বোলারদের নিয়ে মুশফিকের যতো অভিযোগ

0
4392

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুম টেস্টে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা চারটি টেস্টেই টাইগাররা হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। তবে এবার ইনিংস ব্যবধানে না হারলেও পরাজয়টা ছিল অনেক বড়। সাথে যোগ হয়েছে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ এর নিচে অলআউট হবার লজ্জা। আর এই পরাজয়ে অনেক বিষয় উঠে আসলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের চোখে যতো অভিযোগ সব টাইগার বোলারদের নিয়ে।

গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হারার জন্য পেসারদের দায়ী করেন মুশফিক। ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করলেও বোলারদের নিয়ে মুশির যেন অভিযোগের শেষ নেই। মুশফিক বলেন, “ফ্ল্যাট উইকেটে আপনি উইকেট না পান, ঠিক জায়গায় বোলিং তো করতে পারেন। সে জন্যই তো জাতীয় দলে খেলছেন; কিন্তু আপনি এমন নয়। তাহলে আমিও তো ছয়টা বলের মধ্যে দুইটা লাইনে ফেলতে পারতাম।” 

Advertisment

টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সবাইকে অবাক করেছিলেন মুশফিক। যার ফলাফল- ফ্ল্যাট উইকেটে প্রথম দিনে মাত্র একটি উইকেট ফেলতে পেরেছিল টাইগার পেসাররা। এই প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, “প্রথম ইনিংসে বোলাররা আমাকে অনেক হতাশ করেছে। এক সেশনে উইকেট না পান, রানটা আটকে রাখতে পারেন, যেটা দলকে কাজে দেয়। ৫০০-৫৫০ রানের বোঝা নিয়ে খেলা আর ৩০০-৪০০ রানের বিপক্ষে খেলা দুই রকম ব্যাপার। শুধু বোলার নয়, ব্যাটসম্যানদেরও দায় আছে। প্রথম ইনিংসে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। পুরো টেস্টে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুটিই খারাপ করেছি।”

বাংলাদেশ দুই ইনিংসে হারিয়েছে ২০ উইকেট। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছে মাত্র ৯ টি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা পেসাররা ছিলেন না এই ম্যাচে। এই প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, “যদি আমাদের বোলিং লাইনআপটা দেখেন, তারা ম্যাচও খেলেছে কম। কিন্তু এই অজুহাত আর কত দিন দেব? তারা যদি ভালো না-ই খেলতে পারে, ৫-১০ বছরে নামের পাশে ৫-১০ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকবে।”

পেসারদের উন্নতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিকল্প খোঁজার কথাও বলেছেন, “যদি কেউ ভালো না করে, আমাদের বিকল্প দেখতে হবে। উন্নতিটা নিজেকেই করতে হবে। আপনাকে বারবার কেউ শিখিয়ে দেবে না। গত পাঁচ বছরে ব্যাটসম্যানরা নিজেরা যে উন্নতি করেছে, সেটা বোলাররা করতে পারেনি। দুর্বল বোলিং নিয়ে সব সময়ই ব্যাটিং ইউনিটের ওপর ভরসা করতে পারেন না। নিজের উন্নতির জন্য কোচেরও দরকার নেই। বলছি না দুই দিকে বল সুইং করতে হবে। অন্তত জায়গায় তো বোলিং করতে পারেন। বোলিং ইউনিটের শেখার অনেক কিছু আছে। নিজেদের উদ্যোগটা আগে নিতে হবে। আকুতিটা থাকতে হবে।”