Scores

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল কোথায়?

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতই। ২ ই জুন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওডিআই ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে জয় লাভ দেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। এর পর নিউজিল্যান্ডের সাথে স্বল্প পুঁজি নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ৩২২ রান তাড়া, আফগানিস্তানকে অনায়াসে হারানো নি:সন্দেহে তৃপ্তিদায়ক।

আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে সাকিব

সাকিব আল হাসান এই বিশ্বকাপে ছিলেন দুরন্ত। বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়ে সারা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তদের মন জয় করেছেন তিনি।

Also Read - স্টোকসের ভোটটাও পাবেন উইলিয়ামসন!


তারপরও বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশের অবস্হান দশ দলে অষ্টম। বাংলাদেশের সর্ব কালের সেরা ক্যাপ্টেন এবং বিশ্বকাপের অন্যতম অভিজ্ঞ দল নিয়েও এই হাল কেন? বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল কোথায়? চলুন দেখা যাক।

বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় থেকেই বিতর্কের শুরু হয়। বিপিএল মাতানো তাসকিন আহমেদ ফিটনেসের কারনে প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে ম্যানজেমেন্ট থেকে তাসকিনকে দলে চাওয়া হলেও নির্বাচক মন্ডলী ও বোর্ড তা অগ্রাহ্য করে বসেন।

ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরবেন তাসকিনরা! -

ফলাফল, পুরো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোন স্ট্রাইক বোলার নেই। শুরুতে উইকেটের জন্য হা পিত্যেশ করেই কেটেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আর প্রতিপক্ষ চড়েছে রানের পাহাড়ে।

তাসকিনের পরিবর্তে দলে ঢোকা আবু জায়েদ রাহী বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও না খেলে এখন শ্রীলংকা সফর থেকে বাদ। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, ম্যানেজমেন্টের অনুরোধ সত্ত্বেও রাহীর পরিবর্তে তাসকিনকে কেন পাঠানো হল না? যেখানে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আইসিসির কোন বাধা নিষেধ ছিল না এবং অন্যান্য দলও তাদের প্রাথমিক স্কোয়াডে পরিবর্তন এনেছে।

তাসকিনের ফিটনেস ইস্যু থেকে অনেকেই ধারণা করতে পারেন বাংলাদেশ দল বোধহয় ফিটনেসে অনেক উচু স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। আসুন তাহলে বাংলাদেশ স্কোয়াডের ফিটনেসের হাল হকিকত জানা যাক।

ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা পুরো বিশ্বকাপ খেলেছেন হ্যামস্ট্রিং এ গ্রেড টু টিয়ার নিয়ে। তাই মাশরাফির হতশ্রী পারফরম্যান্স মোটেও অবাক করা ছিল না।

মাশরাফিকে ছাড়াও এগিয়ে যেতে হবে রোডস

গত বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিয়ন এবং হালে ফিনিশার বনে যাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভুগেছেন  কাঁধ এবং কাফ মাসল ইনজুরিতে। এছাড়া মুশফিক, সাইফ, মুস্তাফিজসহ অনেকেরই ছোট বড় চোট ছিল। এই চোটজর্জর দল নির্বাচন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেললে সেটা মিরাকলই হতো।

মাশরাফির চোটাঘাত শুধু তার পারফরম্যান্স নয় তার ক্যাপ্টেন্সিতেও সমস্যা ডেকে এনেছে। অধিনায়কের চিরায়ত কারিশমা, দুর্দান্ত বোলিং চেঞ্জ, দলকে উজ্জীবিত করা কোনটিই মাঠে চোখে পড়েনি।

দল নির্বাচন থেকে শুরু করে ফিল্ড প্লেসিং সবকিছুতেই বাংলাদেশ ছিল ব্যাকফুটে। একাদশে নয়জন ব্যাটসম্যান আর স্ট্রাইক বোলারের অভাব মানে প্রথম বল থেকেই অধিনায়ক ডিফেন্সিভ ফিল্ড সেটাপ করতে বাধ্য হয়েছেন।

ক্রিকেটে একটি বিশেষণ আছে, স্কুল লেভেল ফিল্ডিং। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং এবং শারিরীক ভাষা ছিল তাই। হাত গলে বাউন্ডারী আর ক্যাচ পড়া ছিল নিত্য দৃশ্য। জেসন রয়, ডেভিড ওয়ার্নার, রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলে তার দাম কড়ায় গন্ডায় চুকিয়েছে দল।

ভরাডুবির পেছনে অন্যতম প্রধান কারন এই গা ছাড়া ফিল্ডি এবং কিপিং এ কিছু অমার্জনীয় ভুল তা যে কেউ স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে।

ওপেনিং এ ক্রমশ ব্যর্থতা দলকে আরো পেছনে টেনেছে। তামিমের অতি রক্ষণাত্বক মনোভাব এবং সৌম্যের উইকেট ছুড়ে আসা দলকে ভুগিয়েছে বার বার। বোলিং এর মত ব্যাটিং এ ও বাংলাদেশ ভাল শুরু পায়নি।

শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম

বিশ্বকাপের পরপরই সাকিব আল হাসান এক ইন্টারভিউতে দলের কিছু সদস্যের ডেডিকেশনের প্রতি পরোক্ষভাবে আংগুল তোলেন। বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী দলের জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আছে কি না প্রশ্ন তোলেন।

এ প্রসঙ্গে একটি ‘ছোট’ ঘটনা তুলে ধরা যাক। ভারতের সাথে ম্যাচে রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলা তামিম পাকিস্তানের সাথে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বলে বসেন তিনি চাইলে ঐ ক্যাচ ফসকানোর পর ফিল্ডিং এর সহজ জায়গা বেছে নিতে পারতেন, কেউ কিছু বলার ছিল না। দেশ সেরা ওপেনারের বক্তব্যেই স্পষ্ট দলে কতটা জবাবদিহিতা চালু আছে এবং তিনি জবাবদিহিতার কতটা উর্ধ্বে।

কোচ স্টিভ রোডসকে অনুমিত ভাবেই ছাটাই করা হয়েছে। দলের ব্যর্থতার কোপ কোচের উপর পড়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়মিত চিত্রই হয়ে যাচ্ছে বলা যায়। বিসিবি আপাতত এতটুকু করেই খালাস। বিশ্বকাপের ফলাফল নিয়ে কোন প্রেস রিলিজ হয় নি, কোন কারন অনুসন্ধান কমিটির কথাও শোনা যায়নি।মাশরাফি দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছেন বটে তবে কোন অনুতাপ প্রকাশ করেননি।

সবাই নিচের সারির দুটি দল এবং ভংগুর দক্ষিন আফ্রিকাকে হারিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। এই জবাবদিহীতার অনুপস্থিতি এবং দায়বদ্ধতাহীনতা দেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক নয়। শ্রীলংকা সিরিজ শেষে বিসিবির পরিকল্পনা কি বা আদৌ কোন সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা আছে কি না সেটা পরিষ্কার হবে। তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পারফর্ম্যান্স নিয়ে যদি এক শব্দে বলতে হয় তবে আমি বলব ‘হতাশাজনক’। আমার সাথে দেশের অধিকাংশ ক্রিকেট প্রেমীই একমত হবেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের বোধোদয় হবে কি?

লিখেছেন- সাদাত উল্লাহ কাওসার 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা ৫ ঘটনা

টুইটারে প্রশংসিত টাইগারদের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স

স্টেডিয়ামের বাইরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সমর্থকদের ধস্তাধস্তি

ভিডিওঃ আফগানদের বিপক্ষে টাইগারদের জয়ের মুহূর্ত

ভিডিওঃ শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয়ের মুহূর্ত