বাধ্য হয়ে অবসর নিয়েছিলেন মাশরাফি

0
706

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা যখন আচমকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে সেটা তার স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত না। এতদিন পরে সেই ব্যাপারে মুখ খুললেন তিনি।

বাধ্য হয়ে অবসর নিয়েছিলেন মাশরাফি

Advertisment

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি হঠাৎ করেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কায় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসের সময় তিনি জানিয়েছিলেন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মাশরাফি।

অনেকটা অভিমানের সুরেই মাশরাফি বলেন নিজের প্রয়োজনের সময়ে তিনি কারো কাছে সহযোগিতা পাননি। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে দলে টিকে থাকতেও চাননি তিনি। তাই বাধ্য হয়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অবসর নিয়েছিলেন।

মাশরাফির ভাষায়, ‘সরাসরি বলি ওখানে আমাকে করতেই (অবসর) হতো, এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল। আমার সময়ে আমি কার কাছে সহযোগিতা পেয়েছি? ২০১১ বিশ্বকাপের আগে চিকিৎসক আমাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পরেও আমাকে নেওয়া হয়নি। এরপরে ২০১৭ সালে যখন আমি অবসরে গেলাম, তখনও আমি কাউকে কিছু বলিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কায় টিম হোটেলে পৌঁছাই, তখনই আমার সাথে একটা বৈঠক বসে। ওটার পরেই আমি বুঝতে পারি যে কিছুটা ঘটছে। টি-টোয়েন্টি জিনিসটা যখনই আসে তখনই দেখি যে একটা অন্যরকম কিছু। আমিও ভাবলাম সবার বিপক্ষে থাকার দরকার নেই। তখন আমি ওয়ানডে থেকেও কেন অবসর নিইনি এই প্রশ্ন আসতে পারে। তার কারণ আমিও একজন খেলোয়াড়।’

মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের স্বীকৃতি দিতে চাওয়া হলেও তিনি রাজি নন, এমন কথা গণমাধ্যমে একাধিকবার শোনা গিয়েছে। কিন্তু মাশরাফি বলছেন তাকে এমন কথা বলা হয়নি।

‘আনুষ্ঠানিকভাবে কথা কোথায় হয়েছে? সারাবিশ্বের আনুষ্ঠানিকতা আপনারা দেখেননি? আর এটা পাপন ভাইয়ের দোষ কেন হবে? এখানে তো বোর্ড সভাপতির ডাকার কথা না। সবার আগে নির্বাচকরা ও কোচ এভাবে বলবেন যে ঠিক আছে, তুমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ১৮-২০ বছর খেলেছেন। আমরা এখন এগোতে চাই। সামনের বিশ্বকাপে আমি খেলব না এটাই তারা চাচ্ছে। বলতে পারতো নির্দিষ্ট একটা ম্যাচ আছে ওটা তুমি খেলে সরে যেতে পারো।

‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানিয়ে দিতে পারতো, গণমাধ্যমে এসে বলতে হবে এমন তো না। কেবল জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে পাপন ভাই আমাকে কিছু বলেছিলেন, কিন্তু সরাসরি বলতে পারেননি। বুঝেছিলাম এটা বলা উনার জন্যও কঠিন। কিন্তু আপনি যখন পেশাদার হবেন, তখন পেশাদারি মনোভাবই দেখাতে হবে।’