বিজয়-মাশরাফিতে আবাহনীর পাঁচে পাঁচ

0
1890

চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডে শেখ জামালকে এনামুল হক বিজয় ও মাশরাফি মুর্তজার নৈপূণ্যে ৪৭ রানের ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো আবাহনী লিমিটেড।

আবাহনী লিমিটেডের দেওয়া ২৭১ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট করতে নেমে শেখ জামালের ইনিংস ৪৫.৩ ওভারে ২২৩ রানে গুটিয়ে গেলে চলমান প্রতিযোগিতায় নিজেদের টানা পঞ্চম জয়ের দেখা পায় মাশরাফিদের আবাহনী।

Advertisment

প্রিমিয়ার লিগে উজ্জ্বল বিজয়

বিকেএসপিতে টস জিতে শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামত হয়নি শক্তিশালী আবাহনী লিমিটেডের। ৪৩ রানের মধ্যে সাইফ হাসান, নাজমুল হাসান শান্ত ও নাসির হোসেনের উইকেট খোয়ানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে এনামুল হক বিজয় ও মোহাম্মদ মিঠুনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও তা ভেস্তে যায় স্যাক্সেনার বলে ১৪ রান করে মিঠুন বিদায় নিলে।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর বিপরীতে এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকা বিজয় যোগ্য সঙ্গ পান পঞ্চম উইকেট জুটিতে এসে। মোসাদ্দেক হোসেন ও বিজয়ে ম্যাচে আবাহনীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প রচয়িত হয় এ জুটিতেই। দু’জনে মিলে ১২১ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক পুঁজির ভিত গড়ে দেন। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক পূর্ণ করার পর ১২২ বল মোকাবেলায় ১১৬ রানে বিজয় থামলে বিচ্ছিন্ন হয় এ জুটি। রবিউল হকের বলে কাটা পড়ার আগে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান বিজয়।

এরপর ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেনও। সঙ্গীকে হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি তিনি। অর্ধশতক থেকে ১ রান দূরে থাকতে দলীয় ২১১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরেন তিনি। অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজাও ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হলে ২১২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে আবারও বড় স্কোর গড়ার শঙ্কায় পড়ে আবাহনী লিমিটেড। তবে শঙ্কাকে বাস্তবে পরিণত হতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ ও সানজামুল ইসলাম। অষ্টম উইকেট জুটিতে ঝড়ো গতিতে ৫৮ রান তুলে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে দলকে দুজনে মিলে ২৭০/৭ রানের পুঁজি এনে দেন। ১৮ বল খেলে সমান ২ চার ও ছক্কায় ৩৪ রানে মিরাজ ও ১৫ বল মোকাবেলায় ৩ চারে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন সানজামুল।

শেখ জামালের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট যায় রবিউল হকের থলিতে। তাছাড়া আবু জায়েদ, ইলিয়াস সানি, সোহাগ গাজী ও স্যাক্সেনা প্রত্যেকেই নেন একটি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মন্থর গতিতে ইনিংস শুরু করে শেখ জামাল। ব্যক্তিগত তৃতীয় ও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ১ রান করা জিয়াউর রহমানকে বোল্ড করে শেখ জামালের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন মাশরাফি। এরপর আরেক ওপেনার সৈকত আলিকেও (৩১) বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরালে ৩৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বসে দলটি।

সেখান থেকে ইলিয়াস সানিকে সাথে নিয়ে লড়তে থাকেন স্যাক্সেনা। ৫১ রানের জুটি গড়ার পর সাকলাইন সজীব আক্রমণে এসে ১৬ রান করা সানিকে ফিরিয়ে ভাঙ্গেন এ জুটি। এর দুই ওভার পর সোহাগ গাজীও ফিরে গেলে চাপে পড়ে দলটি। চাপ বেড়ে যায় দারুণ খেলতে থাকা স্যাক্সেনা দলীয় ১০৯ রানের সময় নাজমুল হোসেন শান্ত’র দারুণ থ্রুতে রান আউটের ফাঁদে পড়লে। আউট হওয়ার আগে ৭৫ বল খেলে ৪ চারে ৪৩ রান করেন তিনি।

১২৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দলটি যখন বড় ব্যবধানের হারের শঙ্কায় তখন ব্যাট হাতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তুলে নেন দলীয় অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। আল-ইমরানকে সাথে নিয়ে ঝড় তোলেন চার-ছক্কার। ৪৬ বলে ৮ চার আর ১ ছক্কায় অর্ধশতক পূর্ণ করে দলকে টিকিয়ে রাখেন জয়ের লড়াইয়ে। আবাহনীর বোলারদের উপর রীতিমত তাণ্ডব চালিয়ে ১০ চার ও ৪ ছয়ে ৬১ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে সানজামুলের বলে স্টাম্পড হন তিনি। এর সাথে ম্যাচ থেকেও ছিটকে যায় দলটি।

শেষ দিকে আক্রমণে এসে আল-ইমরান, নাজমুল হোসেন ও আবু জায়েদকে ফিরিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে ইনিংসে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার সাথে প্রতিযোগিতায় দলের টানা পঞ্চম জয় নিশ্চিত করেন মাশরাফি মুর্তজা।

২৯ রান খরচায় মাশরাফির ৫ উইকেটের সাথে মিরাজ দুটি, সানজামুল ও সাকলাইন একটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
আবাহনী লিমিটেড ২৭০/৭ (৫০ ওভার)
বিজয় ১১৬, মোসাদ্দেক ৪৯, মিরাজ ৩৪*, সানজামুল ২৪*; রবিউল ৫-০-৪৭-৩

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ২২৩/১০ (৪৫.৩ ওভার)
সোহান ৮৩, স্যাক্সেনা ৪৩; মাশরাফি ৮.৩-১-২৯-৫

আরও পড়ুনঃ ভুল বুঝতে পারছেন আরাফাত সানি