Scores

বিশ্বকাপে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান নাসির

nasir hossain

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

দলের অবিচ্ছেদ্য অংশেই পরিণত হয়েছিলেন। তবে মাঝখানের সময়টাতে পারফরমেন্সের পারদ গিয়ে ঠেকেছিল তলানিতে। সেই সাথে জাতীয় দলেও হয়ে পড়েছিলেন ব্রাত্য। তবে পারফরমেন্স দিয়েই আবারও দলে জায়গা করে নিয়েছেন নাসির হোসেন। আসন্ন বিশ্বকাপে নাসিরের বিশ্বাস, পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খেলতে পারবেন। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নাসির বলেছেন দল ও তাঁর সম্পর্কে বিশ্বকাপ ভাবনা।

Also Read - দেশে ফিরেছেন তামিম ইকবাল


মূল একাদশে থাকার ব্যাপারেই আপাতত চিন্তা করছেন নাসির। ব্যর্থতা কাটিয়ে দলে ফেরাকে নাসির দেখছেন স্বাভাবিকভাবেই, ‘আমি আগেও যেমন ছিলাম, এখনও তেমন আছি। ফিরে পাওয়া আর না পাওয়াটা ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে। আমি পারফর্ম করেছি প্রিমিয়ার লিগে; লিগের ম্যাচ আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে অনেক তফাৎ। আমি তখনই বুঝতে পারব যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচে পারফরম্যান্স করব।’

খেলার ধরণ ও প্রেক্ষাপটের বিচারে নাসির হোসেন সাব্বির রহমান রুম্মন একই ধাঁচের খেলোয়াড়। দলে এ দুজনের জায়গাটা তাই একটু জটিলতা সৃষ্টি করেছে সমর্থকদের মনে। তবে নাসিরের দৃষ্টিভঙ্গি যথারীতি ইতিবাচক, ‘সাব্বিরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি এভাবে বলাটা ঠিক না। আমার কাজ ছিল ভাল খেলা। আমি চেষ্টা করেছি ভাল খেলার। সুযোগ পেয়েছি; ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওর বা আমার মাথায় এমন কিছুই ছিল না।’

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাননি অনেকদিন, তাই নাসিরের চোখ প্রথমত ওয়ার্মআপ ম্যাচের দিকে, ‘ওয়ার্মআপ ম্যাচ শুধু আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে যত বেশি ব্যাটিং করা যাবে, বোলাররা যত বেশি উইকেট পাবে আত্মবিশ্বাস ততবেশি বেড়ে যাবে। আমি চেষ্টা করব সেখানে পারফর্ম করার জন্য; যাতে করে একাদশে সুযোগ পেতে পারি।’

কোচিং পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাসিরের মুখ থেকে বেরোল কোচের প্রশংসা- ‘কোচ মূলত আমাদের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করছেন। হাথুরুসিংহে অস্ট্রেলিয়ায় অনেক দিন ছিল। সেখানে তার ভাল আইডিয়া রয়েছে। আমরা অনুশীলন সেভাবেই করছি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কেমন বল আসবে আমাদের কাছে, আমি কিভাবে ব্যাটিং করব এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন কোচ। আমার মনে হয়, আমরা যেভাবে অনুশীলন করছি তা অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের জন্য অনেক হেল্পফুল হবে।’

দল কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও নিজের জায়গা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে নারাজ নাসির, ‘দলের টার্গেট কি এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না। ব্যক্তিগতভাবে আমি যা চাই তা হলো হারি-জিতি তা পরের কথা, আমরা যেন ধারাবাহিক ভাল ক্রিকেট খেলতে পারি সেই চেষ্টা করব। ৫/৬/৭ একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এই জায়গায় অনেক সময় দেখা যায় ২০ রানই অনেক বড় ব্যাপার। চেষ্টা থাকবে টিম যখন যেভাবে চায় সেভাবে ব্যাটিং করার। আর তেমন কোনো লক্ষ্য নেই ওই জায়গায়। আমি যখন নামি তখন হয়ত ১২-১৫ ওভার বাকি থাকে, বেশির ভাগ সময়ই। অনেক সময় তাও থাকে না। এই ৫-৬ ওভারের মধ্যে আপনি কি লক্ষ্য সেট করবেন। তখন হয়ত টার্গেট থাকে ৫ ওভারে ৫০ কিংবা ৪০ রান। সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’

পার্ট টাইম বোলার হিসেবে দলের কাজ করতে চান নাসির। সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ঘরোয়া লিগে আমি বোলিং করি সব সময়। হয়তো জাতীয় দলে অনেক অপশন থাকে তাই বোলিং করা হয় না। তারপরও আমাদের কোচ বলেছে হয়ত আমার ১০ ওভার বোলিং করা হবে না। যখন লাগবে হয়ত তখন ৪-৫ ওভার বোলিং করব। আমরা ওইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি যেন দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসে ৫-৬ ওভার ভাল বোলিং করে দিতে পারি।’

জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিস করা নাসির জানিয়েছেন, পারফরমেন্সের খাতিরেই কোনো কিছুকে চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না তিনি। ‘চাপ নিলে পারফর্ম করাটা অনেক কঠিন হয়ে যাবে আমার জন্য। আমি আগে যেভাবে খেলতাম সেভাবেই খেলব। এটা বিশ্বকাপ বলেই যে অন্যরকমভাবে খেলব, এটা কোনো কিছু না। আমি চেষ্টা করি আসলে শেষ পর্যন্ত খেলার। হয়তো বা আমি অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি, আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। আমি যখনই ব্যাটিংয়ে নামি না কেন আমার চেষ্টা থাকে শেষ পর্যন্ত খেলে আসার।’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ