Scores

বাংলাদেশের স্পিনে ফের বিপাকে ফলো-অনে পড়া উইন্ডিজ

টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষ ফলো-অন করিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন সকালে শেষ পাঁচ উইকেট পুঁজি নিয়ে নামা উইন্ডিজরা টিকতে পারেনি এক ঘণ্টাও। ১১১ রান করে গুটিয়ে গিয়েছে তারা। ফলো-অনে পড়া উইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসেও ধুঁকছে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলাতে গিয়ে। প্রথম সেশনে দুই ইনিংস মিলিয়ে এগারোটি উইকেট হারিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের স্পিনে ফের বিপাকে ফলো-অনে পড়া উইন্ডিজ ২
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

Also Read - মাশরাফিকে টপকালেন মিরাজ


প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এবারও একই ঘটনা। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের শিকার হলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। সাকিব আল হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট।

এরপর আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়া মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে জীবন পেয়েছিলেন কায়রন পাওয়েল। বাইরে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কিনারায় লাগে বল। মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে যায় স্লিপে। সেখানে ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কায়রন পাওয়েলের ক্রিজ থেকে বাইরে আসার প্রবণতা হয়তো খেয়াল করেছিলেন মিরাজও। দলীয় ১৪ রানের মাথায় ফের  ডাউন দ্যা উইকেটে চলে আসেন কায়রন পাওয়েল। মিরাজ বুঝতে পেরে বল করেন কিছুটা শর্টে ও অফ স্টাম্পের বাইরে। বল পাওয়েলের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। সহজ সুযোগ নষ্ট করেননি মুশফিক।

ইনিংসের একাদশ ওভারে আক্রমণে আনা হয় তাইজুল ইসলামকে। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পান তাইজুল ইসলাম। নিচু হওয়া ডেলিভারি আঘাত হানে সুনীল অ্যাম্ব্রিসের প্যাডে। এলবিডব্লিউ হলেও রিভিউ নিলেও বাঁচেননি তিনি। নিজের পরের ওভারে আবারো উইকেট পান তাইজুল ইসলাম। এবার তার শিকার হন রোস্টন চেজ। এক্সট্রা কাভারে ড্রাইভ করেছিলেন রোস্টন চেজ। সেখানে ছিলেন ফিল্ডার মুমিনুল হক। দারুণভাবে ক্যাচটি লুফে নেন তিনি।

এর আগে ১১১ রান করেই অলআউট হয় উইন্ডিজ।  ৩৯৭ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।  সকালে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে খেলতে নামে উইন্ডিজরা। থিতু হয়ে যাওয়া শিমরন হেটমেয়ারকে ফিরিয়ে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন তিনি। ৫৩ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন হেটমেয়ার। তার ইনিংসে ছিল তিন চার ও এক ছক্কা। সঙ্গী শেন ডাওরিচকে তার আগে ফেরানোর সুযোগ আসলেও ক্যাচ ফসকালে সে সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।

নিজের পরের ওভারে আবারো উইকেট পান মিরাজ। এবার তার শিকার হন দেবেন্দ্র বিশু। ১ রান করে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। বল বুকে লেগে হাতে চলে আসে সাদমান ইসলামের। এরপর কেমার রোচকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। উড়িয়ে মারতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন কেমার রোচ।

বাংলাদেশের স্পিনে ফের বিপাকে ফলো-অনে পড়া উইন্ডিজ ৩
প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেন মিরাজ।

শেন ডাওরিচকে নিজের সপ্তম শিকারে পরিণত করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৭৫ বলে ৩৭ রান করে এলবিডব্লিউ হন শেন ডাওরিচ। পরের ওভারে শারমন লুইসকে ফিরিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। অলআউট হয় উইন্ডিজ।

৫৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করা মেহেদি হাসান মিরাজের এটিই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার। টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা বোলিং এটি। এছাড়া এ টেস্টে উইকেটসংখ্যার দিক দিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে টপকে গিয়েছেন তিনি। বাকি  তিন উইকেট পান সাকিব।

সংক্ষিপ স্কোর

বাংলাদেশ ৫০৮/১০, প্রথম ইনিংস, ১৫৪ ওভার
রিয়াদ ১৩৬, সাকিব ৮০, সাদমান ৫৪
ব্র্যাথওয়েট ২/৫৭, রোচ ২/৬১, বিশু ২/১০৯

উইন্ডিজ ১১১/১০, প্রথম ইনিংস, ৩৬.৪ ওভার
হেটমেয়ার ৩৯, ডাওরিচ ৩৭, হোপ ১০
মিরাজ ৭/৫৮, সাকিব ৩/২৬

উইন্ডিজ ৪৬/৪, ফলো-অন, দ্বিতীয় ইনিংস (তৃতীয় দিন প্রথম সেশন পর্যন্ত), ১৬ ওভার
হোপ ১৮*, হেটমেয়ার ১৩*
তাইজুল ২/১১, মিরাজ ১/১৮, সাকিব ১/১০


আরো পড়ুনঃ   প্রথম ওয়ানডে দিয়েই ফিরতে চান তামিম


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

সিরিজ জিতে নিল নিউজিল্যান্ড

পুজারার শতকে মুখ বাঁচাল ভারত

মিরাজের প্রশংসায় সাকিব

সাকিবের অনেক চাওয়া-পাওয়ার সিরিজ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দশ উইকেটকে এগিয়ে রাখছেন মিরাজ