Scores

‘বাবা ওপারে বসে আমার খেলা দেখে খুশি হন’

তামিম ইকবাল খান- বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নামকরা খান পরিবারের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম। ক্রীড়ামোদী পরিবারের প্রায় সবাই-ই কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন খেলাধুলার সাথে। ফুটবলার বাবা ইকবাল খান ছিলেন পরিবারের পথদ্রষ্টা। চাচা আকরাম খান ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক, যিনি ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এখনও। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাওয়া বড়ভাই নাফিস ইকবালও একসময় খেলেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলে। নিজে বনেছেন সময়ের বিশ্বসেরা ওপেনারদের একজন।

তামিমের ইঞ্জুরি গুরুতর নয়

২০ মার্চ ২৯তম জন্মদিন পার করা তামিম সম্প্রতি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে। সেখানে উঠে আসে তামিমের ক্যারিয়ারের যাত্রার কথা, উঠে আসে তার ক্রিকেট জীবনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের কথা। এ সময় তামিম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তার বাবাকে।

Also Read - সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলের পদত্যাগ!


খেলোয়াড় পরিবারের সন্তান হওয়ায় তামিমের জন্য খেলাধুলা বেছে নেওয়া ছিল সহজ। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য খেলাধুলাকে বেছে নেয়াটাই সহজ ছিল। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ যখন আইসিসি কোয়ালিফায়ারে চ্যাম্পিয়ন হলো, তখন ক্রিকেট একটা নতুন ট্রেন্ড ছিল। খুব বেশি জনপ্রিয় ছিল না।’

ক্রিকেটের প্রতি তামিমের প্রেম ছিল ছোটবেলা থেকেই। আর এই আগ্রহটা জন্ম নিয়েছিল চাচা আকরাম খানকে দেখে। বড় ভাই নাফিস ইকবালও যুগিয়েছিলেন সমর্থন। তামিম বলেন, ‘যেকোনোভাবে ছোটবেলা থেকে আমি ক্রিকেট খুব পছন্দ করতাম। সম্ভবত আমর চাচার কারণে। তখন তিনি সবখানে ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন এবং তাকে সবাই অনুসরণ করতো। আমার বড় ভাইও ক্রিকেট খেলত।’

তামিম যে সময়ে উঠে এসেছেন, তখনও দেশে ক্রিকেট এখনকার মতো এতো জনপ্রিয় হয়নি। বাবা-মায়েরা ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর চেয়ে অন্য পেশায় যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন বেশি। তবে এমন বাধা আসেনি তামিমের জীবনে। আর তাই জানালেন- ক্রিকেটে আসাটাও তার জন্য ছিল না কোনো চমকের মতো, ‘ক্রিকেটে আসাটা আমার জন্য সারপ্রাইজ ছিল না। আপনি যদি কখনো চট্টগ্রাম ভ্রমণ করেন, দেখবেন আমার বাসা স্টেডিয়ামের খুবই কাছে। পুরোনো টেস্ট ভেন্যু। আমার বাসা থেকে স্টেডিয়ামে পায়ে হেঁটে যেতে পাঁচ মিনিটের মতো সময় লাগে।

নিজে ফুটবলার হলেও তামিমের বাবা ইকবাল খানের চাওয়া ছিল, পরিবারের ছোট ছেলে তামিম হবেন ক্রিকেটার। আর সেজন্য ছেলেকে যুগিয়ে গেছেন সর্বাত্মক সমর্থন। একটি রোগের কারণে পা হারিয়ে ফেলার পরও চালিয়ে গেছেন আম্পায়ারিং, আর সেই সময়ে তামিম নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়েছেন বাবার ছায়াতলে।

তামিম বলেন, ‘আমার বাবা সবসময় চাইতেন আমি ক্রিকেট খেলি। তিনি বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত তিনি একটি রোগের কারণে পা হারিয়ে ফেলেছিলেন। কৃত্রিম পা নিয়ে তিনি আম্পায়ারিং করতেন। আমি ব্যাটিং করতাম।’

তামিমকে ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন থেকেই হয়ত, ইকবাল খানের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে জাতীয় দলে খেলতে দেখারও। বাবার সাথে তামিমের ছিল ভীষণ সখ্যতা। তামিম জানান, ‘তার স্বপ্ন ছিল আমি যেন বাংলাদেশের হয়ে খেলি। বাবার সাথে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সাধারণত মায়ের সাথে ছেলেদের সম্পর্ক একটু বেশি গাঢ় হয়। কিন্তু বাবার সাথে আমার সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল।

তামিমের ক্রিকেটের প্রতি বাবার অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ পায় তামিমের এই কথা থেকে। তামিম জানান, বাবা ইকবাল খান মারা যাওয়ার আগেও তামিমকে বলেছিলেন, সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি তামিমের খেলা দেখবেন। পরকালে পাড়ি জমানো বাবার সেই প্রেরণা থেকেই ক্রিকেট চালিয়ে যান তামিম পুরোদমে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে। আমি অনূর্ধ্ব-১৩ ক্রিকেট খেলব। বাবা মারা গেলেন। বাবা মারা যাওয়ার আগে আমাকে শেষ কথাটি বলেছিলেন, চিন্তা করো না। ঘুমাতে যাও। আমি আসব এবং আগামীকাল তোমার খেলা দেখব। এরপর থেকে আমি নিয়মিত খেলে গিয়েছি।’

তামিম আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে এবং আমার ভাইয়াকে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, তিনি ওপারে বসে আমার খেলা দেখে খুশি হন।’

আরও পড়ুনঃ ট্রাফিক জ্যামে খেলায় বিঘ্ন

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

পাকিস্তান সফরের আগেই নতুন বোলিং কোচ

এবারের বিপিএল আলাদা হওয়ার কারণ জানালেন আকরাম

বোলারদের ফর্মে ফেরার অপেক্ষায় রংপুর

যে কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল খেলার অনুমতি দিল বিসিবি

পাকিস্তান সফর: অপেক্ষা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের