‘বার্মি-আর্মি’র সদস্যদেরও নিরাপত্তা দেবে বিসিবি

এখনো নিশ্চিত হয়নি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজ । নিরাপত্তার কারনে এখনো দুলছে এই সিরিজের ভাগ্য।  ইংল্যান্ড দল ও মিডিয়ার নিরাপত্তার পাশাপাশি ইসিবিকে তাদের সমর্থকদের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হচ্ছে। কেননা ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে গেলে অনেক ইংলিশ সমর্থকরাও বাংলাদেশে যাবেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের বিখ্যাত সমর্থক গোষ্ঠী ‘বার্মি-আর্মি’ তো আছেই।  ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ও মিডিয়ার পাশাপাশি এই অফিশিয়াল সমর্থক গোষ্ঠীকেও নিরাপত্তা দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি),  এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

1223148.main_image

Advertisment

বুধবার সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে জালাল ইউনুস জানান, ‘বার্মি-আর্মি’র এক সদস্য তার সাথে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চান। তখনই তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেন, “অ্যান্ডি থম্পসন নামের ‘বার্মি আর্মি’র এক সদস্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন যে তাঁদের জন্য কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি কি না। আমি তত্ক্ষণাৎ বিসিবি সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করি। তখনই ঠিক হয় যে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সমর্থকদের জন্যও আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব।”

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে বার্মি-আর্মি। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল যেখানেই খেলতে যায়, সেখানেই চলে যায় ‘বার্মি-আর্মি’র সদস্যরা। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে এই সমর্থক গোষ্ঠীর বড় একটা দল এবার আসতে পারে। তারা হয়তো একটু সস্তা হোটেলে উঠবেন। পাশাপাশি তাদের ঘোরাফেরার একটি বিষয়টিও থাকবে। তবে তাদের বাংলাদেশ সফরে বিসিবি কিছু মনোনীত হোটেলের তালিকা দিয়েছে। পাশাপাশি বিসিবি থেকে তাদের যাতায়াতের বাহনও ঠিক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জালাল ইউনুস বলেন, “আমরা তাঁদের বিসিবি মনোনীত ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু হোটেলের তালিকা দিচ্ছি। এর মধ্য থেকেই হোটেল বেছে নেওয়ার ব্যাপারটিও আমরা উৎসাহিত করছি। তাঁরা যে যে হোটেলে থাকবে, সেসব জায়গায় পুলিশি প্রহরা থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসার জন্য তাঁদের বাহনও ঠিক করতে বলা হয়েছে। ওই বাহনের সামনে-পেছনেও তাঁদের পুলিশি প্রহরা দেওয়া হবে বলে আমরা নিশ্চিত করেছি।”

বাংলাদেশ সফরে ‘বার্মি-আর্মি’র সম্ভাব্য কতো জন সর্মথক আসতে পারে সেটারো ধারণা পেয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জালাল ইউনুস বলেন, “থম্পসন আমাকে যেমনটি জানিয়েছেন, তাতে সম্ভবত বাংলাদেশে আসবে ‘বার্মি আর্মি’র ১০০ জনের মতো সদস্য।”

এদিকে আজ (বৃহস্পতিবার) ইংলিশ ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে তাদের নিজস্ব মতামত জানাবেন। উল্লেখ্য, ১৭ই আগস্ট ইসিবি নিরাপত্তা প্রতিনিধি দলের সদস্য তিন সদস্য পরামর্শক রেগ ডিক্যাসন, প্রফেশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (পিসিও) প্রধান নির্বাহী ডেভিড লেদারডেল ও ইসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ডিরেক্টর জন ক্যার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষন করতে বাংলাদেশে আসেন। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের ভেন্যু পরিদর্শন করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার সব পরিকল্পনা দেখে সন্তুষ্ট হয়েই দেশে ফিরেছিলেন তারা। কিন্তু দেশে ফিরে প্রতিনিধি দলটির ঢাকা এবং চট্টগ্রামের হোটেল ও মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও ইংল্যান্ড দলকে এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল এবং হোটেল থেকে মাঠ পর্যন্ত কি ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে সেই ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নন তারা! কেননা ঘন বসতি পূর্ণ ঢাকার রাস্তার পাশে প্রতিটি বিল্ডিংকে নিরাপত্তার চাদরে রাখা সম্ভব নয়! তাই, বাংলাদেশ সফরে যাবার ব্যাপারে কোনো ক্রিকেটারকেই চাপ দিবে না ইসিবি। প্রত্যেকেই এই সফরের জন্য তাদের নিজস্ব মতামত জানাবেন।

গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঈদগাহে জঙ্গী হামলার ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যার ফলে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এই শঙ্কা দেখা দেয়। যদি ইসিবির ঘোষনা ইতিবাচক হয় তবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। সফরে দুইটি টেস্ট ও তিনটি একদিনের ম্যাচের সিরিজ খেলবে তারা।