বিসিবিকে ধন্যবাদ দিলেন মাশরাফি

২০ মে (রোববার) থেকে মাঠে গড়াচ্ছে প্রথম বিসিবি একাডেমি কাপ ২০১৮। নতুন প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সুযোগ না পাওয়া তরুণ ক্রিকেটারদের বের করে আনার লক্ষ্যেই বোর্ডের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন।

একাডেমি কাপের জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ দিলেন মাশরাফি

এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ঢাকার ৩২টি ক্রিকেট একাডেমি। প্রতিটি ম্যাচের ইনিংসের দৈর্ঘ্য হবে ৪০ ওভার। বিকেএসপি, সিটি ক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। ৩১ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রিকেটাররা; যারা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা সিসিডিএম নিবন্ধিত নন এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগের কোনো খেলায় ইতিপূর্বে অংশ নেননি। মূলত বিভিন্ন একাডেমির ক্রিকেটারদের সুযোগ দিতেই এমন আয়োজন।

Also Read - ছিটকে গেলো ব্যাঙ্গালুরু

২০ মে পর্দা উঠার পর আসরের পর্দা নামবে আগামী ৫ জুন। টুর্নামেন্ট থেকে বাছাইকৃত ১৫-২০ জন ক্রিকেটার এক মাসের জন্য জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

আসরকে সামনে রেখে শনিবার (১৯ মে) টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করা হয়। ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন, বাংলাদেশ দলের সাবেক খ্যাতিমান স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ট্রফি উন্মোচন শেষে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে একাডেমির ক্রিকেটারদের নিয়ে এমন আয়োজনের জন্য আয়োজক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান মাশরাফি। মাশরাফি বলেন-

‘অবশ্যই খুব ভালো একটা উদ্যোগ। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ, বিশেষ করে বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ, সুজন ভাইকে (খালেদ মাহমুদ) ধন্যবাদ। সাধারণত এ ধরনের টুর্নামেন্ট দেখা যায় না। ঢাকা লিগের বাইরের প্লেয়ারদের জন্য এটা বড় একটা সুযোগ।’

এই টুর্নামেন্টে প্রতিভার দৃষ্টান্ত রেখে তরুণ খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতের পাথেয় অর্জন করে নিবেন- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মাশরাফি বলেন, ‘আশা করি তারা এখানে ভালো করলে বিভিন্ন ক্লাব থেকে শুরু করে বিসিবির আন্ডারে বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেতে পারে। যারা (অতীতে বিসিবির অধীনে) খেলতে পারেনি, তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ।’

বেশি বেশি খেলোয়াড় তুলে আনার জন্য এমন টুর্নামেন্টের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করছেন মাশরাফি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেখেন যত বেশি টুর্নামেন্ট হবে, যত বেশি খেলা হবে তত প্লেয়ার উঠে আসবে। এখন তো বিসিবির অধীনে বেশির ভাগ টুর্নামেন্ট শেষ, হয়তো দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগ বাকি আছে। এর বাইরেও একটা টুর্নামেন্ট (বিসিবি একাডেমি কাপ) যারা খেলছে তাদের জন্য এই উদ্যোগ। তারা যদি নিজেদের এক্সপ্রেস করতে পারে তাহলে কোনো ক্লাব বা বিসিবির অধীনে দলে সুযোগ পেতে পারে।’

বিসিবির উদ্যোগে প্রশংসনীয় এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পেছনে মূল অবদান খালেদ মাহমুদ সুজনের। পিছিয়ে পড়াদের সুযোগ করে দিতেই এই টুর্নামেন্ট, এমনটি ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মাশরাফি একটু আগেই বলল, এখানে ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে, যারা ঢাকা লিগ খেলে তারাও খেলতে পারবে না। নতুনরা সুযোগ পাবে। এর জন্য এটা পাইলট প্রজেক্ট। এই বছর মাত্র ৩২টি দল নিয়ে খেলছি। এর বাইরেও অনেক একাডেমি আছে ঢাকায়, যারা সুযোগ পাচ্ছে না।’

টুর্নামেন্টে দল কেন মাত্র ৩২টি, সেটি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুজন বলেন, ‘এর কিছু কারণ আছে। আমরা যে সব ক্রাইটেরিয়া দিয়েছিলাম, যারা মিট করতে পেরেছে তারাই সুযোগ পাচ্ছে। সামনের বছর আমাদের প্ল্যান আছে আরও বড় করে করার। আবার এখন বর্ষা মৌসুম। তার ওপর মাঠও কম। আমরা আশা করছি, পরের বছর অন্যদের খেলার মাঝে মাঝে আমরা যাতে এটা করে ফেলতে পারি। আশা করি, এখান থেকে অনেকে উঠে আসবে। বাবা-মা যাদের একাডেমিতে পাঠাচ্ছে ক্রিকেট শেখার জন্য, তাদের জন্যও একটা বড় অনুপ্রেরণা। আশা করি, পরের বছর ঢাকার বাইরে থেকে দুইটা বা চারটা করে দাওয়াত দেব। ঢাকার বাইরে এটা করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখান থেকে আমরা প্লেয়ার বাছাই করব। সেটা ২০-২৫ জনের হতে পারে। সেখান থেকে অনুশীলনের ব্যবস্থা করব। সাথে যে চারটা একাডেমি সেমিফাইনালে খেলবে তাদের বিসিবি থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করব। প্রতি বছর চারটা করে করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০-২৫টি একাডেমি এই সাহায্য পাবে। সব মিলে একটা তৃণমূল সিরিজ থেকে ডেভেলপমেন্ট নিয়ে যেটা বোঝায়, সেটাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ আফগানিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে বোমা হামলা