বাংলাদেশ-উইন্ডিজের অলিখিত ফাইনাল

তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা। বাংলাদেশ বনাম উইন্ডিজের সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ তাই সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ। তৃতীয় ম্যাচ যেন হয়ে উঠেছে অলিখিত ফাইনাল। সিরিজের শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সাড়ে সাতটায়।

Advertisment

প্রথম ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের ১৩০ রান আর সাকিব আল হাসানের ৯৭ রানের ইনিংস এবং শেষে মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ৩০ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজার চার উইকেটের সুবাদে ৪৮ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় ছিল ম্যাচ। হাতে ছয় উইকেট নিয়েও শেষ সাত বলে আট রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষে ভজকট পাকিয়ে তিন রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচ তিন রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। হেটমেয়ারের ১২৫ রানের সুবাদে ২৭১ রান করা উইন্ডিজের জবাবে সাকিব-তামিম-মুশফিক এ তিন ব্যাটসম্যানের অর্ধশতকে ভর করে ২৬৮ রান করে বাংলাদেশ।

তৃতীয় ম্যাচে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি বাংলাদেশের। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে দারুণ ফর্মে আছেন অভিজ্ঞরা। ব্যাট হাতে দুই ম্যাচেই রান পেয়েছেন সাকিব-তামিম-মুশফিক। প্রথম ম্যাচে ১৩০ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন তামিম। তবে মাঝের ওভারে তার মন্থর ব্যাটিং চাপে ফেলেছে বাংলাদেশকে। সাকিব আল হাসান দুই ম্যাচে করেছেন ১৫৩ রান। মুশফিকুর রহিম দুই ম্যাচেই দলের প্রয়োজনে খেলেছেন সময়োপযগী দুইটি অসাধারণ ইনিংস।

বোলিংয়ে ছন্দে আছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজা। মাশরাফি বিন মুর্তাজা ও মেহেদি হাসান মিরাজ মিলে দুই ম্যাচেই আটকে রেখেছে উইন্ডিজের দুই বিস্ফোরক ওপেনার ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে তাদের খোলসবন্দী করে রকাহতে চাইবেন এ দুই বোলার।

ব্যাটিং বোলিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের নজর দিতে হবে ফিল্ডিংয়ের দিকেও। ফিল্ডিংয়ে শিমরন হেটমেয়ারের ক্যাচ ফসকানো ছাড়াও গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে টুকটাক ভুল সহায়তা করেছে উইন্ডিজকে।

স্বাগতিকদের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল এবং এভিন লুইসের কেউ বড় স্কোর গড়তে পারছেন না। টপ অর্ডারে হয়নি বড় জুটি। তা নিয়ে উইন্ডিজদের দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। তবে মিডল অর্ডারে দুর্দান্ত ফর্মে তরুণ শিমরন হেটমেয়ার। দুই ম্যাচেই করেছেন দলের সর্বোচ্চ রান। প্রথম ম্যাচে ৫২ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন ১২৫ রান। পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। তৃতীয় ওয়ানডেতে তাই হেটমেয়ারকে আটকানোর পরিকল্পনার ছক কষতে হবে বাংলাদেশকে।

বোলিংয়ে গায়ানায় প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ভালোই ভুগিয়েছেন উইন্ডিজ স্পিনাররা। অ্যাশলে নার্স আর দেবেন্দ্র বিশু আটকে রেখেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান। গায়ানার উইকেট বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক ছিল। সেন্ট কিটসের উইকেট থেকেও স্পিনাররা সহায়তা পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে বিশু আর নার্স হবেন ক্যারিবিয়ানদের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ২২ রান করা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান জেসন মোহামেদের বদলে দেখা যেতে পারে কিরন পাওয়েলকে

২০০৯ সালে সর্বশেষ দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আর দেশের বাইরে সিরিজ জেতার সুখস্মৃতি নেই। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ২০১৬ সালে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। শনিবারের ম্যাচে দুই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।

সম্ভাব্য একাদশঃ

বাংলাদেশঃ তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মুর্তাজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং মুস্তাফিজুর রহমান।

উইন্ডিজঃ ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, সাই হোপ, কিরন পাওয়েল, শিমরন হেটমেয়ার, কিরন পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডার, অ্যাশলে নার্স, কিমো পল, দেবেন্দ্র বিশু এবং আলজারি জোসেফ।


আরো পড়ুনঃ  ভনকে এক হাত নিলেন রশিদ