Scores

ব্যাটিং অর্ডারে অদলবদলে মনঃক্ষুণ্ণ পাপন, বলছেন ‘সিরিয়াস ইস্যু’

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারে এত পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি মনে করেন, সিরিজের যে দুটি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে তাতে ব্যাটিং অর্ডারে অযাচিত পরিবর্তন এনেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

পাকিস্তান সফরে দলের সাথে ছিলেন পাপন নিজেও। তবে দলের ব্যাটিং অর্ডার সাজানোর কাজটা মূলত কোচরাই করেন। পাপন তাই এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি।

Also Read - লিটন-সৌম্যর দলে ভূমিকা না জানাটা দুর্ভাগ্য : পাপন







কিন্তু টসের সিদ্ধান্তের মত ব্যাটিং অর্ডারে এত অদলবদলও ক্ষেপিয়েছে বোর্ড সভাপতিকে।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসানকে ওয়ান ডাউনে খেলানোটা মোটেও পছন্দ হয়নি পাপনের। তিনি মনে করেন, মেহেদীর বদলে ঐ জায়গায় লিটন দাস বা সৌম্য সরকারকে ব্যবহার করা উচিত ছিল। এছাড়া বিপিএলে ওপেনিংয়ে নেমে ভালো করা আফিফ হোসেন ধ্রুবর পজিশন উপরে নিয়ে যাওয়াতেও মনঃক্ষুণ্ণ বিসিবি সভাপতি।





তিনি বলেন, ‘গত দুটো সিরিজে (ভারত সফরে ও ত্রিদেশীয় সিরিজে) যখন তামিম ছিল না, তখন ওপেনিংয়ে নামিয়েছি লিটন-নাইমকে। সৌম্যও আছে, যে ওপেনে বা শীর্ষ তিনে খেলত। দ্বিতীয় ম্যাচে নাইম আউট হওয়ার পর লিটন-সৌম্যকে না নামিয়ে নামানো হল মেহেদী, যার সাতে খেলার কথা। ছয়ে খেলার কথা আফিফের। ওরা কেন তিন-চারে আসলো এই প্রশ্নটা করেছিলাম (দলের দুই সিনিয়র খেলোয়াড় রিয়াদ-তামিমকে)।’

বিপিএলে টপ অর্ডারে দেশি ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত ভালো করেছেন। জাতীয় দলে হয়ত এ কারণেই তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্তত টিম ম্যানেজমেন্ট এমন দাবি করতেই পারে। তবে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য হলেও লিটন-সৌম্যকে এত পরে নামানো পছন্দ হয়নি পাপনের।

তার ভাষ্য, ‘পরীক্ষানিরীক্ষা কি না জানি না। তবে আমার কাছে মনে হয়নি এটা যৌক্তিক। সিকুয়েন্স অনুযায়ী অবশ্যই তিনে লিটন নামার কথা। লিটন, তামিম, নাইমের মধ্যে একজন তিনে খেলবে আর দুইজন ওপেন করবে- এটা দ্বিধাহীন বিষয়।’

অধিনায়ক ও সিনিয়র ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উপর এই সিরিজে দায়িত্ব ছিল বেশি। সাকিব আল হাসান নেই নিষেধাজ্ঞার কারণে, মুশফিকুর রহিম সফরেই যাননি। তবে রিয়াদ ভালো করার সুযোগও পাননি তেমন, কারণ ব্যাট করতে নামতেনই ইনিংসের শেষদিকে।

পাপন এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চারে যেহেতু মুশফিক নেই, রিয়াদ আসতে পারে। রিয়াদের খুব শখ উপরে খেলার। এই সিরিজে দেখলাম রিয়াদ পারলে একেবারে শেষে নামে। আমি এই জিনিসগুলোই তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম- ঘটনাটা কী।’ 

ব্যাটিং অর্ডারে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে গিয়ে পাকিস্তানে যাচ্ছেতাই ছিল দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স। পাপন মনে করেন, ব্যাটিং অর্ডারে এমন পরিবর্তন আর টি-টোয়েন্টিতে খেলোয়াড়দের মানসিকতার বিষয়ে কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে আলোচনা করা উচিত। তাদের সাথে আলোচনায় বসার ঘোষণাও দিলেন সংবাদ সম্মেলনে।

‘সব আপনাদের বলা যাবে না। তবে কোচের সাথেও বসতে হবে। সব বোঝা দরকার। একটা জিনিস স্পষ্ট- ১৩০-১৪০ করে কারও সাথেই জেতা সম্ভব না। উইকেট যতই হাতে থাকুক, আউট হই বা না হই, রান কত করলাম এটাই ব্যাপার। এটা খুব সিরিয়াস ইস্যু। সবার সাথে বসতে হবে।’– বলেন তিনি।

Related Articles

মাশরাফির অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই : পাপন

মাশরাফি কেন অবসর নেননি, প্রশ্ন পাপনের

সাকিবকে তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক করার পরিকল্পনা নেই বিসিবির

‘এই অবস্থায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা সম্ভব নয়’

শ্রীলঙ্কার এলপিএল আয়োজনের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান পাপন