Score

বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ

আবুধাবিতে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সুপার ফোরের প্রথম দিনের খেলায় ভারতের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.১ ওভারে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। জবাবে ৮২ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। 

ব্যাটিং ব্যর্থতায় –তে থামল বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল না থাকায় এই ম্যাচেও বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচের মত এই ম্যাচেও দুজনই দিয়েছেন ব্যর্থতার পরিচয়। দলীয় ১৫ ও ব্যক্তিগত ৭ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের ডেলিভারিকে কেদার যাদবের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরেন লিটন। এর কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফেরেন শান্তও, লিটনের মতই মাত্র ৭ রান নামের পাশে রেখে। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে তার শট তালুবন্দী করেন শিখর ধাওয়ান।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তবে ভালো শুরু করেও রীতিমত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন এই দুজনও। দলীয় ৪২ রানে সাকিবের (১৭) উড়িয়ে মারা শট লুফে নেন ধাওয়ান। সাকিবের মত মুশফিককেও (২১) শিকার করেন রবীন্দ্র জাদেজা, যুযবেন্দ্র চাহালের হাতে মুশফিকের ব্যাট ছোঁয়া বল জায়গা করে নিলে। তার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি হাঁকানো মোহাম্মদ মিঠুনও ধরেন সাজঘরের পথ। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জাদেজা। ইনিংসে দলের একমাত্র রিভিউ নিয়েও সেই যাত্রায় বাঁচতে পারেননি মিঠুন।

Also Read - এশিয়া কাপের দলে ইমরুল-সৌম্য!

ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। তবে ৫১ বলে ২৫ রান করার পর রিয়াদও মিঠুনের মত সাজঘরে ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। রিয়াদ ভুবনেশ্বরের শিকারে পরিণত হওয়ার পরের ওভারেই জাদেজার বলে উইকেটের পেছনে থাকা ধোনির হাতে বল তুলে দেন মোসাদ্দেক। তার আগে ৪১ বলের মোকাবেলায় মাত্র ১২ রান করলেও তার ব্যাটে চড়ে সম্মানজনক সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ।

১০১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভারত যখন দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করতে মরিয়া, তখন বোলারদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরে খেলে যাচ্ছিলেন মাশরাফি, আর স্ট্রাইক পেলেই মিরাজ খেলছিলেন স্ট্রোক। দুজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে সম্মানজনক সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে ৮ম উইকেটের দারুণ এই জুটি ভাঙে ৬৬ রানের মাথায়। মাশরাফি যখন মারমুখো হতে যাচ্ছেন, তখনই ভুবনেশ্বরের বলে তার স্কুপ লুফে নেন বুমরাহ। তার আগে দুটি ছক্কায় ৩২ বলে ২৬ রান করে মাশরাফি যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজকে। মাশরাফির বিদায়ের একটু পর সাজঘরে ফেরেন মিরাজও। দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ৫০ বলে ৪২ রান করার পর বুমরাহর বলে শিখর থামান মিরাজের ইনিংস। শেষ উইকেটে রান যোগ করে শেষ ওভারের প্রথম বলে ভাঙে মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের জুটি। তাতে সব উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রান।

ভারতের পক্ষে জাদেজা দুটি এবং ভুবনেশ্বর ও বুমরাহ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের ব্যাটে চড়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬১ রানের ভিত পায় দুইবারের বিশ্ব-চ্যাম্পিয়নরা। ৪০ রানের ইনিংস খেলে সাকিব আল হাসানের এলবিডব্লিউর শিকার হন ধাওয়ান। এর কিছুক্ষণ পর সাজঘরের পথ ধরেন ওয়ান ডাউনে নামা আম্বাতি রায়ুডুও।

ব্যক্তিগত ১৩ রানে রুবেল হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তবে এতে দলটির জয়ের পথে কোনো বাঁধা সৃষ্টি হয়নি।

১০৬ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর নতুন ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকেন অর্ধ-শতক হাঁকানো রোহিত। শেষদিকে মাশরাফির বলে ধোনি (৩৩) বিদায় নিলে নতুন ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিককে নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান রোহিত। রোহিত ৮৩ রান এবং কার্তিক ১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে উইকেট শিকার করেছেন সাকিব ও রুবেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১৭৩/১০ (৪৯.১ ওভার)

মিরাজ ৪২, মাশরাফি ২৬, রিয়াদ ২৫, মুশফিক ২১, সাকিব ১৭

জাদেজা ২৯/৪, ভুবনেশ্বর ৩২/৩, বুমরাহ ৩৭/৩

ভারত ১৭৪/৩ (৩৬.২ ওভার)

রোহিত ৮৩*, ধাওয়ান ৪০, ধোনি ৩৩, রায়ুডু ১৩

রুবেল ২১/১, মাশরাফি ৩০/১, সাকিব ৪৪/১

ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।

আরও পড়ুন: মিরাজ-মাশরাফির দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সম্মানজনক সংগ্রহ

Related Articles

শুরুতে উইকেট হারানো ঠেকাতে চায় বাংলাদেশ

ওয়েলিংটন টেস্ট: বৃষ্টির দাপটে ড্র-ই হল পরিণতি

মেন্ডিস-ম্যাথিউস শেখালেন— ধৈর্য কাকে বলে!

সহজেই জিতল অস্ট্রেলিয়া

যে কারণে স্যালুট দিচ্ছিলেন কটরেল