বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ওয়ানডে’র রোমাঞ্চকর ম্যাচে আফগানদের ৭ রানের হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে নির্ধারিত সময়ে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুরুতেই বড় ধাক্কার শিকার হয় বাংলাদেশ, ক্যারিয়ারে প্রথম শূন্য রান করে মাঠ ছাড়েন ওপেনার সৌম সরকার। তারপর ইমরুল কায়েস কে সাথে নিয়ে তামিম ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করে,সফলও হয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন ৮৩রান যোগ করার মাথায় ইমরুল মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান, করেন ৩৭ রান। তারপর মাহমুদউল্লাহ উইকেটে এসে ভালো সূচনা করেন। ইমরুল ফিরলেও তামিম আরেকটি জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে। তামিম-মাহমুদউল্লাহ’র জুটিতে যোগ হয় ৭৯ রান।

তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন

Advertisment

তামিম পেয়েছেন ক্যারিয়ারের ৩৩তম ওয়ানডে ফিফটি, রশিদ খানকে থার্ড ম্যান দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ছুঁয়েছেন ফিফটি। তারপর আস্তে আস্তে এগুতে থাকেন শতরানের দিকে, কিন্তু মিরওয়াইস আশরাফকে লং-অন দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে নাভিনের ক্যাচ হয়ে তামিম ফিরেন ব্যক্তিগত ৮০ রানে। তামিম স্পর্শ করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক। তামিমের পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে দারুণ শুরু করেন সাকিব আল হাসান। তাদের মধ্যে বোঝাপড়াও বেশ ভালো ছিল। তামিমের ন্যায় বাউন্ডারি মেরে অর্ধশত পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ, কিন্তু ইনিংসটা খুব বেশি লম্বা করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৬২ রান করে নবীর বলে ক্যাচ আউট হোন মাহমুদউল্লাহ। শেষ দিকে সাকিব আল হাসান অবশ্য জোর চেষ্টা চালালেও উইকেট পড়ে নিয়মিত। মুশফিক ফিরেন ৬ রান করে।২ রান করে ফেরা সাব্বির অবশ্য ভুল আম্পায়ারিংয়ের শিকার। সাকিব অর্ধশত তাড়া করার ২ রান আগেই ৪০ বলে ৪৮ রান করে আউট হোন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শেষ বলে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ তুলেছে ২৬৫ রান।

২৬৬ রান তাড়া করতে নেমে ভালো সূচনা করেন আফগান দুই ওপেনার। অবশ্য দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ শাহজাদকে জীবন দিলেন ইমরুল কায়েস। তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ ফস্কে যায় ইমরুলের হাত থেকে। মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা,বাংলাদেশ অধিনায়কের বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। জীবন পাওয়া শাহজাদ ২১ বলে করেন ৩১ রান। তারপর বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান,তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন আফগানিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাবির নুরি। করেন ২৪ বলে ৯ রান। এই উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ধরণের ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের মালিক হোন।

দ্রুত দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো আফগানিস্তান, প্রতিরোধ গড়েন রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শাহিদি। তৃতীয় উইকেটে এই দুই জনে গড়েন শতরানের জুটি। রুবেল হোসেনকে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক করেন রহমত। রহমত শাহর পর অর্ধশতক করেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। ওয়ানডেতে এটাই তার প্রথম অর্ধশতক।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে কঠিন একটু সুযোগ হাতছাড়া করেন রুবেল হোসেন। শাবির নুরির ক্যাচ অনেকটা দৌড়েও তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। তারপর বোংলিয়ে কোন সাফল্য আসেনি। রান করতে থাকেন তৃতীয় উইকেটের এই দুই ব্যাটসম্যান। ৩৯.৫ বলে সহজ একটি ক্যাচ হাত ছাড়া করেন মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য পরের ওভারেই রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন রহমত শাহ। ৪৩.৩ ওভারে তাইজুল ইসলামের অসাধারণ বলে হাশমতুল্লাহ শাহিদির ক্যাচ লুটে নেন সৌম সরকার, শাহিদি ফিরেন ৭২ রান করে। সফরকারীদের দলীয় ২৩০ রানের মাথায় ৪৫.৩ ওভারে অধিনায়ক মাশরাফির বলে মুশফিকের ক্যাচে শিকার হোন জাদরান। ৪৭.৪ ওভারে তাসকিনের বলে উড়ে মারতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে তালুবন্ধি হোন মোহাম্মদ নবী। ২৪ বলে করেন ৩০ রান। একটি বল না যেতেই আবার তাসকিনের বলে মাহমুদউল্লাহ’র ক্যাচে শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন আসগর। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১০ রান। আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৮ বলে ১৭ রান, বোলিংয়ে রুবেল হোসেন। চার মেরে পরের বলেই রুবেলের শিকার হোন রাশেদ খান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৩ রান, বোলিংয়ে তাসকিন। প্রথম বলে আসে ২ রান, দ্বিতীয় বলে আউট হোন আশরাফ। তৃতীয় বলে আসে অতিরিক্ত ১ রান, চতুর্থ বলে ২ রান, তারপর ডট বল। শেষের বলে সাব্বিরের ক্যাচে আউট হয়ে অল আউট হয় সফরকারীরা। টানটান উত্তেজনা ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ রানের ব্যবধানে জিতে নেয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

মাসুদ আনসারী