বিসিএল: তিন ম্যাচ খেলে আশরাফুলের গড় ৬২

0
1046

প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাইয়ের কারণে বিসিএলের শুরুতে দল পাননি মোহাম্মদ আশরাফুল। এ নিয়ে আলোচনা কম হয়নি, বিতর্কের মুখে পড়েছিল খেলোয়াড়দের দলে টানার পদ্ধতিটিই। দেরিতে হলেও অবশ্য বিসিএলে অংশ নেওয়া হয়েছে আশরাফুলের। দুই রাউন্ডের খেলা শেষে ইস্ট জোনের হয়ে খেলার সৌভাগ্য হয় তার।

শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে সিলেটকে জেতালেন খালেদ
মোহাম্মদ আশরাফুল। ফাইল ছবি

সেই সৌভাগ্য অবশ্য শুধু আশরাফুলের জন্যই ছিল না, ছিল ইস্ট জোনের জন্যও। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে দলটি কোনো জয়ের দেখা পায়নি ঠিকই, তবে পাঁচটি ম্যাচে ড্রয়ের পেছনে অবদান আছে আশরাফুলেরও। যে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন, তিনটি ম্যাচেই যে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন উজ্জ্বল!

ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন ঘরোয়া আসরগুলোতেও। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সম্প্রতি দল পেয়েছেন বিপিএলে। আশরাফুল এখনও ক্রিকেট মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকলেও ক্রিকেট অঙ্গনে তার আগের জৌলুস আর নেই। এরই প্রমাণ মিলেছিল বিসিএলে দল না পাওয়ার মধ্য দিয়ে। তবে তিনি যে ফুরিয়ে যাননি, শেষপর্যন্ত দল পেয়ে যেন প্রমাণ করতে নেমেছেন সেটিই।

Advertisment

৩ ম্যাচে ৬ ইনিংস খেলা আশরাফুল হাঁকিয়েছেন একটি শতক ও দুটি অর্ধ-শতক। ৩১০ রান করেছেন, শেষ রাউন্ডের আগ পর্যন্ত একটি ইনিংসে অপরাজিতও থেকেছেন। পঞ্চম রাউন্ড শেষে তার গড় তাই বেশ ভালো- ৬২.০০; পরিসংখ্যানের দিক থেকে যা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ৩০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আশরাফুলের গড় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ৯৪ ছুঁইছুঁই গড় যার, সেই মেহেদী হাসান খেলেছেন ৫টি ম্যাচ ও ৯টি ইনিংস, অপরাজিত থেকেছেন ৫টিতেই।

তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বগুড়ায় সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে কোনো রান করতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আশরাফুলের ব্যাট থেকে এসেছিল ৬৪ রান। চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম ইনিংসেই নর্থ জোনের বিপক্ষে হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি- ১৩৬ রানের ইনিংস। রাজশাহীর সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ১৯ রান করে। শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সমাপ্ত হওয়া পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩৭ ও ৫৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

ব্যাটিং তো আছেই। আশরাফুল মাঝেমাঝে চমক দেখাচ্ছেন বল হাতেও। তার সময়ে তিনিই ছিলেন সেরাদের একজন। এখন অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা দুই-ই বেড়েছে। আশরাফুলের এমন পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট কি না- এমন প্রশ্ন রাখাই হয়ত বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তবে তার এমন পারফরম্যান্সের পর বলাই যায়- অন্তত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ দাবি করেন দেশের ক্রিকেটের একসময়ের সবচেয়ে বড় এই তারকা!

আরও পড়ুন: শিশির নয়, কন্ডিশনই মূল বিষয়