Score

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-২০ সিরিজ জয়

এতদিন টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের তেমন বড় কোনো সাফল্য ছিল না বললেই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না কোনো ফরম্যাটেই। উইন্ডিজ সফরে গিয়ে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর রীতিমত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের মনোবল।

টি-২০-সিরিজেও-জয়ী-বাংলাদেশ
ওয়ানডের পর টি-২০ সিরিজও টাইগাররা জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। ছবি: গেটি ইমেজ

তবে সেই মনোবল চাঙা হয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর। আর এবার একই ব্যবধানে জয় এল টি-২০ সিরিজেও। ফ্লোরিডায় তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উইন্ডিজকে ডাকওয়ার্থলুইস পদ্ধতিতে ১৯ রানে হারিয়ে ছয় বছর পর দেশের বাইরে টি-২০ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

ভিনদেশে বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-২০ সিরিজ জিতেছিল ২০১২ সালে। আয়ারল্যান্ডকে সেবার ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। সেটিই ছিল এতদিন বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের একমাত্র টি-২০ সিরিজ জয়। ছয় বছর পর আজকের এই সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেটে শুধু স্বস্তিই এনে দেয়নি, এনে দিয়েছে টাইগারদের সামর্থ্যের প্রমাণপত্রও।

Also Read - উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সংগ্রহ

বিদেশের মাটিতে ছয় বছর পর আশা এই জয়ের আছে আরও একটি মাহাত্ম্য। ২০১৫ সালের পর যে এই প্রথম টি-২০ সিরিজ জয়! বহুকাঙ্ক্ষিত এই জয়ে মূল অবদান লিটন কুমার দাসের। ৩২ বলে তার করা ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল জয়ের পুজি।

টস জিতে ব্যাট করতে নামা যে ভুল হয়নি, সেটি প্রমাণ করতে সময় নেননি লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। প্রথম বল মোকাবেলায় স্ট্রাইকে এদিন লিটন। তামিমের ‘জায়গায়’ দাঁড়িয়ে তামিমের দায়িত্বটাও যেন পালন করতে ব্রত হলেন! দলীয় ৬১ রানের মাথায় ১৩ বলে ২১ রান করা তামিম বিদায় নিলেও লিটন রীতিমত তুলোধুনো করতে থাকলেন ক্যারিবীয় বোলারদের। ছয়টি চার আর তিনটি ছক্কায় সাজান লিটনের ইনিংস যখন থেমেছে, ততক্ষণে সাজঘরে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার (৫) ও মুশফিকুর রহিমও (একশরও নিচে স্ট্রাইক রেট রেখে ১২ রান)।

লিটন যে ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তাকে কাঠামোতে রূপদানের কাজটুকু করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যদিও সাকিবের অবদান ‘কম’ই। ২২ বলে ২৪ রান করে অধিনায়কের মূল ‘কাজ’ ছিল নেতৃত্বের সহযোগীকে ব্যাটিংয়ে সহযোগিতা করা। চারটি চার আর একটি ছক্কায় ২০ বলে ৩২ রান করা রিয়াদ এবারও নিজগুণে উজ্জ্বল। শেষদিকে ১৬ বলে মাত্র ১৮ রান করা হার্ঢিটার ব্যাটসম্যান খ্যাত আরিফুল হক ম্যাচের মেজাজ বিবেচনায় ‘ধীর’ এক ইনিংস খেলে জন্ম দিয়েছেন অনেকগুলো প্রশ্নের, সেই সাথে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহটি ২০০ ছুঁতে না পারার আক্ষেপটুকুও।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও কিমো পল শিকার করেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া একটি উইকেট শিকার করেন কেসরিক উইলিয়ামস।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই উইন্ডিজ ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার এনে দেওয়া সাফল্য ধরে রাখেন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। দলীয় রান ৩২-এ পা দিতেই সাজঘরে উইন্ডিজের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান! সেখান থেকে দলকে আলোর পথ দেখালেন রভম্যান পাওয়েল (২০ বলে ২৩) ও দীনেশ রামদিন (১৮ বলে ২১)। ১০ বলের ব্যবধানে দুজনই ফিরলেন সাজঘরে, মুস্তাফিজ আর রুবেলের শিকার হয়ে। তবে জয়ী বাংলাদেশের ‘ভয়’-এর আগমন তখনই। ক্রিজে নেমে রাজসিক ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়ে আন্দ্রে রাসেল জানালেন; ম্যাচ তো শেষ হয়ে যায়নি এখনও!

ম্যাচ তখনও শেষ হয়ে যায়নি বটে। তবে রাসেল তুলির শেষ আঁচড়ে দলের জয় এঁকে দিতে পারেননি। তাতেও অবদান মুস্তাফিজের। তার ডেলিভারিকে আরেকটু হলেই নিজের সপ্তম ছক্কা হাঁকাতে পারতেন ম্যাচে মাত্র একটি চার হাঁকান রাসেল। তবে বাউন্ডারি লাইনে সেটি তালুবন্দী করে ফেলেন ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আরিফুল। তাতে আরিফুলের দায় শোধ হল কি না, এটি ভাববার সুযোগ করে দিতে রাসেলের বিদায়ের পরপরই নামল বৃষ্টি। তার আগে আবু হায়দার রনির শিকার হয়ে অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটও ফিরে গেছেন সাজঘরে, রাসেলকে ‘চার্জ’ করতে দেখে যিনি ১০ বলে করেছেন মাত্র ৫ রান। রাসেলের ২১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসটির ইতি ঘটার পরই মূলত শেষ হয়ে যায় উইন্ডিজের জয়ের সুযোগ। এজন্যই হয়ত বৃষ্টি এসে আগাম জানিয়ে দেয়, ডাকওয়ার্থলুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জয়ী ১৯ রানে!

বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি উইকেট শিকার করে দিনের সেরা বোলার ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজ। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন লিটন কুমার দাস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১৮৪/৫ (২০ ওভার); লিটন ৬১, রিয়াদ ৩২*; কিমো ২৬/২, ব্র্যাথওয়েট ৩২/২

উইন্ডিজ ১৩৫/৭ (১৭.১ ওভার) রাসেল ৪৭, পাওয়েল ২৩; মুস্তাফিজ ৩১/৩, সৌম্য ১৮/১

ফল: ডাকওয়ার্থলুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ১৯ রানে জয়ী।

আরও পড়ুন: স্মিথকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে কোহলি

Related Articles

সিরিজ জিততে মরিয়া শাই হোপ

মাশরাফির কাছে হারের কারণ দু’টি

মিরপুরে এটাই শেষ ম্যাচ কি না, জানা নেই মাশরাফির

হোপের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরালো উইন্ডিজ

জোশির কথা একটাই- জিততে হবে