Scores

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণিতে না খেলে নয় টেস্টে অংশগ্রহণ

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যেন রাজ্যের অনীহা। জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্যদের মধ্যে খুব কম ক্রিকেটারই রয়েছেন, যারা জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) বা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) মত আসরে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

প্রথম-শ্রেণিতে-না-খেলে-নয়-টেস্টে-অংশগ্রহণ
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট জয়। ছবি: এপি

সম্প্রতি উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলের ভরাডুবির পর আবারও আলোচনায় আসে ইতিপূর্বে একাধিকবার সমালোচনার জন্ম দেওয়া বিষয়টি। দলের ব্যর্থতায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই হয়ত গত শুক্রবার খেলোয়াড়দের একহাত নিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার টেস্ট খেলতে আগ্রহী নন। সেই সাথে আভাস দিয়েছিলেন টেস্ট দলে পরিবর্তন আনারও।

তবে বিসিবি সভাপতির বক্তব্যকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। ক্রিকেটের প্রাণ ধরা হয় টেস্ট ক্রিকেটকে, আর সেই টেস্ট ক্রিকেটের মূল ভিত্তি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির আসর। অথচ বাংলাদেশের সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা তো ঠিকই এড়িয়ে চলছেন এনসিএল কিংবা বিসিএলের মত আয়োজন!

Also Read - শৃঙ্খলা ভেঙে নিষিদ্ধ গুনাথিলাকা


নাজমুল হাসান পাপন টেস্ট দলে পরিবর্তন আনার যে সংকেত দিয়েছিলেন, সেটিই এবার সত্যি হতে যাচ্ছে; তবে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। টেস্ট ক্রিকেটের দূরাবস্থা দূরীকরণে এবার একটু কঠোর হচ্ছে বিসিবি। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ না নিলে এখন থেকে জায়গা পাওয়া যাবে না টেস্ট দলে। আর এতে প্রয়োজন অনুযায়ী দলে পরিবর্তন আনার সুযোগটিও পাবেন নির্বাচকরা।

আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখার সময় বেশিরভাগ ক্রিকেটারেরই ফ্যান্টাসি থাকে টেস্ট ক্রিকেটে। তবে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের যেন টেস্টে চলে আসে অনাগ্রহ। এর অনেক দৃষ্টান্তও দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, টেস্টে বাংলাদেশ দলের নড়বড়ে পারফরম্যান্সের কারণ লঙ্গার ভার্শনে ক্রিকেটারদের উদাসীনতা। আর এর অন্যতম প্রধান বাহক ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অনগ্রসরতা।

এমন ‘সংকটপূর্ণ’ পরিস্থিতিতে নতুন নিয়ম করছে বিসিবি, যার আওতায় টেস্ট দলে জায়গা পেতে হলে এনসিএল এবং বিসিএলে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে বলেন, এনসিএল এবং বিসিএলের আগামী আসর থেকে আমরা এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। আগে এই ব্যাপারে আমরা নমনীয় থাকলেও এখন আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করতেই হচ্ছে, কারণ আমরা খেয়াল করেছি কিছু খেলোয়াড় রয়েছে যারা লঙ্গার ভার্শনে অংশগ্রহণ করতে চায় না।’

প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেই একজন ক্রিকেটার অর্জন করেন টেস্টের পরিপক্বতা, যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লঙ্গার ভার্শন হয় ঘরোয়া ক্রিকেটের চেয়েও অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। টেস্টে ভালো করতে হলে তাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার যথার্থ কোনো বিকল্প নেই। ভিনদেশি লিগ ও বিশ্রামের অজুহাতে বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের অনেকেই এনসিএল ও বিসিএলে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এখন থেকে এর পরিণতি হবে টেস্ট দলে জায়গা হারানো।

ইউনুস বলেন, যখন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার কথা আসে, আমাদের খেলোয়াড়েরা সেটি এড়িয়ে চলার জন্য কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করান। আমরা দীর্ঘকালস্থায়ী একটি নিয়ম চালু করতে যাচ্ছি, যার আওতায় কোনো খেলোয়াড় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে না খেলে টেস্ট দলের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন না।’

অ্যান্টিগা টেস্ট ও জ্যামাইকা টেস্টের দৃষ্টিকটু ব্যর্থতার পর প্রশ্ন উঠছেই- টেস্ট ক্রিকেটের প্রকৃতি কতটা বোঝেন ক্রিকেটাররা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিসিবি আশ্রয় নিচ্ছে কঠোর নিয়মের গণ্ডিতেই। বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিচালক বলেন, এভাবে চলতে পারে না। কারণ আমাদের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সবটুকু শক্তি ঢেলে দেওয়ার বদলে লম্বা ভার্শনের ক্রিকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আপনি যদি আমাদের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন টেস্টের ফলাফলগুলো আমাদের জন্য অশনিসংকেত হয়ে এসেছে কারণ আমরা আমাদের যোগ্যতা প্রমানে ব্যর্থ হয়েছি। আর এটি হয়েছে আমাদের স্কিল এবং টেম্পারমেন্টের অভাবের কারণে।’

আরও পড়ুন: নিজভূমে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ফুলে ফেঁপে উঠল ভারতের কোষাগার

হেসন বাদ পড়ার কারণ তবে এই!

বৃষ্টির দাপট আর করুনারত্নের প্রতিরোধে শুরু কলম্বো টেস্ট

আমিরকে টেস্টে ফেরার আহ্বান শোয়েবের

শেবাগের চাওয়া— কোহলিদের দল নির্বাচন করবেন কুম্বলে