বাংলাদেশের যত টেস্ট সিরিজ জয় ও হোয়াইটওয়াশ

সফরকারী উইন্ডিজকে চট্টগ্রাম টেস্টে হারানোর পর ঢাকা টেস্টে ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে দীর্ঘ ৪ বছর পর টেস্টে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। রোমাঞ্চকর এ সিরিজ জয়ে টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের চতুর্থ সিরিজ জয়ের দেখা পেয়েছে সাকিব আল হাসানরা।

বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয়ের যত গল্প-

প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় (প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে; ব্যবধান ১-০, ২০০৫ সাল): সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ঘরের মাটিতে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০০৫ সালে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারীদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে রানের হিসেবে ২২৬ রানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় তুলে নেয় হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের উদযাপন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের উদযাপন।

দাপুটে জয়ের পর দু’দলের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ‘ড্র’ হলে ১-০ ব্যবধানে প্রথমবারের মতো নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্ট সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

Also Read - পাকিস্তানে জাতীয় দল পাঠাতে চায় না বিসিবি


দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয় (প্রতিপক্ষ উইন্ডিজ; ব্যবধান ২-০, সাল ২০০৯): জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের প্রায় চার বছর পর উইন্ডিজকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাদা পোশাকে টেস্ট সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে টেস্ট খেলতে নামলেও সিরিজের প্রথম টেস্টটি বাংলাদেশ জিতে সাকিবের অধিনায়কত্বে। ইঞ্জুরিতে পড়ে মাশরাফি মাঠ ছাড়লে তার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব। অতঃপর সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯৫ রানের জয়ের পর একাধিক তারকা ক্রিকেটারবিহীন দ্বিতীয় সারির ক্যারিবীয়ানদের গড়া দলকে শেষ টেস্টে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে সফরকারীরা।

 

 

 

উইন্ডিজকে  ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের টেস্ট সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।
উইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের টেস্ট সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো সিরিজ জয়ের ঘটনা হলেও ঐবারই প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয় ও প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই বা হোয়াইটওয়াশের সাক্ষী হয় সফরকারীরা।

তৃতীয় টেস্ট সিরিজ জয় (প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে; ব্যবধান ৩-০, সাল ২০১৮-১৯): দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়ের পর নিজেদের তৃতীয় টেস্ট সিরিজ জয়ের দেখা পেতে অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হয় বাংলাদেশের জন্য। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে দীর্ঘ ছয় বছর পর কাঙ্ক্ষিত সিরিজ জয়ের সাথে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

উইন্ডিজকে ঘরেরজিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা ঘুচায় বাংলাদেশ। মাটিতে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের টেস্ট সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা ঘুচায় বাংলাদেশ।

এবার ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ৩ উইকেটের জয়ে সিরিজ শুরুর পর সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে সফরকারীদের যথাক্রমে ১৬২ ও ১৮৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়ে টাইগাররা।

চতুর্থ টেস্ট সিরিজ জয় (প্রতিপক্ষ উইন্ডিজ; ব্যবধান ২-০, ২০১৮) : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জয়ের পর আরও একটি টেস্ট সিরিজ জিততে আবারও লম্বা সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। মাঝে অনেক সুযোগ হাতছাড়ার পর অবশেষে প্রায় চার বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও সেই উইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে অপেক্ষার অবসান ঘটে বাংলাদেশের।

উইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর।
উইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর।

ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একপেশে রাজত্ব বিস্তার করে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে সিরিজ জয়ের ভুলে যাওয়া পথেৎ আবারও সন্ধান পায় টাইগাররা। এবারও সাকিব আল হাসানের অধীনে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের দেখা পায় বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে ৬৪ রানের জয়ের পর সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে প্রতিপক্ষকে ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে উইন্ডিজকে ঘরের মাটিতে প্রথম ও সর্বোপরি দ্বিতীয়বারের মতো হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করে স্বাগতিকরা।

টেস্টে বাংলাদেশ: ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পথচলা শুরুর পর এখনো অবধি মোট ১১২টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যার মধ্যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৪ বার সিরিজ জয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ৩ বার হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে। তাছাড়া এখনো অবধি ১৩টি টেস্ট জয়ের বিপরীতে ১৬টি টেস্ট ‘ড্র’ ও ৮৩টি টেস্টে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।


আরও পড়ুনঃ ইমার্জিং কাপ: পাকিস্তানে বাংলাদেশের সাথে যাবে নিরাপত্তা দলও

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন