বাংলাদেশ টি-২০ দল যদি আয়নাতে তাকায়

টি-২০ ক্রিকেটে বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ছয়ে থাকলেও একটা বড় সময় কাটাতে হয়েছে নয়-দশ নম্বরে৷ বিশ্বকাপ শেষে র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমনের পথেই আছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত অর্জনের পাল্লা তেমন ভারী না, দর্শকদের প্রত্যাশা থেকে অবস্থান বহুদূরে! যথারীতি চলছে ভুল থেকে শেখার প্রতিশ্রুতি।

বাংলাদেশ টি-২০ দল যদি আয়নাতে তাকায়
স্মৃতির বা পরিসংখ্যানের আয়নার সামনে যদি বাংলাদেশ টি-২০ দল দাঁড়ায় তাহলে দেখা যাবে এক ঘোলা প্রতিবিম্ব। না, আয়না ঘোলা নয়! বরং ঘোলাটে বাংলাদেশের টি-২০ পারফরম্যান্স। আয়নাতে বাংলাদেশ টি-২০ দল নিজেদের দেখবে যখন, নিশ্চিতভাবেই সাদা-কালো পারফরম্যান্স পড়বে চোখে।

Advertisment

কোনো বহুজাতিক টি-২০ টুর্নামেন্ট এখনো জিতেনি বাংলাদেশ। প্রাপ্তি বলতে ২০১৬ টি-২০ এশিয়া কাপ ও ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে রানার-আপ হওয়া।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে ১১৬ আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ। এর মধ্যে জিতেছে মাত্র ৪৩ ম্যাচে, পরাজয়ের সংখ্যা ৭১। শতকরা জয়ের হার ৩৭.৭১। দেশের বাইরে আরও নিস্প্রভ বাংলাদেশ দল, ৬৭ ম্যাচে মাত্র জয় ১৯ ম্যাচে।  র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দশ দলের মাঝে এ শতকরা জয়ের হার সর্বনিম্ন। আজ থেকে তিন বছর আগেই আফগানিস্তানের কাছে টি-২০ তে হোয়াইটওয়াশও হয়েছে বাংলাদেশ।

পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করা দেশগুলোর মধ্যে শুধু আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেড টু হেডে এগিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমান সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২ বার, হং কংয়ের বিপক্ষে ১ বার এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১ বার হারার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের।

টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে আরো বিবর্ণ বাংলাদেশ দল। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে আর কোনো পূর্ণ সদস্যকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। উলটো হেরেছে আয়ারল্যান্ড, হং কং ও  স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।   

বিশ্বকাপে বড় দলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারে না বাংলাদেশ, বেশির ভাগ ম্যাচেই থাকে অসহায় আত্মসমর্পণ। যে সব ম্যাচে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত, সেসব ম্যাচে হাস্যকর ভুলের কারণে বরণ করতে হয়েছে করুণ পরিণতি। হাতে তিন উইকেট থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিপক্ষে ২০১৬ সালের আসরে তিন বলে দুই রান করতে ব্যর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। ঐ আসরেই নিউজিল্যান্ডকে ১৪৫ রানে বেঁধে রেখে ৭০ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। 

এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের আশা জাগিয়েও দুইবার সহজ সুযোগ নষ্ট করে ম্যাচ লঙ্কানদের উপহারই দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডে ওমানের বিপক্ষেও ছিল ক্যাচ মিসের মহড়া। 

অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলেই বেরিয়ে আসে টি-২০ ক্রিকেটের কঙ্কালসার অবস্থা! বর্তমানে টি-২০ বোলার র‍্যাঙ্কিংয়ে যেখানে প্রথম সাতজনের পাঁচজনই লেগ স্পিনার সেখানে কোনো নিয়মিত লেগি নেই বাংলাদেশ দলে। দীর্ঘদিন ধরে স্লগ ওভারে পাওয়ার হিটারের অভাব তো আছেই।

ওপেনিং জুটি যেখানে যেকোনো দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা সেখানে বাংলাদেশের জন্য ওপেনিং জুটি হলো সবচেয়ে শঙ্কার নাম! প্রতি বলেই যেন উইকেট পড়ার ভয়! ওপেনাররা ব্যাট করার সময় যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে তা অন্য দলের বেলায় ঘটে লোয়ার অর্ডারের কেউ ব্যাট করতে নামলে!

বাংলাদেশ টি-২০ দল যদি আয়নাতে তাকায়

এ বছর ১৯ আন্তর্জাতিক টি-২০ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাত্র দুইটি ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে নিরবিচ্ছিন্ন ছিল ওপেনিং জুটি। যার মধ্যে একটি জুটি শতরান অতিক্রম করেছে।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এ ফরম্যাটে দলের এমন রুগ্ন দশা থেকে বের হইতে চাইলে বাড়াতে হবে ক্রিকেটারদের সামর্থ্য, চাপ সামাল দিতে পারা ও মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষমতা। সাথে প্রয়োজন জেতার তীব্র ক্ষুধা।

পাশাপাশি  ফরম্যাটের জন্য ক্রিকেটারদের তৈরি করতে এবং নতুনদের মাঝ থেকে টি-২০ স্পেশালিস্ট খোঁজার দায়িত্বটা নিতে হবে বোর্ডের। নতুবা আয়নার সামনে দাঁড়ানোর অবস্থায় থাকবে না টি-২০ টিম!


বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।