Scores

বোলারদের কৃতিত্ব দিলেন মাশরাফি

বল হাতে নিজে ছিলেন দুর্দান্ত। অন্য বোলাররাও করেছেন দারুণ বোলিং। বোলারদের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৫০ ওভার টিকে থাকা উইন্ডিজ স্কোরবোর্ডে রান তুলতে ১৯৫। ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দিয়ে জয়ের সুরটা বেঁধে দিয়েছেন বোলাররাই। ম্যাচশেষে অধিনায়কও কৃতিত্ব দিলেন তাদের।

বোলারদের কৃতিত্ব দিলেন মাশরাফি

দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। নতুন বল হাতে নিয়ে পাওয়ারপ্লেতে উইন্ডিজ ওপেনারদের আটকে রাখেন সাকিব-মিরাজ। দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন সাকিব। সাকিব-মিরাজকে প্রশংসায় ভাসিয়ে মাশরাফি বলেন,   মিরাজ দুর্দান্ত বোলিং করেছে। মিরাজ খুব ভালো ফর্মেও আছে। একই সাথে সাকিবের কথা বলব। প্রথম ব্রেকথ্রুটা ও এনেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক সাহায্য করেছে। স্পিনাররা খুব ভালো বোলিং করেছে শুরু থেকেই। 

Also Read - স্পিন দিয়ে শুরু করার কারণ জানালেন মাশরাফি


উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করলেও তাদেরকে বোলাররা সুযোগ দেয়নি বলে মনে করেন মাশরাফি।  বোলারদের কৃতিত্ব দিয়ে মাশরাফি বলেন, “ওরা চেষ্টা করেনি তা না। চেষ্টা করেছিল। যখনই চেষ্টা করেছে আউট হয়নি। স্যামুয়েল-ব্রাভো শুরু করেছিল। হয়তো পল ছাড়া তেমন কেউ ক্যারি করতে পারেনি। হেটমেয়ার এসেও কিন্তু প্রত্যেকটা বলেই সুযোগ নিচ্ছিল। আমার কাছে মনে হয় ওরা ঐ সুযোগটা পায়নি। বোলারদের কৃতিত্ব আগে দিতে হয়। ঠিক জায়গায় ওরা বল করতে পেরেছে।” 

থিতু হয়েছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। দ্রুত গতিতে রান তোলার সামর্থ্য রাখেন তিনি। তাই স্যামুয়েলসকে নিয়ে ভয় ছিল বলে জানিয়েছিলেন মাশরাফি। তবে মাশরাফির শঙ্কা দূর করেন রুবেল হোসেন। মাশরাফি বলেন,  “মিরপুরের উইকেটে সেট না হওয়া পর্যন্ত টানা শট খেলা কঠিন। সেক্ষেত্রে স্যামুয়েলসকে নিয়ে ভয় ছিল। ভাগ্যবশত রুবেলের বলে ওর শটটা ঠিকমতো লাগেনি। ” 

ম্যাচ জিততে তেমন কষ্ট হয়নি বাংলাদেশের। হেসেখেলেই উইন্ডিজদের উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। এমন দুর্দান্ত জয়ের দিনেও মাশরাফির চোখ এড়ায়নি দলের ভুল-ভ্রান্তি। ব্যাটিংয়েও আরো কম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জেতা যেত বলে মনে করেন তিনি। মাশরাফি বলেন, “জিতে যাওয়ার পর এসব নিয়ে আসলো ঘাটাঘাটি কম হয়। তবে ক্যাচ ড্রপ হয়েছে আমাদের কিছু। হয়তো আমরা তিনটা উইকেটেই শেষ করতে পারতাম। যেহেতু রানের চাপ ছিল না। ব্যাটসম্যানদের জন্যেও ভালো হতো নট আউট থাকলে। খেলার অংশই এগুলো।”

তবে ব্যাটিং নিয়ে চিনিত নন মাশরাফি। এমন পিচে লো স্কোরিং ম্যাচগুলো এরকম হয়ে থাকে বলে মনে করেন তিনি। প্রশংসা করেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫ রান করা মুশফিকুর রহিমের। মিডল অর্ডারে দ্রুতগতিতে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব আল হাসান। সেই ইনিংসের ও ওপেনার লিটন দাসের ৪১ রানের ইনিংসের কথাও উল্লেখ করেন মাশরাফি।

মাশরাফি বলেন, ” উইকেটটা আসলে এরকই। এখানে লো স্কোরিং ম্যাচগুলো এরকমই হয়। কিন্তু মুশফিক খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। লিটনও টপে ভালো ব্যাটিং করেছে। সাকিবের ইনিংসটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ৯০ থকে ১৪০ রানের মধ্যে দ্রুত ৩০ রান করেছে, ওটাও অনেক সাহায্য করেছে।”

সিলেটের ম্যাচ নিয়ে এখন ভাবছেন না মাশরাফি। দ্বিতীয় ম্যাচে সবাই যেন নিজের শতভাগ দিতে পারে সেদিকেই নজর তার। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় ছিনিয়ে আনার প্রচেষ্টার দিকেই মন তার। মাশরাফি বলেন, “প্রথমটা আলহামদুলিল্লাহ জিততে পেরেছি। এখন দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও একই পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে। পরিকল্পনা আসলে আলাদা করে প্রত্যেক ম্যাচের সময় হয় না। যেটা হয় প্রপার ম্যাচ খেলা ও জিততে চেষ্টা করা। সিলেটের চিন্তা এখনি করা ঠিক হবে না আমার কাছে মনে হয়। কাল আবার প্রস্তুতি নিতে হবে যেহেতু পরশু খেলা।  সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে যেহেতু পরশু খেলা।”

প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সিরিজ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে টাইগাররা।


আরো পড়ুনঃ বড় জয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

লক্ষ্মণ-গাঙ্গুলিদের বাংলাদেশ বন্দনা

ভিডিওঃ উইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের বিজয়ের মুহূর্ত

২০ নাকি ২৩ বলে ফিফটি করেছিলেন মোসাদ্দেক?

অ্যালেনকেই ‘টার্গেট’ করেছিলেন মোসাদ্দেকরা

বাংলাদেশের জয়ে টুইটারে যত প্রতিক্রিয়া