SCORE

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে হাথুরুসিংহে

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ৩ বছর কাজ করেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ যখন একের পর এক হারের স্বাদ নিচ্ছিল তখনি দলের প্রধান কোচ হিসেবে আসেন তিনি। প্রথম কয়েক অ্যাসাইনমেন্টে ধাক্কা খেলেও পরবর্তীতে সফল হয়েছেন ঠিকই। বছরের শেষদিকে নতুন অধিনায়ক ও চন্ডিকার কৌশল যেন কাজে লেগে যায়।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে হাথুরুসিংহে

তারপর থেকে যেন পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। ঘরের মাঠে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান বধ সবই এসেছে তাঁর অধীনে। এছাড়াও ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে তাঁর অধীনে। এতো সাফল্যের পরেও তাঁকে ঘিরে কিছু না কিছু বিতর্ক থেকেই যেত।

Also Read - আফতাব-মুস্তাফিজকে পেছনে ফেলেছেন মুজিব

শেষমেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেন শেষ হলো চন্ডিকার বাংলাদেশ অধ্যায়। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। দায়িত্ব নেন নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের। বাংলাদেশের মতো লঙ্কার কোচ হয়েও শুরুতে হোঁচট খেয়েছিলেন তিনি। ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাঁর দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়, টাইগারদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় এবং শেষমেশ প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও জয় পেয়েছে তাঁর দল শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের সামনে দেশের মাটিতে হারার পেছনে হাথুরুর কোন কৌশল আছে কিনা সেটাও ঘুরপাক হচ্ছিলো শুরুর দিকে। যদিও সেটি অকপটে অস্বীকার করেছিলেন হাথুরুসিংহে। তবে এবার স্বীকার করলেন সেটি।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব পেয়ে সাফল্যের পেছনের গল্প জানান হাথুরু। তিনি বলেন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। সেই সাথে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের দুর্বলতার দিকটাও ভালোভাবে জানা টাইগারদের সাবেক কোচের।

“সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আমাদের কিছু কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল। আমরা জানতাম চাপের মুখে তারা কিভাবে খেলতে পারে। এছাড়াও প্রথমদিকে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। যদিও আমি এমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম, এমন না হলে আমি বরং অবাকই হতাম। কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই আমি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে এতো ভালো শুরু করেও এভাবে ছন্দপতন হবে সেটা কল্পনা করেনি কেউই। ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেভারিট থেকেও যেন ট্রফি জেতা হলো না টাইগারদের। মূলত সিনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার পাশাপাশি জুনিয়রদের জ্বলে না উঠাকে মূল কারণ ভাবছেন অনেকেই। তবে বাংলাদেশের এমন ছন্দপতনে অবাক সাবেক কোচ হাথুরুসিংহেও।

“ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ভালো শুরু করেছিল। অনেক চাপের মাঝে কিভাবে খেলতে হবে, সেটা তারা ভালো করেই জানে। আমার মনে হয় তাদের কিছু খেলোয়াড়ের ব্যর্থতার কারণে মনের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। তারা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমি বিস্মিত, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কিভাবে এত দ্রুত নিচের দিকে গেল! তবে আমি চলে যাওয়ার আগে বলতে চাই, বাংলাদেশ ভালো খেলুক। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া আমি দেখতে চাই।

আগামীকাল সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দল। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সফর শেষ করবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। আগামী মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারত ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ ‘নিদাহাস ট্রফি’ আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা।

আরও পড়ুনঃ এক ঘণ্টায়ই শেষ সিলেট ম্যাচের টিকেট!

Related Articles

সিইওকে চিঠি দিয়ে বোমা ফাটালেন ম্যাথিউস

বাংলাদেশের দুর্বলতা জানেন হাথুরুসিংহে!

‘প্রতিশোধ নয়, ভালো ক্রিকেট খেলে জিততে চাই’

এশিয়া কাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী হাথুরুর

হাথুরুসিংহের শিষ্যরা ‘স্কুলের বাচ্চা’!