বৃষ্টির দখলে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিন

0
448

প্রবল বাতাসের সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। চোখ ছোট করে দুই আম্পায়ার এক জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। একটু পর ইশারায় ডাকলেন ত্রিপল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাউন্ডসম্যানদের।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ওয়েলিংটন টেস্টের নিয়মিত দৃশ্যই সম্ভবত হতে যাচ্ছে এটি। অন্তত প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা সেই কথাই বলে। পিচ নিয়ে আহামরি ভয় আর মুশফিকের চিরায়ত টস ‘হারা’ ভাগ্যকে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ ব্যাটিং করা বাংলাদেশ দিনশেষে শিরোনাম হতে পারছে না বেরসিক বৃষ্টির কারণেই।

Advertisment

৩ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করা বাংলাদেশের অসম্পূর্ণ ইনিংসটিকে ‘দারুণ’ বলতে হচ্ছে যে কারণে, সেখানে ঘুরেফিরে আসছে গত কদিন ধরে গাঢ় আলোচনায় থাকা পিচ! যদিও ম্যাচের দিন সকালে ‘অপ্রত্যাশিত’ প্রত্যাশার চেয়েও কম ঘাসের দেখা মিলল বেসিন রিজার্ভ মাঠের আলোচিত উইকেটটিতে। বরাবরের মতো অধিনায়ক মুশফিকের শুরুটা হল টস হেরে। ভয়টা তো ছিল সেখানেই!

এই টেস্ট নিয়ে ভয় যত প্রথম দিন, বা বড়োজোর দ্বিতীয় দিনের অর্ধেকটায়। প্রথমে ব্যাট করলে সাঁইসাঁই করে ঘাড়ের পাশ দিয়ে যাবার পরিকল্পনা করে ছোটে আসা কিউই বোলারদের বল বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা কীভাবে সামলান তা ছিল ভাববার বিষয়। যদিও প্রথম দিন (তুলনামূলক!) ‘বেশ’ দাপটের সাথেই উইকেট দাপরে এসেছেন তামিম-মুমিনুলরা, তাতে কিছুটা বাঁধ সেধেছে বৃষ্টি। যদিও বৃষ্টি না আসলে বিলিয়ে দেওয়া উইকেটের সংখ্যা যে বেশি হত না, তা নিশ্চিত করে বলার অবকাশ নেই!

প্রথম দিনশেষে বাংলাদেশ হাসতে পারছে মূলত মুমিনুলের জন্য। তার চলমান আদর্শ টেস্ট ইনিংস যত লম্বা হবে, ততই মঙ্গল সফরকারীদের। ৬৪ রানে অপরাজিত থাকা মুমিনুলের সাথে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন যিনি, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক খেলোয়াড়। ৫ রানের অপরাজিত ইনিংসটিকে সাকিব আল হাসান গর্বের সংখ্যা ৭১-এ নিয়ে যেতে পারলেই হয়ে যাবেন বাংলাদেশের তৃতীয় তিন হাজার রান সংগ্রাহক।

হাবিবুল বাশারের পর দেশের হয়ে টেস্টে তিন হাজার রান সংগ্রহ করেছিলেন তামিম ইকবাল, দর্শকদের হতাশ করেননি তিনিও। তবে টেস্ট মেজাজে না খেলায় টেস্ট পিপাসুরা তার উপর অভিমান করতেই পারেন। তাও মাত্র ৪০.২ ওভার বল হওয়া প্রথম দিনে বাংলাদেশ ১৫৪ রান করতে পেরেছে তামিমের ৫০ বলে ৫৬ রানের ইনিংসের কারণেই। নাহলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠে টিভির সামনে বসা বাংলাদেশী সমর্থকরা আদৌ সারাদিন স্বস্তিতে থাকতে পারতেন কি না সন্দেহ।

তবে সমর্থকদের হতাশ করার ধারাবাহিকতা এখনও ধরে রেখেছেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। শেষ টি২০-তে প্রাপ্ত ইনজুরি কাটিয়ে ওঠে টেস্টে ফিরলেও দুঃসময় কাটিয়ে ফর্ম ফিরে পাননি। ব্যক্তিগত ১ আর দলীয় ১৬ রানের মাথায় ভুল শট খেলা ইমরুলকে হারিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের উইকেট খোয়ানো। যদিও মুমিনুলকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মাহমুদুল্লাহ সেই গতিতে ভাঁটা এনে দেন। ৬৪ বলে ২৬ রান করে অহেতুক শট খেলতে যাওয়া মাহমুদুল্লাহ আউট হলেও তার শান্ত স্বভাব কিছুটা ভীতি জাগাতে পেরেছে আত্মবিশ্বাসের অফুরন্ত জ্বালানী নিয়ে খেলতে নামা নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলারদের, যা ম্যাচের শেষদিকে কেড়ে নিয়েছে স্বাগতিকদের হাসি।

নিউজিল্যান্ডের সেই ভীতি বাড়তে থাকুক, লাল-সবুজের সমর্থকদের কামনা এখন এটাই!