বাংলাদেশের সামনে ইনিংস পরাজয়

যেই উইকেটে স্বাগতিক উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা রান করেছেন ৪০৬, সেখানে দুই ইনিংসেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ইনিংসের মতো দুঃস্বপ্নের ব্যাটিং রয়েছে দ্বিতীয় ইনিংসেও। অবশ্য প্রথম ইনিংসে যিনি গুড়িয়ে দিয়েছেন সেই কেমার রোচ চোটের কারণে বোলিং না করলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল অব্যাহত ছিল।

বাংলাদেশের সামনে ইনিংস পরাজয়
ছবিঃউইন্ডিজ ক্রিকেট

অ্যান্টিগায় ২ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে তাদের ৪০৬ রানে অলআউট করে দেন বোলাররা। কিন্তু প্রথম ইনিংসের চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বোলারদের কাজটার কোনো প্রভাবই পড়েনি ম্যাচে। ৩৬৩ রানের এক বিশাল লিড নেয় স্বাগতিকরা।

Advertisment

দ্বিতীয় দিন দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নামা দেবেন্দ্র বিশু পরিচয় দেন দারুণ দৃঢ়তার। ৭৯ বল ক্রিজে টিকেছিলেন তিনি। রাব্বির বলে বোল্ড হন তিনি। দারুণ ডেলিভারিতে উড়িয়ে দিয়েছিলেন অফ স্টাম্প। প্রথম সেশনে এটিই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য।

দ্বিতীয় সেশনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে থাকেন স্পিনাররা। এক সেশনে চার উইকেট তুলে উইন্ডিজের রানের পাহাড় বড় হতে দেননি স্পিনাররা। টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক হাঁকানো ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান সাকিব আল হাসান। সাকিবের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে। ১১ চারে ২৯১ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

এরপর মেহেদি হাসান মিরাজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোস্টন চেজ। ২ রান করেন তিনি। ৪ রান করেই ফিরে যান শেন ডাওরিচ। সাকিবের বলে ব্যাট ছুঁয়ে তার পায়ে লেগে চলে যায় সিলিতে থাকা লিটন দাসের হাতে। আরেকটি দারুণ ক্যাচ নেন তিনি। ২৭২ রান থেকে ২৮৮ তে পৌঁছাতেই তিন উইকেট হারায় উইন্ডিজ।

সপ্তম উইকেটে শাই হোপকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন জেসন হোল্ডার। দুজন মিলে গড়েন ৫০ রানের জুটি। ২ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ বলে ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে আউট হন হোল্ডার। তাকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। এ উইকেট শিকার করে মোহাম্মদ রফিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম ৫০ উইকেট  শিকারী হন তিনি। ব্যাটিংয়ে এসে দৃঢ়তার পরিচয় দেন কেমার রোচও। বোলিংয়ে আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে করেন ৩৩ রান। তাকে নিয়ে হোপ গড়েন ৫৬ রানের জুটি। অর্ধশতক তুলে নেন হোপ। এ জুটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

এরপর হোপ ও গ্যাব্রিয়েলকে ফিরিয়ে দেন আবু জায়েদ। ৬৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন হোপ। গ্যাব্রিয়েলের ব্যাট থেকে আসে ৫। মিরাজ ও আবু জায়েদ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। দুই উইকেট পান সাকিব আল হাসান। একটি করে উইকেট লাভ করেন রাব্বি ও মাহমুদউল্লাহ।

বিশাল লিড মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হারাতে হলো ওপেনার তামিম ইকবালকে। দুই চার হাঁকিয়ে ১৩ রান করেই বিদায় হন গ্যাব্রিয়েলের লাফিয়ে উঠা বলে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে চার হাজার রানের ক্লাবে পা রাখলেও সেই মাইলফলক ম্লান হয়ে যায় ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে। ঐ ওভারে এক বল পরেই বোল্ড মুমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে ১ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরে গিয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই।

এরপর লিটন দাস ফিরে যান জেসন হোল্ডারের বলে। ব্র্যাথওয়েটের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ২ রান করে। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম যোগ করেন ২০ রান। এ জুটিটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য এ ম্যাচে সর্বোচ্চ। এরপর গ্যাব্রিয়েলের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন মুশফিক। এমন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক ছিল দৃষ্টকটু। ১২ রান করে সাকিব আল হাসান হন গ্যাব্রিয়েলের চতুর্থ শিকার।

প্রথম ইনিংসের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বটে। প্রথম ইনিংসের ৪৩ রান এবার বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটের বিনিময়ে! ৫০ রানের মাথায় আউট হন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেষ বিকেলে বিদায় নিতে পারতেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নো বল হওয়ায় ক্যাচ আউট থেকে রেহাই পান তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৩, ১৮.৪ ওভার
লিটন ২৫, রুবেল ৬, তামিম ৪
রোচ ৫/৮, কামিন্স ৩/১১, হোল্ডার ২/১০

উইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৪০৬, ১৩৭.৩ ওভার
ব্র্যাথওয়েট ১২১, হোপ ৬৭, হোল্ডার ৩৩, রোচ ৩৩
আবু জায়েদ ৩/৮৪, মিরাজ ৩/১০১, সাকিব ২/৭১

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৮ ওভারে ৬২/৬
মাহমুদউল্লাহ ১৫*, তামিম ১৩, সাকিব ১২
গ্যাব্রিয়েল ৪/৩৬, হোল্ডার ২/১৫, কামিন্স ০/১০


আরো পড়ুনঃ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়