বাংলাদেশের মূল ভরসা ‘পঞ্চপান্ডব’

এবারের এশিয়া কাপে শিরোপার আশা নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে গত আসরের রানার্স-আপ বাংলাদেশ। কাগজে-কলমেও শিরোপা জেতার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।  এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের মূল ক্রিকেটার সেই পাঁচ সিনিয়র। শিরোপার লক্ষ্যে পথচলা মসৃণ করতে চাই বাকিদেরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।


এশিয়া কাপে ভালো করা সম্ভব, তবে...

দলের ব্যাটিংয়ের মূল দুই ভরসা তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাটিং অর্ডারের দুই স্তম্ভ এ দুজন। দারুণ ছন্দে আছেন তামিম ইকবাল। উইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তামিম ইকবাল হাঁকিয়েছেন দুইটি শতক।

Also Read - দেশ ছাড়ল মাশরাফিরা, ম্যানেজারের ভূমিকায় ভিল্লাভারায়ন

তবে দুশ্চিন্তাটা অন্য জায়গায়। ওপেনিংয়ে নেমে তামিম ইকবালের বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য থাকলেও সমস্যা তার সঙ্গী নিয়ে। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এনামুল হক বিজয়। এশিয়া কাপে তামিম ইকবালের বিপক্ষে ইনিংস সূচনা করতে নামবেন লিটন কুমার দাস।

উইন্ডিজ  সফরে তিন ম্যাচে ওপেনিং জুটি থেকে রান এসেছে যথাক্রমে ১, ৩২ এবং ৩৫। এর আগে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে সিরিজে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একবার ওপেনিং জুটি অতিক্রম করেছে পঞ্চাশ রানের চৌকাঠ। দুই ম্যাচে উদ্বোধনী জুটি যেতে পারেনি দুই অঙ্কে। আরেক ম্যাচে রান এসেছে মাত্র ১১।

পাওয়ারপ্লেতেও রান করতে পারছে না বাংলাদেশ। গত আট ওয়ানডের চার ওয়ানডেতেই পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল চল্লিশের নিচে। তাই লিটন কুমার দাসের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

আঙুলের চোট নিয়েই খেলবেন সাকিব আল হাসান। উইন্ডিজ সফরে ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন দিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল তাকে। এশিয়া কাপেও হয়তো নামতে হবে এভাবেই। এ দেশসেরা অলরাউন্ডারের উপর অনেকটাই নির্ভর করে দলের পারফরম্যান্স। এছাড়া রয়েছে নাজমুল হাসান শান্ত’র চোটের সমস্যাও। তাই দল ঘোষণার পর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হককে।

শেষদিকে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। পারেন ঠাণ্ডা মাথায় হাল ধরতেও। উইন্ডিজ সফরের দ্বিতীয় ওয়নাডেতে ৪৬ তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নিয়েছিলেন রিয়াদ। পরের ২৯ বলে বাংলাদেশ করেছিল ৩৬। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ শেষ পাঁচ ওভারে ৫০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। যার মধ্যে রিয়াদের অবদান ছিল ১৩ বলে ২৫। নিদাহাস ট্রফিতেও শেষদিকে দারুণ ফিনিশিং করেন রিয়াদ।

পাঁচ নম্বরে নামা রিয়াদ ইনিংস লম্বা করতে না পারলে বিপাকে পড়তে হবে বাংলাদেশকে। শেষদিকে পরিস্থিতির চাহিদা মেটানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হতে পারে মোহাম্মদ মিঠুন কিংবা আরিফুল হকের। নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়া সাব্বির রহমান দলের বাইরে।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অবশ্য ফিনিশার নন। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও ছয়-সাতে খেললে তাকেই খেলতে হবে স্লগ ওভার। বল হাতেও ভূমিকা রাখার সামর্থ্য রয়েছে এ অলরাউন্ডারের।

বোলিংয়ে দলের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান এবং রুবেল হোসেন। পাওয়ার প্লে তে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখার সামর্থ্য রয়েছে মাশরাফির। শেষ পাঁচ ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে ২২ ওভার বোলিং করে ওভারপ্রতি গড়ে সাড়ে চার রান করে দিয়েছেন মাশরাফি। স্পিন আক্রমণে থাকবেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। বোলিংয়ে ব্যাকআপ হিসেবে আছেন পেসার আবু হায়দার রনি ও স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে পারফর্ম করার উপহারটা যেন পেলেন মুমিনুল হক। তিন নম্বরে ব্যাট হাতে বেশ সফল সাকিব আল হাসান যদি মাঠে না নামেন সেক্ষেত্রে সুযোগ মিলতে পারে মুমিনুলের।

গত তিন আসরের দুইবারই ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই তিন আসরই ছিল টাইগারদের ঘরের মাটিতে। এবার ওয়ানডে ফরম্যাটের এবং ছয় দলের এশিয়া কাপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দল হিসেবে সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা নেই এই বাংলাদেশ দলের। তাই বাংলাদেশের মোকাবেলা করতে হবে অচেনা কন্ডিশনের সাথেও।

গ্রুপ পর্ব থেকে শীর্ষ দুই দল যাবে পরের রাউন্ড সুপার ফোরে। সুপার ফোরের দৌড়ে কাগজে-কলমে এগিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। তবে কাজটা এতটাও সহজ হবে না। ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে মাশরাফিরা। এ ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠবে এবারের এশিয়া কাপের।

এরপর বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে হারাতে পারে আফগানিস্তান। বিশেষ করে তাদের স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে রশিদ খান আর মুজিব উর রহমানের। তার সাথে যদি পিচ থেকে পাওয়া যায় সহায়তা তবে যেকোনো দলের ব্যাটিং লাইনকে হিমশিম খাইয়ে দিতে পারে এ স্পিন আক্রমণ। তাই সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে।

২০১২ এবং ২০১৬ এশিয়া কাপে ফাইনালে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুইবারই শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। দুই ফাইনালেই হেরে রানার্স-আপ হয় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।  এবারের এশিয়া কাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছেড়েছে মাশরাফিরা।

এশিয়া কাপের ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ দলঃ মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান এবং আবু হায়দার রনি।

 

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের সূচি-

১৫ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা, দুবাই (গ্রুপ- বি)
১৬ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তান বনাম বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা দল, দুবাই (গ্রুপ-এ)
১৭ সেপ্টেম্বর- শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান, আবুধাবি (গ্রুপ-এ)
১৮ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম  বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা দল, আবুধাবি (গ্রুপ-এ)
১৯ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম পাকিস্তান, দুবাই, (গ্রুপ-এ)
২০ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, দুবাই (গ্রুপ-বি)

 


আরো পড়ুনঃ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাবে এশিয়া কাপের সব ম্যাচ


Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’