Scores

বাংলাদেশের টেস্ট হার, তবুও ম্যাচসেরা সাকিব

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসিও তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিশাল ক্রিকেট বিরতিতে চলুন দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পুরনো কিছু সাফল্য ও ম্যাচের কথা। আজকে জেনে নেওয়া যাক ম্যাচ হারার পরও ম্যাচ সেরা হওয়ার সাকিব আল হাসানের কিছু ম্যাচের গল্প।


টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত জয়ী দলের খেলোয়াড়রাই ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু সময় এমনও দেখা গেছে যে ম্যাচ হারের পরও পরাজিত দলের খেলোয়াড় জিতেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সর্বোচ্চ ৩ বার এই পুরস্কার পাওয়া ৩ জন খেলোয়াড়ের সাথে

Also Read - ক্রিকেট ভক্তদের দুঃসংবাদ দিল আইসিসি


বাংলাদেশের ম্যাচ হার, তবে ম্যাচ সেরা সাকিব
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে সাকিব।

বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান রয়েছেন শীর্ষে।

সাকিব আল হাসান টেস্টে ম্যাচ হেরেও প্রথম ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ২০০৮ সালে। বছরের শেষ টেস্টে ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে খেলতে নামে বাংলাদেশ দল। প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ২৯৩ রান করে। সাকিব আল হাসান একাই শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং লাইন আপ ঘুরিয়ে দেন। ৭০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। সাকিবের বলে আউট হন শ্রীলঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, দিলশান ও সামারাভিরারা।

বাংলাদেশ জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রান করে। সাকিব করেন ২৬। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৪০৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। এই ইনিংসে সাকিব পান ১টি উইকেট।

৫২১ রানের পাহাড়সম টার্গেট তাড়া করতে নেমে এক সময় স্বপ্নের বেশ কাছে এসে পরেছিলো বাংলাদেশ। আশরাফুল ও মুশফিক দুইজনের সাথেই বড় জুটি গড়েন সাকিব। ৯৬ রান করে সাকিব প্যাভিলিয়নে ফেরার পর হুূড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৪০৩ রানে ৬ উইকেট থেকে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত এটাই এশিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ চতুর্থ ইনিংসে। ব্যাট ও বলে দুই বিভাগেই নৈপুণ্য দেখানোয় ম্যাচ সেরা হন সাকিব আল হাসান।

২ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই নজির গড়েন সাকিব। ২য় টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৪১৯ রান সংগ্রহ করে। সাকিব ৪৯ করে আউট হন। ব্যাট হাতে অর্ধশতক না করতে পারলেও বল হাতে দারুন নৈপুণ্যে দেখান সাকিব। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করে ৪৯৬। সাকিব পান চারটি উইকেট। সাকিবের শিকার হন জনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, ইয়ান বেল ও ম্যাট প্রায়রের মতো ব্যাটসম্যানরা। একটি রানআউটও করেন সাকিব।

জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৮৫ রান করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব সর্বোচ্চ ৯৬ রান করেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ২০০৮ সালের সেই ম্যাচের মতো এই টেস্টেও সাকিব ৯৬ করে আউট হন। শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌছে যায়। ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে আম্পায়ার অনেক গুলো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে দেননি বলে অভিযোগ করেন সাকিব আল হাসান। বল ও ব্যাট দুই জায়গাতেই অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ হারার পরও সাকিব আল হাসান হন ম্যাচ সেরা।

২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট। ১ম ইনিংসে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ৩৩৮। সাকিব আল হাসান করেন ১৪৪ রান। মিরপুরে সেদিন দারুণ স্ট্রোক মেকিংয়ের মেলা বসিয়েছিলেন তিনি। সেদিন যেনো পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে আউট না হওয়ার কথা ভেবে এসেছিলেন। তবে ভাগ্য সহায় না থাকলে যা হয়, ১৪৪ রানের মাথায় মুশফিকের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারনে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে।

বাংলাদেশের ৩৩৮ রানের জবাবে পাকিস্তান করে ৪৭০। সাকিব ৮২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন।  দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব ও বাংলাদেশ দল তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ফলে ৭ উইকেটে বাংলাদেশ দলকে টেস্টটি হারতে হয়। তবে বাংলাদেশ হারলেও অসাধারণ শতক ও ৬ উইকেটের ফলে ম্যাচ সেরা হন সাকিব আল হাসান।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘ভারতের বিপক্ষে মানসিক চাপ নয়, বরং খেলতে ভালো লাগে’

রমেশ পাওয়ার যেভাবে মিরাজের ‘আইডল’ হলেন

সেদিন পুরো কলকাতা বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়!

বিশ্বকাপের প্রাইজ মানি পেতে যাচ্ছেন টাইগাররা

বাংলাদেশ ও ভারত সিরিজ দিয়ে ক্রিকেট ফেরাতে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা