বাংলাদেশ একটু হলেও মানসিক দিক থেকে এগিয়ে ছিল। এই ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ২৬৫ রান সংগ্রহ তার বড় প্রমাণ। এই ম্যাচটি জেতা এত সহজ ছিল না, যখন বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪ ওভারে ২০৬ রান। কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, জিমি নিশাম- প্রত্যেকেই টি-২০ স্পেশালিস্ট। যার সুবাধে ২৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান সংগ্রহ করে ফেলে সফরকারীরা।

শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৮৫। এই রান এমন আহামরি কোনো লক্ষ্য নয়। তখন ফাস্ট বোলারের অহমিকা দেখান রুবেল হোসেন। পরপর তিন বলে অ্যান্ডারসন, ম্যাককালাম আর জেমি নিশামকে ফিরিয়ে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি পাল্টে দেন। চিরকাল মানুষ শুনে এসেছে- বাংলাদেশের উইকেট ফ্ল্যাট, বোলারদের জন্য কিছু নেই। এরকম উইকেটে ৬ উইকেট নিতে হলে বোলারকে বোলিংয়ে কীরকম আগুন ঝরাতে হয়- রুবেল তা দেখিয়ে দেন। বলা যায়- রুবেল একাই নিউজিল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করেছিলেন।

বাংলাদেশি পেসারদের কালজয়ী তিন পারফরম্যান্স

  • রুবেলের ছোঁড়া ৪টি ‘আগুনগোলা’

বোলিং ফিগার: ৯.৩-০-৫৩-৪
প্রতিপক্ষ: ইংল্যান্ড (বিশ্বকাপ ২০১৫)
ভেন্যু: অ্যাডিলেড ওভাল, অস্ট্রেলিয়া

৯ ওভারে ৫৩ রান দেওয়াকে খরুচে বোলিংয়ে বলা যেতে পারে। তবে সচেতন ক্রিকেট দর্শকমাত্রই জানেন- উইকেটটেকিং বোলাররা রান একটু বেশিই দিয়ে থাকেন। রান আটকে রেখে জয় আনা যায় না, উইকেটেরও পতন ঘটাতে হয়। হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকলে প্রতিপক্ষকে দীর্ঘসময় আটকে রাখা সম্ভব হয় না। রুবেল হোসেন উইকেটটেকিং বোলার, রান একটু বেশিই দিয়ে বসেন মাঝেমাঝে। কিন্তু একটা স্পেলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সম্ভবত একমাত্র তারই আছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে পুরো ইনিংসের বোলিং খেয়াল করলে দেখা যাবে- প্রচুর ‘আলগা বল’ দিয়েছেন, কিন্তু এর মধ্যেও চারটি ডেলিভারি ছিল; যেগুলো ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। বল চারটি এক স্পেলে করেননি, দুটি ভিন্ন স্পেলে করেছেন এবং যখন প্রয়োজন ছিল খুব, ঠিক সে মুহূর্তেই জ্বলে উঠেছেন। ইয়ান বেলকে দেখে যখন মনে হচ্ছিল- সেঞ্চুরির আগে থামবেনই না। তখনই দুরন্ত গতির এক আউটসুইঙ্গারে কট বিহাইন্ড করেছেন।

একই ওভারে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক ইয়ন মরগানকে, যার বিশ্বকাপ কেটেছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে মরগানের উইকেটটিতে বোলারের চেয়ে ফিল্ডার সাকিব আল হাসানকেই কৃতিত্ব বেশি দিতে হবে। শর্ট পিচ বলে মর্গান যেভাবে পুল করেছিলেন, ছক্কা হওয়াই ছিল স্বাভাবিক পরিণতি।  ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে অনেকটা দৌড়ে সাকিব যে রানিং ক্যাচটা নিয়েছেন, ফিল্ডারের উইকেট পাওয়ার নিয়ম থাকলে সেটা তারই হতো।

আরেক স্পেলে রুবেল যখন বল করতে আসেন, তখন ক্রিস ওকস আর স্টুয়ার্ট ব্রড ম্যাচটা প্রায় বের করে নিচ্ছিছিলেন। তখনই ব্রডকে একটি ‘আনপ্লেয়েবল’ ইয়র্কার, পরিণতিতে স্ট্যাম্প ছত্রখান! এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান জেমস অ্যান্ডারসন সুইং বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ইয়র্কার ঠেকাতে যতোটুকু ব্যাটিং দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তা তার কোনোকালেই ছিল না। ফলশ্রুতিতে তিনিও স্ট্যাম্প হারান রুবেলের বলে।

এখানেই ফাস্ট বোলারের সার্থকতা- আচমকা ম্যাচের পরিস্থিতিই ঘুরিয়ে দিবেন। ডেথ ওভারে বাংলাদেশে অনেকগুলো ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছেন রুবেল, দর্শকরা তাকে বোলিংয়ে দেখলেই একসময় আতকেই উঠতেন।সেই রুবেল ক্রমান্বয়ে নিজেকে স্ট্রাইক বোলারে পরিণত করেছেন নিজেকে; বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এ রূপান্তর অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।

লিখেছেন- ইসমাইল উদ্দিন সাকিব

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

এদেশের ক্রিকেটকেন্দ্রিক ধারণাই তো বদলে দিয়েছেন সাকিব!

প্রিয় আশরাফুল, কেন এমন করলেন?

খেলা বন্ধের ‘অসচরাচর’ ৬ কারণ

অথচ আইপিএলের জন্মই হওয়ার কথা ছিল না!

এ অনন্য রেকর্ড ভাঙবে কে?