বিডিক্রিকটিমের বিশ্বকাপের সেরা একাদশ

শেষ হয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট আর বল হাতে জ্বলে উঠেছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে থেকে ১১ জন বেছে নিয়ে বিডিক্রিকটিম সাজিয়েছে বিশ্বকাপের সেরা একাদশ।

একাদশে ইংল্যান্ডের চার জন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন জন ক্রিকেটার রয়েছেন। বাকি চার ক্রিকেটারের দুজন বাংলাদেশের। ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের রয়েছেন একজন।

icc-world-cup-t20-2016-official-logo

Also Read - ''ক্রিকেটটা চাপ ছাড়া হয় না''


১. জেসন রয় (ইংল্যান্ড)

টি-২০ বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে ছিলেন ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়। ৬ ম্যাচে ৩০.৫০ গড়ে ১৮৩ রান করেছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। স্ট্রাইক রেটটা নজরকাড়া, ১৪৮.৭৮। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস  খেলেন জেসন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২ রান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৩ রান করেন জেসন।

২. তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)

এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল। ৭৩.৭৫ গড়ে ৬ ম্যাচে তামিম রান করেছেন ২৯৫। টুর্নামেন্টের প্রথম শতক এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১৪ ছক্কা হাঁকিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ছয় হাঁকানো ব্যাটসম্যানও তিনি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮৩, ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৩ রান করেন তামিম। সুপার টেনে ভারতের বিপক্ষে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন তামিম।

৩. ভিরাট কোহলি (ভারত) (অধিনায়ক)

ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্টের পুরষ্কার উঠেছে কোহলির হাতে। ৫ ইনিংস ব্যাট করে ৩ ইনিংসেই অপরাজিত ছিলেন কোহলি। পাকিস্তানের বিপক্ষে চাপকে জয় করে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তবে পরের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ছিলো আরো অসাধারণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৮২ রান করে দলকে একাই জেতান কোহলি। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৮৯ রান।  ৫ ম্যাচে ১৩৬.৫০ গড়ে ২৭৩ রান করেছেন কোহলি।

৪. মারলন স্যামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

৬ ম্যাচে ৩৬.২০ গড়ে ১৮১ রান করেছেন স্যামুয়েলস। ক্যারিবিয়ান এ ক্রিকেটার অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন একটি। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে বড় অবদান ছিল স্যামুয়েলসের। অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

৫. জো রুট (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে জো রুটের অবদান অনেক।  দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রান তাড়া করে জেতা ম্যাচে ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রুট। ফাইনালেও দলকে খাদের কিনারা থেকে উদ্ধার করেন তিনি। চাপের মুখে ৫৪ রান করেন তিনি। ৬ ম্যাচে ২৪৯ রান করেন রুট। বল হাতে দুইটি উইকেটও শিকার করেছেন রুট।

৬. জস বাটলার (ইংল্যান্ড) (সহ-অধিনায়ক)

ব্যাট হাতে এবার বেশ মারকুটে ভঙ্গিতে ছিলেন বাটলার। ১৫৯.১৬ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ৬ ইনিংস ব্যাট করে বাটলার করেছেন ১৯১ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন বাটলার। ফাইনালে করেন ৩৬ রান।

৭. আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

এবারের বিশ্বকাপে অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন আন্দ্রে রাসেল। ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেন তিনি। ব্যাটিংয়ে সব মিলিয়ে ৬৪ বল মোকাবেলা করে রান করেন ৯১।

৮. ডেভিড উইলি (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের এ ফাস্ট বোলার বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার  করেন। টি-২০ ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণে ইকোনমিটাও খারাপ না, ৭.৫৭। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ও ফাইনেল উইন্ডিজদের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেন ডেভিড উইলি।

৯. স্যামুয়েল বাদ্রী (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

বিশ্বকাপে বেশ কার্যকরী বোলিং করেন বাদ্রী। ব্যাটসম্যানদের আটকে রেখে রানের গতি নিয়ন্ত্রণে আনা কিংবা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফালানো- সব দিক দিয়েই দারুণ ছিলেন এ ক্যারিবিয়ান লেগ স্পিনার।   ইকোনমি মাত্র ৫.৩৯। ৬ ম্যাচে উইকেট শিকার করেছেন ১০ টি।

১০. ইশ সোধি (নিউ জিল্যান্ড)

নিউ জিল্যান্ডের এ লেগিও দারুণ করেছে বিশ্বকাপে। ৫ ম্যাচে উইকেট শিকার করেছেন ১০ টি। ওভারপ্রতি গড়ে রান দিয়েছেন ৬.১০। পুরো বিশ্বকাপেই নিউ জিল্যান্ডের এ লেগ স্পিনারের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। দুইবার তিন উইকেট পেয়েছেন তিনি।

১১. মুস্তাফিজুর রহমান  (বাংলাদেশ)

চোটের কারণে তিনটির বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি বাংলাদেশের বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের। তবে এ তিন ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিপক্ষে শিকার করেছেন ২ টি করে উইকেট। শেষ ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে ২২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট লাভ করেন মুস্তাফিজুর। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগারও মুস্তাফিজুরের।

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন