SCORE

সর্বশেষ

বারবার কেন সাকিবকে নিয়ে নির্বাচকদের টানাটানি?

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তিনি। শুধু তাই না, জাতীয় দলের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার দলে থাকা মানে দুইজন ক্রিকেটারের সমান সার্ভিস পাওয়া। এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে নির্বাচকদের আচরণ রীতিমত আশ্চর্যজনক। ইনজুরি আক্রান্ত সাকিবের পুরো সেরে উঠার অপেক্ষা না করেই বারবার দলভুক্ত করা আবার শেষে তাতে ক্ষান্ত দেওয়া নির্বাচকদের এমন অদ্ভুত আচরণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। দেশের সেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন টানাটানি আসলে কতোটা যুক্তিসঙ্গত?

অশনি সংকেতের বার্তা দিয়েছেন সাকিব

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে সাকিবকে রাখা হলো যখন, তখনই একপ্রস্থ সমালোচনা হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শের অপেক্ষা না করেই তাকে দলে রাখা হয়েছিলো সেবার। সাকিব নিজেও জানিয়েছিলেন তার না খেলতে পারার কথা। অথচ তার সাথে পুরো আলোচনা না করেই অমন অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। যাই হোক, পরে নির্বাচকেরা বিষয়টা বুঝতে পেরে তাকে বাদ রেখে দলে নেওয়া হয়েছিল অভিষিক্ত তরুণ স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে। সেই সিরিজে ভরাডুবি হয়েছিলো বাংলাদেশের। সাকিব ছাড়া এই দলটি যে অপূর্ণ সে আর বোলার অপেক্ষা রাখেনা। ফলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে তিনজাতি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে হেরে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই হয়তো এবারও সাকিবকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু, তাই বলে একই ভুল বারবার? সাকিব পুরো সেরে না উঠতেই তাকে নিয়ে দল সাজাতে উঠেপড়ে লাগতে হবে কেন?

Also Read - সাকিবের বিকল্প পাওয়া কঠিন : ওয়ালশ

বাংলাদেশের সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন সাকিবযাই হোক, নিদাহাস ট্রফির জন্য ঘোষিত দলে সাকিবের পরিবর্তে লিটন দাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হাতের আঙুল পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় সাকিবের খেলা হচ্ছে না নিদাহাস ট্রফিতে এটা নিশ্চিত হয়েই এমন সিদ্ধান্ত। যদিও সাকিব সেরে উঠার জন্য চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেন নি। আঙুলের সেলাই কাটার পর অনুশীলনে যোগও দিয়েছিলেন। পরে অনুশীলনে আবার ইনজুরি আক্রান্ত হাতের আঙুল ফুলে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান। এরপর আবার অস্ট্রেলিয়া উড়াল দিবেন উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে। এসব তথ্য নির্বাচকদের নখদর্পণে থাকার কথা। অথচ তাকে দলে রেখেই স্কোয়াড ঘোষণা করেন নির্বাচকেরা। সাকিবকে দলের প্রয়োজন। তাই বলে তাকে সুস্থ হওয়ার সময় না দিয়ে নয়। ইনজুরি নিয়ে খেলা চালিয়ে নিতে গিয়ে ক্যারিয়ারের ক্ষতি ডেকে আনবেন সাকিব, এটা ভাবার সুযোগ নেই। এদেশের কোন ক্রিকেটভক্ত তা মেনেও নিবে না।

গত ২৭ জানুয়ারি ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান সাকিব। বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের মাঝের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাথে সাথেই ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় তাকে। হাতে পড়ে কয়েকটি সেলাই। তবে সুস্থ হওয়ার পথেই ছিলেন তিনি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যান্ডেজও খোলা হয়। তবে তখনও পুরো খেলার উপযোগী হয়ে উঠেন নি সাকিব। কিন্তু, বিষয়টা জেনেও তাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে রাখে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। পরে নিজের মুখে সেটা স্বীকারও করেন নান্নু। তাহলে কেন সাকিবকে রাখা হলো দলে তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নি। আর এবার নিদাহাস ট্রফির ক্ষেত্রেও সাকিবকে অধিনায়ক রেখে দল ঘোষণা করা হলো। পরে আবারো সাকিবকে ছাড়াই দল ঘোষণা করতে হলো।

সাকিবের খেলা নিয়ে এমন আলোচনার শুরুর পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। তিনিই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রথম দুয়েক ম্যাচ সাকিব নাও খেলতে পারেন। কিন্তু পরে পরিস্কার জানা গেলো সেই সম্ভানবা নেই। বোলিংটা তবু করতে পারছিলেন, তবে ব্যাটিংয়ের সময় ব্যথা পাচ্ছিলেন। পরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাসেবা নিতে গেলে নিশ্চিত জানা গেলো সাকিব শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারবেন না। সাকিবকে নিয়ে এই যে টানাটানি এটার কি মানে? বিসিবি’র নিজস্ব চিকিৎসক আছেন। তারা কি সাকিবের এই অবস্থা জানতেন না? তবে জানা গেছে, বিসিবি’র চিকিৎসকরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বিষয়টা। কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্বাচকেরা সাকিবকে দলে রাখেন। কারণ, ওই যে হারার ভয়। সাকিব থাকলে ভয়টা কম থাকে। তাই বলে শূন্যের উপর ভর করে এমন সিদ্ধান্ত কি একটি জাতীয় দলের নির্বাচকেরা নিতে পারেন?

সাকিবকে দলে রাখার পিছনে ওই যে আশার কথা বলা হলো সেটাই বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস নিশ্চিত করেছেন। আবার সাকিব যে দলের অনুপ্রেরণা সেটাও তিনি বললেন। তাকে দলের সাথে রাখলে দলের স্পিরিট বাড়তো, সন্দেহ নেই। তাহলে তাকে সেভাবেই রাখা হতো। তাহলেই তো প্রশ্ন উঠতো না। এটা নির্বাচকদের সাথে ক্রিকেটারদের সমন্বয়হীনতার উদাহরণ। বারবার সাকিবকে নিয়ে এমন টানাটানি সত্যিই নির্বাচকদের তথা পুরো বিসিবি’র পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

আরও পড়ুনঃ উইন্ডিজের সাথেই থাকতে চান পাইবাস

Related Articles

রুবেল হোসেনের সমস্যা কোথায়?

নিদাহাস ট্রফি থেকে ৪৮২ শতাংশ লাভ!

অসুস্থ রুবেল, দোয়া চাইলেন সবার কাছে

যেখান থেকে শুরু ‘নাগিন ড্যান্স’ উদযাপনের

‘খারাপ করছি দেখেই বেশি চোখে পড়ছে’