SCORE

সাকিবের পরিচিত রোডস!

অনেক জলঘোলার পর অবশেষে চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের নাম। দীর্ঘ আট মাস প্রধান কোচবিহীন অবস্থায় থাকার পর চলতি মাসেই নতুন কোচের দেখা পাচ্ছেন সাকিব-তামিমরা। কাঙ্ক্ষিত সেই কোচ হলেন ইংল্যান্ডের স্টিভ রোডস। দলের অনেকের জন্য একদম নতুন নাম হলেও তিনি কিন্তু ভীষণ চেনা একজনের কাছে। বর্তমান জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কিন্তু খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য এই কোচকে।

 

হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হচ্ছেন স্টিভ রোডস!

 

Also Read - ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

২০০৯ সালের শুরুতেই সাকিব তখন চমৎকার ফর্মে। টেস্টে উইন্ডিজদের হোয়াইট ওয়াশ করে সাকিব পৌঁছে গিয়েছিলেন টেস্ট অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে। সে বছরই সাকিবের কাঁধে প্রথমবারের মত ভর করে অধিনায়কের ভার। শুরু আর মাঝের সময়টাকে পূর্ণতা দিয়ে বছরের শেষটা সাকিব রাঙিয়েছিলেন প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে নাম লিখিয়ে।

উস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবটার পরিচালক হিসেবে তখন ছিলেন ক্লাবটিরই সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে বাংলেদেশের সম্ভাব্য কোচ রোডস। একদম বছরের সূচনা থেকেই দেখেছেন সাকিবের প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়ে সেরা অলরাউন্ডার হওয়া। মাশরাফি বিন মুর্তজার হঠাৎ চোটে উইন্ডিজের বিপক্ষে একদমই নতুন এক তরুণ অলরাউন্ডারের সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারটাও চোখ এড়ায়নি রোডসের।

একা হাতে উইন্ডিজকে দ্বিতীয় টেস্টে পরাজিত করে প্রথমবার সাকিবের হাত ধরে বিদেশের মাটিতে কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তা দেখেছিলেন সাবেক এই ইংলিশ উইকেটরক্ষক। ক্যারিবীয় সেই সফরে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে মোট ১৩ উইকেট ঝুলিতে পুরে সিরিজ সেরার পুরস্কারটাও জিতেছিলেন সাকিব।

তাই ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ককে নিজের দলে টেনে এনেছিলেন এই রোডস। বাংলাদেশ অলরাউন্ডারকে নিজের দলে ভেড়াতে পেরে যে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন ক্লাবটির ক্রিকেট পরিচালক, এক সাক্ষাৎকারেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

ক্রিকইনফোকে রোডস বলেছিলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই সাকিবকে আমি চোখে চোখে রেখেছি এবং সে যে দারুণ একজন ক্রিকেটার, সেটাও বুঝেছি। তাঁর বর্তমান আইসিসি র‍্যাংকিংও (অলরাউন্ড র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান) সেটার প্রমাণই দিচ্ছে। আমি জানি সে সাফল্য পেতে ভীষণ আগ্রহী। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য মৌসুমের শেষে আমাদের জন্য ভীষণ কাজে দেবে।’

রোডস যদি কোচ হয়ে আসেনই, সে ক্ষেত্রে সাকিবের অবদান থাকলে কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়কের চেয়েও রোডসকে বেছে নেওয়ার কৃতিত্ব বেশি চাপবে সাবেক ভারতীয় কোচ গ্যারি কারস্টেনের কাঁধে।

প্রায় আট মাস কোচবিহীন বাংলাদেশ দল, অথচ কারস্টেনের পরামর্শের আওতায় এসে মাত্র দিন পনেরোর মধ্যেই দাঁড়িয়ে গেল নতুন ‘গুরু’ পাওয়ার সম্ভাবনার সামনে। দলের প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে যে বিসিবির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন এই সাবেক প্রোটিয়া কোচই!

খেলোয়াড়ি জীবনে রোডস অবশ্য খুব একটা সফল হতে পারেননি। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাত্র ১১টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডেতে। ছিলেন মূলত ব্যাটসম্যান, তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও বোলিং করা হয়নি তার। ব্যাটিং পরিসংখ্যানও আহামরি নয়। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে অর্ধ-শতক আছে সাকুল্যে দুটি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অবশ্য উইকেটরক্ষণটাও পারতেন রোডস। ৫৩ বছর বয়সী এই কোচ খেলেছিলেন উস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের হয়েও। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০০৪ সালে উস্টারশায়ারে কোচের ভূমিকায় নিযুক্ত হন। এরপর ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদেও কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়।

শুধু অভিজ্ঞতা নয়, রোডসের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপও। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপের আগামী আসর, যেখানে অনেকের মতেই বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবে অংশ নেবে। বিশ্বকাপের দেশের কোচ নিয়োগ করা হলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পাওয়া যেতে পারে বড় সুবিধা। সেদিকে ইঙ্গিত করে বিসিবির প্রধান নির্বাহী  নিজামউদ্দিন চৌধুরি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে। এজন্য এটাও বিবেচ্য বিষয়। ঐ ধরনের কন্ডিশনের কাউকে যদি দলের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’

এখন নতুন কোচের অধীনে কতটা কি করতে পারে বাংলাদেশ সেটাই দেখা বিষয়।

আরো পড়ুনঃ অভিজ্ঞ ও ইংলিশ বলেই এগিয়ে রোডস

 

Related Articles

নিউজিল্যান্ডের নতুন কোচ গ্যারি স্টেড

পদত্যাগ করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ হেসন

দুই ফরম্যাটে দুই কোচ চান না সালাউদ্দিন

কারস্টেনের দৃষ্টি বিশ্বকাপে

কোচ খোঁজায় নেমেছেন কারস্টেনও